সর্বোচ্চ ঝুঁকির ৩০ দেশের তালিকায় নেই বাংলাদেশ

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:৫৭

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস সংক্রমণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ৩০টি দেশের মধ্যে রয়েছে ভারত ও মিয়ানমার। তবে এ তালিকায় নেই বাংলাদেশ। ঝুঁকিপূর্ণের তালিকায় ভারতের অবস্থান ১৭তম ও মিয়ানমারের অবস্থান ২০তম। মালয়েশিয়া রয়েছে তালিকার ৮ম স্থানে। সম্প্রতি জার্মানির হামবোল্ট ইউনিভার্সিটি এবং রবার্ট কোক ইনস্টিটিউট যৌথভাবে এই গবেষণা করেছে। শনিবার রবার্ট কোক ইনস্টিটিউটের ওয়েবসাইটে গবেষণার ফল প্রকাশ করা হয়েছে বলে এনডিটিভির এক খবরে বলা হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা চীনের পরের দেশগুলো হলো—থাইল্যান্ড, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, হংকং, তাইওয়ান, যুক্তরাষ্ট্র, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, কম্বোডিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ম্যাকাও, ফিলিপাইন, রাশিয়া, কানাডা, ভারত, জার্মানি, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিয়ানমার, ব্রিটেন, ইতালি, ফ্রান্স, কাতার, নিউজিল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, তুরস্ক, লাওস, স্পেন ও ইথিওপিয়া।

থাইল্যান্ডে এ পর্যন্ত নতুন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৩২ জন। জাপানে আক্রান্ত হয়েছেন ৯০ জন; এদের মধ্যে ৬৪ জনই একটি প্রমোদতরীর। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ২৫ জন। তালিকায় চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে রয়েছে চীনের স্বায়ত্তশাসিত এলাকা হংকং ও তাইওয়ান। হংকংয়ে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে, আক্রান্ত আরো ২৬ জন। তাইওয়ানে ভাইরাস আক্রান্ত ১৭ জন। যুক্তরাষ্ট্রে এ পর্যন্ত ১২ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস পাওয়া গেছে। ভিয়েতনামে রয়েছে ১৩ জন, মালয়েশিয়ায় ১৬ জন, সিঙ্গাপুরে ৪০ ও কম্বোডিয়ায় একজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ায় এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১৫ জন, ম্যাকাওতে ১০ জন। ফিলিপাইনে ভাইরাস আক্রান্ত তিন জন, মারা গেছেন একজন। এছাড়া রাশিয়ায় দুজন, কানাডায় সাত জন, ভারতে তিন জন, জার্মানিতে ১৩ জন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে সাত জন ভাইরাস আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন।

এই গবেষণায় চীনের সঙ্গে আকাশপথ ছাড়াও প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ যোগাযোগের বিষয়টি বিবেচনা নেওয়া হয়েছে। বিশ্বের মোট ৪ হাজার বিমানবন্দরের সঙ্গে চীনের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। যা এই জরিপের প্রধান মাপকাঠি ছিল। সেই মাপকাঠির সূচকের নিরিখে ভারতের সংক্রমণ শঙ্কা ০.২১৯ শতাংশ। সংক্রমণ ঠেকাতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৈধ ভিসা থাকলেও চীন থেকে ভারতে আসার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

করোনা ভাইরাসে প্রতিদিনই বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। শনিবার এতে মারা গেছেন আরো ৮৯ জন। এটিই এখন পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ প্রাণহানির সংখ্যা। বিশ্ব জুড়ে এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে মারা গেছেন ৮১৩ জন। এর মধ্যে চীনের মূল ভূখণ্ড ও এর বাইরে মৃত্যু হয়েছে ৮১১ জনের। এছাড়া হংকং ও ফিলিপাইনে মারা গেছেন একজন করে। শনিবার চীনে নতুন করে আরো ২ হাজার ৬৫৬ জন করোনা ভাইরাস আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন। ফলে দেশটির মূল ভূখণ্ডে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার ১৯৮ জন। প্রসঙ্গত, করোনা ভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা সার্সের প্রাদুর্ভাবকেও ছাড়িয়ে গেছে। ২০০২-০৩ সালে এই রোগে ৭৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি সদ্য চীনফেরত বাংলাদেশি যুবকের শরীরে নভেল করোনা ভাইরাসের কোনো লক্ষণ নেই বলে জানিয়েছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। রাজধানী মহাখালীর কার্যালয়ে গতকাল আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, হাসপাতালে ভর্তির সময় ঐ লোকের মধ্যে করোনা ভাইরাসের কোনো লক্ষণ ছিল না। তার জ্বর কাশি কিছুই ছিল না। এক ধরনের শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। সে কারণে তাকে আমরা পর্যবেক্ষণে নিয়ে এবং তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হচ্ছে। ফলাফল এখনো পাওয়া যায়নি। তবে তার অবস্থা এখন ভালো।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ জানান, রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ঐ ছাত্র নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তার মধ্যে করোনা ভাইরাসের লক্ষণ নেই। আজ পরীক্ষার রিপোর্ট পেলে বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

রবিবার সকাল পর্যন্ত বাংলাদেশে ২৪ হাজার ৩৮৯ জনকে স্ক্রিনিং করে তাদের মধ্যে ৫৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করে এখনো করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে আইইডিসিআর।

সংকটে পশ্চিমবঙ্গের যে এলাকা

কলকাতা থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ভগবানপুর এলাকা। ঐ এলাকার কয়েক লাখ মানুষ মাথার চুল থেকে পরচুলা বানানোর পেশায় যুক্ত। আঁচড়ানোর সময়ে চিরুনিতে যে চুল উঠে আসে, সেটাই কিনে নেয় ব্যবসায়ীরা। ভারতের নানা জায়গা থেকে ট্রেন বা বিমানে সেই চুল পৌঁছায় ভগবানপুর বা চণ্ডীপুরের গৃহস্থের ঘরে বা কারখানায়। ঐ চুল পরিষ্কার করে, আঁচড়িয়ে, ধুয়ে, রোদে শুকিয়ে, মাপ মতো কেটে তা গোছা করে তৈরি হয় রপ্তানির জন্য। আর সবটাই রপ্তানি হত চীনে। কিন্তু সেই ব্যবসা এখন সম্পূর্ণ বন্ধ।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে লিগ্যাল নোটিশ

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সারাদেশে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন এক আইনজীবী। ‘ল অ্যান্ড লাইফ ফাইন্ডেশনের পক্ষে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার হুমায়ূন কবির পল্লব গতকাল রেজিস্ট্রি ডাকযোগে স্বাস্থ্য সচিব, পররাষ্ট্র সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, বিমান ও পর্যটন সচিবসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট আটজনকে এই নোটিশ পাঠিয়েছেন।