চরফ্যাশনে গার্মেন্টস কর্মী গণধর্ষণের শিকার

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:৫৯

চরফ্যাশনের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ চর কুকরীমুকরী ইউনিয়নের নারিকেলবাগানে নিয়ে এবং পরবর্তী সময়ে নদীর কূলে ট্রলার ভিড়িয়ে ও ট্রলারে এক গার্মেন্টস কর্মীকে পালাক্রমে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ঐ গার্মেন্টস কর্মী বাদী হয়ে গতকাল রবিবার দক্ষিণ আইচা থানায় মামলা করেছেন। মামলায় দক্ষিণ আইচা ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাকিম দালালের ছেলে সোহেল রানা (২০) ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের খলিল মিয়ার ছেলে ইউসুফ হাসান সরদার (২০), ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মোকাম্মেল সিকদারের ছেলে ওয়াছেল আহমেদ সিকদার (২০), চর কচ্ছপিয়া ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইসমাইল ফকিরের ছেলে রিপন ফকির (২০) এবং একই ওয়ার্ডের আবুল কাশেম হাওলাদারের ছেলে মোর্শেদ হাওলাদারকে (৩৫) আসামি করা হয়েছে।

মামলা দায়েরের পরই পুলিশ আটক পাঁচ যুবককে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করেছে। মেয়েটিকে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে। দক্ষিণ আইচা থানার ওসি মো. হারুন অর রশিদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার বিবরণ এবং ভিক্টিমের ভাষ্য মতে, মেয়েটির বাড়ি চরফ্যাশন থানার আসলামপুর ইউনিয়নে। তিনি ঢাকার গাবতলী এলাকার একটি গার্মেন্টসে কাজ করেন। মামলায় অভিযুক্ত সোহেল রানার সঙ্গে রং নাম্বারের সূত্র ধরে পাঁচ মাস আগে তার পরিচয় হয়। মায়ের অসুস্থতার কারণে গত শনিবার তিনি চরফ্যাশনের বাড়ি আসেন এবং তার মায়ের চিকিত্সার জন্য সোহেলের কাছে ৫ হাজার টাকা ধার চান। সোহাল তাকে টাকা দেবেন বললে তিনি দক্ষিণ আইচা যান। সেখান থেকে টাকা দেওয়ার কথা বলে চর কচ্ছপিয়া বন্ধুর বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে সোহেলসহ তার বন্ধু অভিযুক্ত ওয়াছেল ও রিপন ফকির তাকে টাকা দিয়ে বেতুয়া ঘাটে নামিয়ে দেওয়ার কথা বলে ভাড়ায় চালিত একটি স্পিড বোটে তোলেন। তারা তাকে বেতুয়া না নিয়ে চর কুকরীমুকরী ইউনিয়নের নারিকেলবাগানে নিয়ে স্পিড বোটটি ছেড়ে দেন। বিকাল সাড়ে ৫টা থেকে রাত অনুমান ১০টা পর্যন্ত তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে সবাই। রাত ১০টার দিকে মোবাইল ফোনে একটি ট্রলার ডেকে নিয়ে ঐ ট্রলারে তাকে উঠিয়ে ফারুকী চরসংলগ্ন বুড়াগৌরাঙ্গ নদীতে নিয়ে আসে। এখানে এনে নদীর কিনারায় ট্রলার ভিড়িয়ে আগের তিন যুবক এবং ট্রলারের মাঝি মোর্শেদ হাওলাদার এবং তার সঙ্গে আসা ইউসুফ হাসান সরদারসহ পাঁচ যুবক তাকে  ট্রলারের মধ্যে দ্বিতীয় দফা পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

ভোর ৪টার দিকে জাটকা নিধন অভিযানে নদীতে টহলরত চর কচ্ছপিয়া কোস্ট গার্ড সদস্যদের ট্রলারটি ঐ ট্রলারকে দেখতে পেয়ে সেটির দিকে এগিয়ে গেলে কোস্ট গার্ড সদস্যদের পরনে ইউনিফর্ম দেখে প্রশাসনের লোক বুঝে তিনি চিত্কার দেন। তখন কোস্ট গার্ড সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্তদের আটক করে চর কচ্ছপিয়া কোস্ট গার্ড অফিসে নিয়ে আসেন। গতকাল রবিবার সকালে তারা ভিক্টিমসহ পাঁচ ধর্ষককে থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

দক্ষিণ আইচা থানার ওসি মো. হারুন অর রশীদ জানান, মেয়েটি বাদী হয়ে অভিযুক্ত পাঁচ জনকে আসামি করে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন।