অভিনন্দন ক্যাপ্টেন

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০১:৩৪

শত্রুপক্ষের আক্রমণে নিজ শিবির যখন ছিন্নভিন্ন, তখন সামনে দাঁড়িয়ে বুক চিতিয়ে লড়াই করেন যিনি, প্রকৃত নেতা তো তিনিই। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সেনাপতি আকবর আলী। সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে জয় করেছেন বিশ্ব। ভারতীয় বোলার-ফিল্ডারদের তোপ সামলে উলটো আক্রমণ করেছেন। সারথিদের সঙ্গী করে ছিনিয়ে আনলেন বিজয়।

আকবর যেভাবে নেতৃত্ব দিলেন, তার স্বীকৃতিও পেলেন তাত্ক্ষণিকভাবেই। ফাইনালের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারটিও জিতে নিলেন তিনি। বিশ্বমঞ্চের শিরোপার পর আকবর আলীর ম্যান অব দ্য ম্যাচ পুরস্কার জয় যেন ঠিক ‘চেরি অন দ্য কেক’। যুবাদের বিশ্বমঞ্চের শিরোপাটিও যেন তার হাতেই সবচেয়ে বেশি মানানসই।

ম্যাচের ১৫তম ওভারে ক্রিজে এসেছিলেন। তখন রবি বিষ্ণয়ের স্পিন ঘূর্ণিতে রীতিমতো ধুঁকছেন টাইগার যুবারা। এর মধ্যে বেশ ছন্দে থাকা ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমনকেও আহত হয়ে মাঠ ছাড়তে হলে তা যেন ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু ঐ যে অধিনায়কের যে গুণ, সঙ্গীদের নিয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন ক্রিজে। ‘বিনা যুদ্ধে নাহি দেব সুচাগ্র মেদিনি’ কাকে বলে, সেটাই যেন দেখালেন আকবর আলী।

এদিন দেশের হয়ে প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের মিশনে বোলিংয়ের মতো যুবা টাইগারদের ব্যাটিং ইনিংসের শুরুটাও হয়েছিল দারুণ। এরপর বিষ্ণয়ের ঝড়ে এলোমেলো বাংলাদেশের ইনিংস। নবম ওভারে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তানজিদ হাসান, ১৩তম ওভারে আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান মাহমুদুল হাসান জয়। ঐ সময়ই আহত হয়ে মাঠ ছাড়েন আরেক ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন। ১৫তম ওভারে তৌহিদ হূদয় আউট হয়ে গেলে ক্রিজে আসেন অধিনায়ক আকবর আলী। এক ওভার পরে তাকে ছেড়ে চলে যান শাহাদত হোসেনও। সবাই শিকার বিষ্ণয়ের ঘূর্ণি বলে। এর পরই আকবর আলীর সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প।

পারভেজ ইমনের বিদায়ের পর আর কোনো স্বীকৃত ব্যাটসম্যান না থাকায় ফের শঙ্কার কালো মেঘ জমে টাইগার শিবিরে। তবে ঐ যে আকবর আলী আছেন ক্রিজে। তিনি যেন এদিন চীনের গ্রেট ওয়াল।  বোলার রাকিবুল ক্রিজে নামলে তার কানে মন্ত্র পড়ে দেন ১৮ ওভারে ৩৫ রানের লক্ষ্য অর্জনে আহামরি কিছু করতে হবে না, ক্রিজে টিকে থাকলেই হবে। অধিনায়ক যখন পথ দেখান, সে পথে হাঁটতে দ্বিধাহীন হন তার সারথিরাও। রাকিবুল যেন সেটিই দেখালেন। টানা ২০ বল কোনো রান এলো না। কিন্তু ক্রিজে থাকলেই জয় নিশ্চিত—জুনিয়র টাইগার অধিনায়ক আকবরের সে সূত্রটি প্রমাণ করে দিলেন ভারতীয়  বোলাররাই। শেষ পর্যন্ত ধরা দিল সেই অধরা ট্রফি। অভিনন্দন ক্যাপ্টেন।