যুবাদের ধরে রাখতে চায় বিসিবি

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২১:১৮

স্পোর্টস রিপোর্টার

যুব বিশ্বকাপ খেলেই উঠে এসেছেন আজকের বিরাট কোহলি, জো রুট, কেন উইলিয়ামসনরা। কিন্তু বাংলাদেশ এই আসর থেকে বড়ো তারকা খুব একটা পায়নি।

এনামুল হক বিজয়, এনামুল হক জুনিয়র থেকে শুরু করে সাদমান ইসলাম বা নাজমুল হোসেন শান্ত ঠিক নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। তাই এই আকবর আলীদের নিয়েও একটা ভয় আছে। মনে শঙ্কা যে এরাও হারিয়ে যাবেন না তো?

এই শঙ্কাটা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের মনেও আছে। সেই শঙ্কার কারণেই আড়াই বছর আগে থেকে তারা এই দলটার খেলোয়াড়দের টিকিয়ে রাখতে একটা পরিকল্পনা করেছেন। সেই পরিকল্পনাই বাস্তবায়ন করতে চান তারা, ‘এটা নিয়ে আমরা আলাপ-আলোচনা করছি প্রায় আড়াই বছর ধরে। আগে কয়েকটা ছেলে খুব ভালো করল, কিন্তু ওরা তো এখনই জাতীয় দলে সুযোগ পাচ্ছে না। তখন ওরা করবেটা কী? যদি ওদের হাই পারফরম্যান্স ক্যাম্পে দেই, ওখানে দেখা যায় যারা জাতীয় দলে ছিল আগে বা যারা সুযোগের অপেক্ষায় আছে তারা যাচ্ছে, তরুণরা কিন্তু ঢুকতে পারছে না। আস্তে আস্তে এই খেলোয়াড়দের হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কা থাকে এবং অনেকে হারিয়ে গেছেও। সেজন্য আমরা ওদের নিয়ে পরিকল্পনা করেছি, আগে থেকেই করা আছে।’

বর্তমান এই যুব দলের বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে ভাসছে এখন ক্রিকেট জগত্। সারাদেশেই আনন্দ। পাপন বলছেন, এটা এক দিনের চেষ্টার ফল নয়। তারা অনেক আগে থেকেই এই দলটাকে নিয়ে কাজ করার ফল পেয়েছেন বলে বলছিলেন, ‘অনেক আগে থেকেই পরিকল্পনা শুরু করি। বিদেশের কন্ডিশনে ভালো করতে পারি না। সেজন্য অনেক ওয়ানডে খেলিয়েছি। এই দলটা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতো সেটা আমরা জানতাম। দ্বিতীয়ত, এই দলের সবচেয়ে বড়ো ব্যাপার যেটি, শুধু ফাইনাল না, ইংল্যান্ডের সঙ্গে যখন ত্রিদেশীয় খেললাম, নিউজিল্যান্ডে ৫ ম্যাচ সিরিজ; সব সময় টিম অ্যাফোর্ট ছিল। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের ওপর কিন্তু এই দলটা নির্ভর করে না। এদের অনেক ভালো স্কিল আছে। ভালো খেলোয়াড় আছে। সারাক্ষণ মনে হয় একটা টিম খেলছে, এটা প্লাস পয়েন্ট। গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে, ওরা জেতার জন্য খেলে। প্রতিটি বল অ্যাকশন দেখলে মনে হয় জেতার জন্য জানটা দিয়ে দিয়েছে। ফিল্ডিং ফিটনেস অসাধারণ। কোচরা এসব দিকে বিশেষ নজর দিয়েছেন।’

বোর্ড সভাপতি বলছিলেন, যুব দলের এই সাফল্যের পেছনে অন্যতম অবদান গেম ডেভেলপমেন্ট চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ সুজনের, ‘আজ আমি প্রথম নামটাই বলেছি খালেদ মাহমুদ সুজনের। সবচেয়ে বেশি তোপের মুখে থাকে খালেদ মাহমুদ সুজন, যার বিরুদ্ধে সোচ্চার সবাই। তার পজিটিভ কখনো শুনি না। যারা সবচেয়ে বেশি কাজ করে, শুধু ক্রিকেট নিয়েই ভাবে, অন্য কোনো চিন্তা নাই মাথায়, তাদের এমনই কপাল হয়। আজকের এই সাফল্যের পেছনে বোর্ড থেকে যদি কাউকে সবচেয়ে বেশি সম্মান দেওয়া হয়, সেজন খালেদ মাহমুদ সুজন।’