বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ
আগের দিনের সম্ভাবনাময় ইনিংসটিকে শেষ দিনে তিন অঙ্কে নিয়ে গেলেন আফিফ হোসেন। তবে দিনের সব আলো কেড়ে নিলেন এনামুল হক। এবারের বিসিএলে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ম্যাচে করলেন জোড়া সেঞ্চুরি। তার পাশাপাশি শাহরিয়ার নাফিসের ফিফটিতে আসরে প্রথম জয় পেয়েছে দক্ষিণাঞ্চল।
এদিকে সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে বিসিএলের দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে ছয় রানে জিতেছে মধ্যাঞ্চল। রোমাঞ্চের আঁচ পাওয়া যায় তৃতীয় দিনে। চতুর্থ দিনে উত্তেজনা বাড়ে আরো। তানবীর হায়দারের ব্যাটে একটা সময় জয়ের আশা জাগে উত্তরাঞ্চলের। কিন্তু চরম নাটকীয় লড়াইয়ে উলটো তাদের হারিয়ে দিয়েছে মধ্যাঞ্চল। দেড় শ ছাড়ানো ইনিংস খেলেও ম্যাচ বাঁচাতে পারেননি তানবীর হায়দার।
কক্সবাজারে সোমবার বিসিএলের দ্বিতীয় রাউন্ডে ১০ উইকেটে জিতেছে দক্ষিণাঞ্চল। পূর্বাঞ্চলের দেওয়া ১৮৫ রানের লক্ষ্য দক্ষিণাঞ্চল পেরিয়ে যায় এনামুল ও শাহরিয়ারের অবিচ্ছিন্ন ১৮৭ রানের উদ্বোধনী জুটিতে।
দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেটে ৩২৩ রান নিয়ে শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের একাডেমি মাঠে চতুর্থ ও শেষ দিন শুরু করে পূর্বাঞ্চল। বাকি ৫ উইকেটে তারা যোগ করতে পারে মাত্র ৩৭ রান। ৯৩ রান নিয়ে ব্যাটিং শুরু করেছিলেন আফিফ। নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ার আগে ১৭৫ বলে ১৪ চার ও একটি ছক্কায় করেন ১১৫ রান। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি তার পঞ্চম সেঞ্চুরি।
প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়া মেহেদি হাসান দ্বিতীয় ইনিংসে নেন ৪টি। বাঁহাতি স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক নেন ৩ উইকেট।
ছোটো লক্ষ্য তাড়ায় এনামুলের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে দক্ষিণাঞ্চল জিতে যায় চা-বিরতির আগেই। ১১১ বলে ১২ চার ও ৪ ছক্কায় ১০৯ রানে অপরাজিত ছিলেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি তার ২২তম সেঞ্চুরি। প্রথম ইনিংসে তিনি করেছিলেন ১২৯। বাঁহাতি শাহরিয়ার ১২০ বলে ৭ চার ও ২ ছক্কায় করেন ৬৮।
নিজের একমাত্র ইনিংসে সেঞ্চুরি ও ম্যাচে ৯ উইকেটের জন্য ম্যাচ সেরা হন অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার মেহেদী।
দিনের অন্য ম্যাচে ৩০৭ বলে ২০ চার ও এক ছক্কায় ১৭৭ রানের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলেন তানবীর। কিন্তু ৩৩০ রানের লক্ষ্যে এগোতে থাকা উত্তরাঞ্চলকে দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৩২৩ রানে গুটিয়ে দেয় মধ্যাঞ্চল।
জয় থেকে ১৭৪ রান দূরে দাঁড়িয়ে শেষ দিনের খেলা শুরু করে উত্তরাঞ্চল। ৫ উইকেট হাতে থাকা দলটির শুরুটাও ছিল ইতিবাচক। হাফ সেঞ্চুরি করা তানবীর ও উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান মাহিদুল ইসলাম দলকে দেখাচ্ছিলেন আশার আলো।
মাহিদুলকে ফিরিয়ে মধ্যাঞ্চল শিবিরে স্বস্তি আনেন বাঁহাতি স্পিনার আরাফাত সানি। অধিনায়ক শুভাগত হোমের বোলিংয়ের সামনে বেশিক্ষণ টেকেননি নতুন ব্যাটসম্যান এনামুল জুনিয়র।
তবে সুমন খানের সঙ্গে জুটিতে জয়ের পথে এগোতে থাকেন তানবীর। তুলে নেন প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে তার সপ্তম সেঞ্চুরি। সাকিলের সঙ্গে শেষ উইকেট জুটিতে দেড়শ পূরণ করেন তানবীর। এই জুটিতে জয়ের দিকেই এগোচ্ছিল উত্তরাঞ্চল। কিন্তু মুকিদুলের বলে তানবীর বোল্ড হয়ে গেলে শেষ হয়ে যায় সব আশা। —বিডি নিউজ
