নগরজুড়ে খোঁড়াখুঁড়ি শেষ হচ্ছে না কাজ!

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২১:৩৫

জিন্দাবাজার-সুবিদবাজার-পাঠানটুলা সড়ক

হুমায়ূন রশিদ চৌধূরী, সিলেট অফিস

সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকায় উন্নয়ন কাজ চলছে। কিন্তু উন্নয়ন বিড়ম্বনায় মানুষ যেন অতিষ্ঠ। গত বছর বর্ষা মৌসুম থেকে চলছে নগর জুড়ে খোঁড়াখুঁড়ি। কিন্তু কোনো কাজেরই যেন ‘ফিনিশিং’ নেই। সব কাজ যেন ঝুলে আছে। ড্রেনের কাজ শেষ হলো তো সড়কের কাজ অসম্পূর্ণ। সড়ক হলো কিন্তু চলাচল উপযোগী হয়নি। রিকশা-গাড়ি পথচারী শুধু হোঁচট খাচ্ছে। এদিকে নগরীর প্রাণকেন্দ্র জিন্দাবাজারে এখন নতুন করে শুরু হয়েছে আবার খোঁড়াখুঁড়ি। আগের নির্মিত ড্রেনের পাশেই মাটি খোঁড়া হচ্ছে বিদ্যুতের ভূগর্ভস্থ লাইন বসানোর জন্য।

সিলেটস্থ সুজন সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধূরী ইত্তেফাককে বলেন, নগরীর চলমান উন্নয়ন কাজ ইতিবাচক। কয়েকদিন পর এর চেহারা পালটে যাবে। তবে উন্নয়ন কাজের সমন্বয় থাকা প্রয়োজন। বৃষ্টি নামার আগেই কাজগুলো সম্পন্ন না হলে অর্থ ও সময় অপচয় হবে। জনদুর্ভোগ লেগেই থাকবে। অন্যদিকে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পাঠানটুলা সড়কটির পাশে সিটি করপোরেশনের ড্রেন নির্মাণকাজ চলছে দীর্ঘদিন থেকে। কিন্তু ইদানীং ড্রেনের দুর্গন্ধযুক্ত পানি নিষ্কাশনের বিকল্প ব্যবস্থা না করেই তা প্রবাহিত করা হচ্ছে ব্যস্ত সড়কের ওপর দিয়ে। পানি আটকে আছে ভাঙা সড়কের স্থানে স্থানে। আর নর্দমার পানির ছিটায় পথচারীরা বিব্রত হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। সিএনজি অটোরিকশা চালক জাহাঙ্গীর আলম, মিজানুর রহমান জানালেন, ‘পাঠানটুলা অতিক্রম করারা সময় দুর্গন্ধে যাত্রীরা অনেক সময় বমি করেন।’ 

ব্যবসায়ী জসিমউদ্দিন বলেন, ময়লা পানির ছিটায় অনেক সময় মুসল্লিরা নামাজে যেতে পারেন না। এলাকাবাসী জানান প্রায় দুবছর থেকে চলছে ঐ এলাকার সড়ক ও ড্রেন নির্মাণকাজ। গত ডিসেম্বরে কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের মদিনা মার্কেট এলাকায় ৩০০ মিটার রাস্তা মেরামত ও ড্রেন নির্মাণের বিষয়টি সচেতন মানুষকে ভাবিয়ে তুলছে। এই সড়কের পাঠানটুলা-মদীনা মার্কেট এলাকাটি ব্যস্ততম। এই পথে কুমারগাঁও বাস টার্মিনাল, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিজিবি ক্যাম্প, হাসপাতাল, অনেক সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, আবাসিক এলাকায় যেতে হয়। একই অবস্থা সুবিদবাজার প্রেসক্লাব সড়কের।

সিলেট সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়ার্ড কমিশনার ইলিয়াসুর রহমান ইলিয়াস ইত্তেফাককে বলেন, সেখানে ৬ কোটি টাকার কাজ চলছে। বিদ্যুতের খুঁটি অপসারণের কারণে কাজ কিছু বিলম্ব হচ্ছে। তবে এর সমাধানও হয়েছে। ঠিকাদারকে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।

সিসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, আগামী বর্ষার আগে কাজ শেষ করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাতে কাজ করার মতো দক্ষ শ্রমিক ও যন্ত্রপাতির অভাব রয়েছে।