ট্রাইব্যুনাল নয়, বিশেষ আদালতে মাদক মামলার বিচার হবে

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:১২

ট্রাইব্যুনাল নয়, মাদক সংক্রান্ত মামলার বিচার হবে বিশেষ আদালতে। মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে এ জন্য ‘বিশেষ আদালত’ গঠিত হবে। সব জেলা ও মহানগরে বিশেষ আদালত গঠন করা হবে। ফলে আদালতে বছরের-পর-বছর ঝুলে থাকা মাদক মামলার সংখ্যা কমে আসবে। কোনো মামলার রায়ের পর হাইকোর্ট বা উচ্চ আদালতে দৌড়ঝাঁপ করতে হবে না। এখন মাদক সংক্রান্ত প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার মামলা ঝুলে আছে।

গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২০’-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অবৈধ মাদক ব্যবসায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ সালের ২৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদে পাস হয়। একই বছরের ১৪ নভেম্বর তা কার্যকর হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৪৪ ধারা অনুযায়ী ট্রাইব্যুনাল স্থাপনের কথা বলা হয়েছিল।

মন্ত্রিসভায় বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন আইন-২০২০-এর নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই আইনের সফল প্রয়োগে পর্যটন শিল্প বিকাশ, বেকারত্ব দূর, আয় বৃদ্ধি হবে বলে জানানো হয়। আইনের বলে পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান হবেন একজন সচিব পদের কর্মকর্তা।  এর ফলে করপোরেশনের সদস্য সংখ্যা ও জনবল বাড়বে। এতদিন করপোরেশন চলত একটি অ্যাক্টের দ্বারা যা ১৯৭২ সালে জারি করা হয়েছিল।

২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সরকার সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা প্রয়োজনীয় সংখ্যক মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করার কথা ছিল। প্রতিটি ট্রাইব্যুনালে অতিরিক্ত জেলা জজ পদমর্যাদার অফিসারদের মধ্য থেকে বিচারক নিযুক্ত করার কথা ছিল।  তবে যদি কোনো জেলায় অতিরিক্ত জেলা জজ না থাকেন ঐ জেলা দায়রা জজ তার নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে দায়িত্ব পালন করবেন। কিন্তু প্রশাসনিক কারণে বিচার ও আইন বিভাগ হতে অদ্যাবধি মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল স্থাপন বা অতিরিক্ত জেলা দায়রা জজকে তার দায়িত্বের অতিরিক্ত ট্রাইব্যুনালের দায়িত্ব প্রদান করা হয়নি। ফলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ কার্যকরী হওয়ার পর এ আইনে দায়েরকৃত মামলাসমূহ বিচারের মাধ্যমে নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি হয় এবং অনিষ্পন্ন মামলার সংখ্যা ক্রমেই বাড়তে থাকে। এমতাবস্থায় এ আইনের আওতায় দ্রুত বিচারকার্য শুরু করার লক্ষ্যে ৪৪ ধারার ট্রাইব্যুনালের পরিবর্তে একটি বিশেষ আদালত গঠনের কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব (সংস্কার ও সমন্বয়) শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন করা হলে এই আইনের অধীন মাদকদ্রব্য অপরাধগুলো অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী এক্তিয়ার সম্পন্ন আদালতে বিচার হবে। সংশ্লিষ্ট দায়রা জজ, মহানগর দায়রা জজ তাদের এক্তিয়ার সম্পন্ন এলাকার জন্য কেবল মাদকদ্রব্য অপরাধের বিচারের জন্য এক বা একাধিক আদালত নির্দিষ্ট করতে পারবেন। ফলে মাদক অপরাধের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হবে।