ভালোবাসা দিবসে নতুন পোশাক সব সময়ই ভালোলাগার অনুভূতি দেয়। ভালোবাসার দিন বলে কথা। যদিও একদিনের ভালোবাসায় হয়তো কেউই বিশ্বাসী নয়। তারপরও একটি বিশেষ দিনে ভালোবাসার আলাদা একটা গুরুত্ব তো অবশ্যই থাকে। কেননা একটি দিন ভালোবাসার স্পেশাল দিন মানে প্রিয় মানুষটিকে চমকে দেওয়ার বিষয় তো থাকেই। আর তাই তো নিজের উপস্থাপনা কিংবা উপহার দিয়ে মুহূর্তেই প্রিয় মানুষকে সারপ্রাইজ দিতে পারেন। তবে সবকিছুর আগে ভালোবাসা দিবসে নিজেকে পোশাক-আশাক থেকে শুরু করে সবকিছুতেই একটু ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করতে পারেন। ঠিক যেমনটি বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসে পাবেন ভালোবাসা দিবস উপযোগী বিভিন্ন পোশাক। এবারও ভালোবাসা দিবসে ফ্যাশন ডিজাইনাররা যুগল পোশাকের ডিজাইন করেছেন। এতে পরিবারের সকলের উপযোগী করে পোশাকের উপস্থাপনায় আনা হয়েছে মেলবন্ধন। সালোয়ার-কামিজ, পাঞ্জাবি কিংবা শাড়ি সবকিছুতেই থাকছে ফেব্রিক, ডিজাইন বা মোটিফের যুগল উপস্থাপনা। সালোয়ার-কামিজ আর কুর্তার প্যাটার্নে এবারও থাকছে লং ও গাউন স্টাইল, কিছু কাটিংয়ে থাকছে ঘের ও বডি ফিটিংস। মূলত ভালোবাসা দিবসকে সামনে রেখে পোশাক ডিজাইনাররা যুগল আর পরিবারের সদস্যদের কথা চিন্তা করে একই রঙের পোশাক তৈরি করেছেন। দেশীয় ফ্যাশন হাউস কে ক্র্যাফটের ভালোবাসা দিবসের কালেকশনে রয়েছে নতুন নতুন ডিজাইনের শাড়ি, টপস, কুর্তি, স্কার্ট-টপস, সালোয়ার-কামিজ, শার্ট, কটি ইত্যাদি। এছাড়াও থাকছে যুগল পোশাকের বিশেষ আয়োজন। রং হিসেবে প্রাধান্য পেয়েছে ম্যাজেন্টা, লাল, বেগুনি, গোন্ডেন ইয়েলো, অরেঞ্জ ও ব্রিক রেড। পোশাকগুলোর ডিজাইন, কম্পোজিশন ও কালারে থাকছে তারুণ্যের অনুভূতি আর এ কালেকশনের যৌক্তিক মূল্যসীমা ক্রেতাদের দেবে স্বাচ্ছন্দ্য। পোশাকের সঙ্গে থাকছে বিভিন্ন রকমের ফ্যাশন এক্সেসরিজ। কে ক্র্যাফটের সিনিয়র ডিজাইনার শাহাজাদা খান বলেন, ‘বিশেষ দিন কিংবা উত্সবে মূলত প্রিয়জনের সঙ্গে মিলিয়ে অনেকেই একই রকম পোশাক পরে থাকে। সে কারণে রঙ বাংলাদেশের পোশাকগুলোতে একটু রঙের বাহার ব্যবহার করা হয়েছে। এসব পোশাকে একই রকমের এমব্রয়ডারি, ব্লক, স্ক্রিন প্রিন্ট, অ্যাপলিকসহ মিক্সড মিডিয়ার কাজ রয়েছে। দামের ক্ষেত্রে এমনভাবে রেঞ্জ ঠিক করা হয়েছে যেন সবাই কিনতে পারেন। এ বছর ভ্যালেন্টাইন ডের জন্য বেশকিছু নতুন ডিজাইনের পোশাক আনা হয়েছে। পোশাকের প্যাটার্ন ও রঙের ক্ষেত্রে রয়েছে ভিন্নতা।’ ভ্যালেন্টাইনস ফ্যাশনে লাল, নীলসহ উজ্জ্বল রঙকে প্রাধান্য দিয়েছে ফ্যাশন হাউসগুলো। শাড়ি, থ্রি-পিস, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, শার্ট, শীতের শাল, ইত্যাদিতে ব্যবহার করা হয়েছে সুতি কাপড়। কাজ হয়েছে ব্লক, স্প্রে, বাটিক, স্ক্রিন প্রিন্ট, টাই-ডাই, এমব্রয়ডারি, অ্যাপলিকের। সব পোশাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ভালোবাসার সমার্থক অনেক ধরনের মোটিফ। উচ্ছলতা-উজ্জ্বলতায় ভরা এই দিনে নতুন নতুন পোশাকের কালেকশন সাজিয়েছে আমাদের দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলো। কে ক্র্যাফট, নিপুণ, বেয়ন্ড সাদাকালো, অঞ্জন’স, বিশ্বরঙ, বাংলারমেলা, রঙ বাংলাদেশ, নিপুণ, বিবিআনা, নিত্যউপহারসহ বেশকিছু হাউসের আউটলেটে আপনি পাবেন ভালোবাসা দিবসের চমত্কার সব পোশাক। এছাড়াও আজিজ সুপার মার্কেটে বেশকিছু দোকানেও পাবেন এই স্পেশাল দিনের নানা রঙের পোশাক। সুতি কাপড়ে স্ক্রিনপ্রিন্ট, ব্লক, সিকোয়েন্সের মিশেলে ফ্লোরাল ও ঐতিহ্যবাহী আল্পনার মোটিফে তৈরি হয়েছে পোশাকগুলো। প্রতিটি পোশাকে উজ্জ্বল রং প্রাধান্য পেয়েছে। মেয়েদের জন্য রয়েছে শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, ফতুয়া ও পাঞ্জাবি। ছেলেদের জন্য থাকছে পাঞ্জাবি। এসব পোশাকের বেশিরভাগই সুতি। শাড়ি, থ্রিপিস, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, শার্ট, শীতের শাল ইত্যাদিতে ব্যবহার করা হয়েছে সুতি কাপড়। ফ্যাশন হাউসগুলোতে পোশাকের পাশাপাশি পাবেন নানা ধরনের গিফট বক্স। ভালোবাসার রং লাল। তাই বলে সবকিছু লাল পরলে ভালো লাগবে না। শাড়ি, ব্যাগ কিংবা জুতাসহ অন্যান্য দু-একটি অনুষঙ্গ রাখতে পারেন লাল রঙের। শাড়ি পরার ধরনে বাঙালিয়ানা আনতে পারলে ভালো হয়। চাইলে তাজা ফুল জড়াতে পারেন চুলে বা হাতে। জিন্স, ফতুয়া, টপস, সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে কপারের বড় বালা সুন্দর লাগবে। আবার পোশাকটা লাল হলে অনুষঙ্গ একদম বাদও দিতে পারেন। সময়কে ধরে রাখতে আপনার পোশাকের স্টাইল হওয়া চাই সময়োপযোগী। তাই ভালোবাসার দিনে পোশাক ও অনুষঙ্গে ব্যক্তিত্ব ফুটিয়ে তুলতে হবে নান্দনিকভাবেই।
মডেল জান্নাতুল পিয়া
মেকআপ ল্যাভিশ বুটিক সেলুন
ছবি তাহের মানিক
