বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের আপসহীন কণ্ঠস্বর

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:০০

প্রতিদিন সকালে ঘুম ভাঙার পরে এক কাপ চা হাতে নিয়ে প্রথমেই দৃষ্টি নিবদ্ধ হয় টেবিলে রাখা সংবাদপত্রের উপর। চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে কিছু সময়ের মধ্যেই বাড়িতে বসে জানা হয়ে যায় সারা বাংলার আনাচে-কানাচে ঘটে যাওয়া নিত্যদিনের খবরা-খবর। বাঙালির জাতীয় জীবনের বিকাশে সংবাদপত্র হচ্ছে প্রাণশক্তির উত্স ধারা। এই বিকাশ ধারাকে বেগবান করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে দেশের প্রথমসারির পত্রিকা ‘দৈনিক ইত্তেফাক’।

বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের আপসহীন বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হিসাবে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করে আসছে জাতীয় দৈনিক ‘ইত্তেফাক’। সংবাদপত্র জগতের অনন্য সাধারণ এই পত্রিকাটির ৬৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জানাচ্ছি আন্তরিক অভিনন্দন ও প্রাণঢালা শুভেচ্ছা। এটি বাংলাদেশের প্রাচীন পত্রিকা। ১৯৫৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার যোগ্য সম্পাদনায় প্রথম প্রকাশ পায় এবং নানামুখী সংগ্রামের মধ্যদিয়ে আজকের অবস্থানে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে দৈনিক ইত্তেফাক। ৫৪’র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের পর থেকে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা আন্দোলন পর্যন্ত বাঙালির প্রতিটি সংগ্রামে কলম সৈনিক হয়ে ন্যায় ও সত্যের পক্ষে ক্ষুরধার লেখনির মাধ্যমে সংগ্রাম করেছে পত্রিকাটি। ফলে বিভিন্ন সময়ে জালিমের রোষের মুখে পড়ে স্তব্ধ হয়েছে এর কণ্ঠস্বর এবং নেমে এসেছে অত্যাচারের খড়গহস্ত। তবুও থেমে থাকেনি কলম-যুদ্ধ। বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী চেতনাকে উপজীব্য করে, মিথ্যার বেসাতিদের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে তীব্র তীক্ষ লেখনি, শাণিত তরবারিসম শিরোনাম এবং কল্যাণকর আদর্শ ভাবনাপুষ্ট সম্পাদকীয়র মাধ্যমে বাঙালির মৌলিক ও মানবিক অধিকার রক্ষায় আজও দ্বিধা ভয়হীনচিত্তে বীর সেনানীর ন্যায় কলম-যুদ্ধ চালাচ্ছে ইত্তেফাক।

ইত্তেফাক শুধু মানুষের খবরের খোরাকই মিটায়নি। বাঙালির ভাষা, ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে রক্ষা করেছে পত্রিকার প্রতি পরতে পরতে। সেই পরাধীনতার শিকলে আবদ্ধ থেকেও গণমানুষের দাবি-দাওয়া, অসহায় ও নির্যাতিতদের অকুণ্ঠ আর্তনাদ, বঞ্চিতদের অসহায়ত্ব তুলে ধরে সকলের মনে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ফলে অত্যাচারীর দুর্বল ভিত নড়ে উঠেছে। অধিকার আদায়ে সংঘবদ্ধ হয়েছে বাঙালি জাতি। ইত্তেফাক পেয়েছে গ্রহণযোগ্যতা, গণমানুষের নিরঙ্কুশ ভালোবাসা এবং বাঙালির সকল অর্জনের অবিচ্ছেদ্য সাক্ষী হয়েছে।

ইত্তেফাক যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে আত্মপ্রকাশ করেছিল তা স্বাধীনতা যুদ্ধের বিজয়ের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে। কিন্তু ইত্তেফাকের প্রয়োজনীয়তা শেষ হয়ে যায়নি বরং দায়িত্ব ও কর্তব্য বহুগুণ বেড়ে গেছে। যে বিজয় অর্জিত হয়েছে তা ধরে রাখার গুরুদায়িত্ব এখন ইত্তেফাকের। পূর্বের ন্যায় সকল অন্যায়ের জিঞ্জির ভেদ করে সামনে এগিয়ে চলার সময় এখন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিবসে বলতে চাই- পদ্ম যেমন পঙ্কে জন্মেও তার চারপাশ সুশোভিত করে তোলে তেমনি পক্ষপাতিত্ব ও হলুদ সাংবাদিকতা পরিহার করে সত্যের পথে সদা অকুতোভয় থেকে সুন্দর হোক ইত্তেফাকের আগামীর পথ চলা।

n লেখক :শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়