হাঁটি হাঁটি পা পা করে ৬৬ বছরে এসে পৌঁছলো ‘দৈনিক ইত্তেফাক’। ১৯৫৩ সালে ২৪ ডিসেম্বর ‘দৈনিক ইত্তেফাক’ প্রথম প্রকাশিত হয়। এটি মূলত রাজনৈতিক দলের পত্রিকা হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও অল্প সময়ের মধ্যে তা গণমানুষের অধিকারের পত্রিকায় রূপ নেয়।
যদি বইকে বলা হয় ‘জ্ঞানের ভাণ্ডার’ তাহলে পত্রিকা হবে সেই জ্ঞানের উত্স। পত্রিকার মাধ্যমে জ্ঞানের পরিধি বিস্তৃত ও সমৃদ্ধ হয়। সমসাময়িক দেশ-বিদেশের সকল তথ্য আমরা পত্রিকাতেই পেয়ে যাই। আর সময়কে জয় করে একটি পত্রিকা হয়ে উঠে সমাজের প্রতিচ্ছবি। শুধু সমাজ বললে ভুল হবে তা এখন সমাজ, রাষ্ট্রের ঊর্ধ্বে বিশ্বের প্রতিচ্ছবি।
তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার একটা কলাম ছিল ‘রাজনৈতিক মঞ্চ’, বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করে। বাংলার মানুষের অধিকার, শোষণ, বঞ্চনা স্থান পাওয়ায় শিক্ষিত মহলে বেশ সাড়া জাগায়। স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম হাতিয়ার হয়ে ওঠে। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট জয়ী করার মতো সাহসী ভূমিকা রাখে। ১৯৬১ সালে সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ করার জন্যে সামরিক শাসক আইয়ুব খান ‘প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স’ অ্যাক্ট আইন জারি করে অনেকদিন প্রচারণা বন্ধ রাখে এবং মানিক মিয়াকে জেলে নেওয়া হয়। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনী ইত্তেফাক অফিস পুড়িয়ে ফেললেও অল্পদিন পর আবার চালু হয়।
বর্তমানের ইত্তেফাক নানা দিকে বিস্তৃত। দেশ-বিদেশ, শিল্প-সাহিত্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য, খেলাধুলা, বিজ্ঞান, মতামত প্রভৃতি বিষয়ের খবরাখবর সুন্দর ও সাবলীলভাবে ছাপা হচ্ছে। তরুণ শিক্ষার্থীরা নতুন নতুন ধারণা পোষণ করছে; প্রযুক্তি নির্ভর তথ্য নিয়ে উদ্যোক্তা হচ্ছে। পুরনো ধ্যান-ধারণা ত্যাগ করে সমাজ পরিবর্তনের নতুন রূপ খুঁজে বেড়াচ্ছে। যানজট, সড়ক দুর্ঘটনা, বাল্যবিবাহ, গুম, হত্যা, ধর্ষণ, শিশু ও নারী শিক্ষা, বয়স্কদের সম্মান প্রদর্শন, নৈতিকতা প্রভৃতি সমাজসচেতনমূলক কর্মকাণ্ডে একদল শিক্ষিত মহল ইত্তেফাকের সহায়তা নিচ্ছে। আর আমরা পাঠক সমাজ সচেতন হচ্ছি। সর্বোপরি, দৈনিক ইত্তেফাকের ৬৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে অনেক অনেক শুভকামনা রইলো। সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ও মর্যাদার সঙ্গী হয়ে আরও শানিতভাবে পথ চলুক।
n লেখক :শিক্ষার্থী, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট
