‘নাইটিংগেল চ্যালেঞ্জ’ নিল ওরা

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৯:২০

  মহিলা অঙ্গন প্রতিবেদক

 

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত আরো উন্নত করতে এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য স্বাস্থ্য খাতের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে নার্সিং পেশা ও পেশাজীবীদের দক্ষতা-যোগ্যতা কোনো বিকল্প নেই। সেই লক্ষ্যে সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন কাজ করে যাচ্ছে। সে লক্ষ্যেই সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নার্সিং পেশাজীবীদের যোগ্যতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নেতৃত্বের গুণাবলিসম্পন্ন করে তৈরি করতে ২০২০ সালকে ফ্লোরেন্স নাইটিংগেলের ২০০তম জন্মদিন উদ্যাপন উপলক্ষ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০২০ সালকে নার্স ও মিডওয়াইফ বর্ষ হিসেবে ঘোষণা করেছে। স্বাস্থ্যসেবার আলোকবর্তিকা ফ্লোরেন্স নাইটিংগেলকে সম্মান জানাতে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ‘নার্সিং নাউ’ ‘নাইটিংগেল চ্যালেঞ্জ’ নামক বিশ্বব্যাপী একটি বিশেষ কর্মসূচি চালু করেছে। এটি আন্তর্জাতিক নার্সিং কাউন্সিলের একটি প্রকল্প।

বাংলাদেশ থেকে এই ‘নাইটিংগেল চ্যালেঞ্জ’কে গ্রহণ করে ‘নার্সিং নাউ’ কর্মসূচির উন্মোচন করেছে মোহাম্মদপুর মডেল নার্সিং ইনস্টিটিউট (এমএমএনআই)। আশা করা হচ্ছে, উন্নত বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করার লক্ষ্যে সরকারের মহাকর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে ‘নাইটিংগেল চ্যালেঞ্জ’ অন্যতম ভূমিকা রাখবে। এমএমএনআইয়ের নার্সিং নাউ উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের সম্মানিত রেজিস্ট্রার সুরাইয়া বেগম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নার্সিং উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (নিয়েনার) পরিচালক হামিমা উম্মে মোর্শেদা, কলেজ অব নার্সিং, মহাখালী, ঢাকার অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মফিজুল্লাহ, ঢাকা নার্সিং কলেজের অধ্যক্ষ হালিমা আক্তার, বাংলাদেশ স্কিল ডেভেলপমেন্ট ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার টেকনোলোজি প্রাইভেট লিমিটেডের চেয়ারপারসন অধ্যাপক মোহাম্মদ আনিসুর রহমান ফরাজি, আমেরিকান সেফটি অ্যান্ড হেলথ ইনস্টিটিউটের মাস্টার ট্রেইনার সুজন দাস এবং বিভিন্ন নার্সিং কলেজ, ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের নার্সিং কর্মকর্তাবৃন্দ। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন মোহাম্মদপুর মডেল নার্সিং ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান মো. আরিফুর রহমান।

বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার সুরাইয়া বেগম বলেন, বাংলাদেশের নার্সরা অনেক সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা তাদের পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না দিতে পারলে ভালো মানসম্পন্ন নার্স তৈরি করা সম্ভব নয়। আমাদের দক্ষ, যোগ্য ও নেতৃত্বের গুণাবলিসম্পন্ন নার্স তৈরি করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

উল্লেখ্য, মোহাম্মদপুর মডেল নার্সিং ইনস্টিটিউট বাংলাদেশে নাইটিংগেল চ্যালেঞ্জ বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু করেছে। চ্যালেঞ্জ বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল হতে আগত ৩২ জন নার্সের সমন্বয়ে গঠিত একটি টিমকে এই ইনস্টিটিউটে নানামুখী প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অব নার্সেস এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নার্সিং নাউ লোরেন্স নাইটিংগেলের ২০০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ২০২০ ইং এ বিশ্বব্যাপী নার্স এবং মিডওয়াইফ তরুণ নার্সদের উন্নয়ন, লিডারশিপ, কোয়ালিটি ইমপ্রুভমেন্ট নার্স তৈরির লক্ষ্যে বিশ্বের ১ হাজার প্রতিষ্ঠানের ২০ হাজার নার্স এবং মিডওয়াইফ নিয়ে নাইটিংগেল চ্যালেঞ্জ ২০২০ ঘোষণা করেছে।

আন্তর্জাতিক মানের সেবা দেবার জন্য প্রতিটি তরুণ নার্সদের পরবর্তী প্রজন্মের উন্নয়ন, লিডারশিপ, যোগ্য, কোয়ালিটি ইমপ্রুভমেন্ট দক্ষতা থাকা অবাঞ্ছনীয়। বাংলাদেশে বিশ্বমানের নার্স তৈরির লক্ষ্যে মোহাম্মদপুর মডেল নার্সিং ইনস্টিটিউট ২০২০ সাল জুড়ে দেশে স্বনামধন্য নার্সিং এবং অন্য প্রফেশনের ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি কার্যকরি পরিকল্পনা তৈরি করেছে। নার্সিং নাউ এর কাছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ প্ল্যান পাঠিয়েছে। প্রেরণকৃত প্ল্যানের মধ্যে এমএমএনআইর প্ল্যান রোল মডেল হিসেবে দ্বিতীয় স্থানে স্থান পেয়েছে।