শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে তপশিলি ব্যাংককে বিশেষ তহবিল গঠনের সুযোগ দেওয়ার খবরে গতকাল মঙ্গলবার পুঁজিবাজারে বড়ো ধরনের উত্থান হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেনে অংশ নেওয়া প্রায় সব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। এতে এক দিনেই সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার ওপরে বাজার মূলধন ফিরে পেয়েছে ডিএসই। আর প্রধান মূল্যসূচক বেড়েছে প্রায় ২ শতাংশ।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৫ থেকে ১৪ জানুয়ারি শেয়ারবাজারে বড়ো দরপতন ঘটে। এ সময় লেনদেন হওয়া আট কার্যদিবসের মধ্যে সাত কার্যদিবসেই বড়ো পতন হয়। এতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান মূল্যসূচক ৪২৩ পয়েন্ট কমে যায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন বিএসইসির শীর্ষ কর্তারা।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ফিরে বিএসইসি ঘোষণা দেয়, প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে শেয়ারবাজার উন্নয়নে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এরপর ১৯ জানুয়ারি শেয়াবাজারে বড়ো উত্থান হয়। এতে এক দিনেই ডিএসইতে ১৫ হাজার কোটি টাকার ওপরে বাজার মূলধন বাড়ে। আর প্রধান মূল্যসূচক বাড়ে সাড়ে ৫ শতাংশের ওপরে। তবে চলতি মাসের শুরু থেকে আবার পতন শুরু হয়।
গত সোমবার পর্যন্ত টানা পাঁচ কার্যদিবস পতন হলে সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বিশেষ তহবিল গঠনের সুযোগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। বাংলাদেশ নির্দেশনা অনুযায়ী, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য প্রত্যেক ব্যাংক ২০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করতে পারবে।
গতকাল লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়ায় ৩ লাখ ৪১ হাজার ৩৪৯ কোটি টাকা। যা আগের দিন ছিল ৩ লাখ ৩৫ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা। অর্থাত্ এক দিনেই ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে ৫ হাজার ৬০৪ কোটি টাকা। বড়ো অঙ্কের বাজার মূলধন বাড়ার পাশাপাশি সবকটি মূল্যসূচকের বড়ো উত্থান হয়েছে। গতকাল লেনদেনের শুরুতেই সূচকের বড়ো উত্থান ঘটে।
গতকাল লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক আগের দিনের তুলনায় ৮৫ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ৪৭১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই-৩০ সূচক ২৫ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৫১৭ পয়েন্টে উঠে এসেছে। আর ডিএসইর শরিয়াহসূচক ১৩ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৩০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। লেনদেন শেষে ডিএসইতে ২৯৬টি প্রতিষ্ঠান দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৪০টির। আর ২০টির দাম অপরিবর্তিত ছিল। মূল্যসূচক ও বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের দাম বাড়ার পাশাপাশি ডিএসইতে বেড়েছে লেনদেনের গতি। দিনভর বাজারে লেনদেন হয়েছে ৫০৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। যা আগের দিন ছিল ৩৪০ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। এ হিসেবে লেনদেন বেড়েছে ৬৪ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।
অপরদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ২৫১ পয়েন্ট বেড়ে ১৩ হাজার ৬৩২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৩০ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৫২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২০২টির দাম বেড়েছে। কমেছে ৩০টির এবং ২০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
