সবার সচেতনতা জরুরি

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২১:৩১

গণমাধ্যম প্রমিত বাংলা শেখার অন্যতম ক্ষেত্র হলেও সাম্প্রতিক সময়ে ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের একাংশ যেন বাংলা ভাষা বিকৃত করার ক্ষেত্রে তত্পর! এক সময় প্রমিত বাংলা ভাষা শেখার নির্ভরযোগ্য কেন্দ্র বলে বিবেচিত হতো দেশের বিদ্যালয়গুলো। সে ঐতিহ্য এখন অতীত। আনুষ্ঠানিক যোগাযোগে প্রমিত ভাষায় কথা বলার চর্চাও হারিয়ে যাচ্ছে। ইংরেজি মিশিয়ে বাংলা বলা তরুণদের একাংশের ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইংরেজি সাইনবোর্ডের দাপট সর্বত্র! ভাষার বিকৃতি রোধে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সচেতন হওয়া জরুরি। এ ব্যাপারে ন্যূনতম উদাসীনতা কাম্য নয়। বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষায় ব্যবহারিক জীবনে বাংলাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। তার অর্থ এই নয়, ইংরেজি বা অন্য কোনো ভাষা শেখা বা জানা যাবে না। বিশ্বায়নের এই যুগে বিশেষ করে ইংরেজি জানা অপরিহার্য। তবে সতর্ক থাকতে হবে, যেন বিশ্বায়নের নামে আমাদের ওপর অন্য ভাষা ও সংস্কৃতি চেপে না বসে। বাংলা শব্দভাণ্ডারে ৪৪ শতাংশ তত্সম, ৪.৫৫ শতাংশ বিদেশি ও ৫১.৪৫ শতাংশ দেশি ও অতত্সম শব্দ রয়েছে। অর্থাত্ বাংলা ভাষার শব্দসম্ভার দেশি-বিদেশি সংস্কৃত যে ভাষা থেকেই আসুক না কেন, তা বাংলা ভাষার নিজস্ব সম্পদ। এগুলো বাংলা ভাষার সঙ্গে এমনভাবে মিশে গেছে, বাংলা থেকে এদের আলাদা করার কথা চিন্তা করা যায় না। বিদেশি শব্দ পরিহার করতে গিয়ে দুর্বোধ্য বাংলা শব্দের প্রয়োগ কাম্য নয়। বিশেষ করে দোকানপাট ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ডে বাংলার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে।

অমিত বণিক

উত্তরা, ঢাকা