এএফসি কাপ ফুটবল
স্পোর্টস রিপোর্টার
মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে এএফসি কাপ ফুটবলের প্রিলিমিনারি রাউন্ডে আবাহনীর আজ ফিরতি ম্যাচ। মালদ্বীপের মাজিয়া স্পোর্টস রিক্রিয়েশন ক্লাবের বিপক্ষে লড়াই শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকাল ৫টায়। এএফসি কাপে আবাহনী টিকবে নাকি আজই বিদায়—সেই ভাগ্য নির্ধারণ হবে আজ।
গতকাল বিকালে মালেতে অনুশীলন করেছে। কিছুটা ঠাণ্ডার মধ্যেই অনুশীলন করতে হয়েছে। কোচের লক্ষ্য ছিল একাদশ নির্ধারণ করা।
ভাগ্য নির্ধারণের কথাটা আসছে কারণ ঢাকায় হোম ম্যাচে আবাহনী ২-২ গোলে মাজিয়ার বিপক্ষে ড্র করেছে। হারতে হারতে ড্র করেছে। দুইবার গোল হজম করে পিছিয়ে দুইবার গোল শোধ করে ম্যাচে ফিরেছিল। কিন্তু জয়ের দেখা পায়নি বরং ভাগ্য ভালো ম্যাচটা হারেওনি।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে হওয়া সেই ম্যাচে ২-২ গোলে হওয়ায় আবাহনী অনেকটাই পিছিয়ে গেছে। ঘরের মাঠের যে সুবিধা তা তুলে নিতে পারেনি। পিছিয়ে যাওয়ার কারণে আবাহনী সামনে আজ সবচেয়ে সহজ সমীকরণ হচ্ছে জয় তুলে নেয়া। সেটা পারবে কি পারবে না সেই হিসাব আপাতত না-ই করলেন আবাহনীর পর্তুগিজ কোচ মারিও লেমস। যদি গোল করার চেয়ে আগেই গোল হজম করে বসে তাহলে সবকিছু ওলটপালট হয়ে যাবে। ঢাকা থেকে মালদ্বীপ যাওয়ার আগে গত শনিবার আবাহনী টেন্টে বসে দুশ্চিন্তার কথা বলছিলেন কোচ। এক গোলে জিতলে কোনো হিসাবের প্রয়োজন নেই। গোল একটা করে ফেলতে পারলে এবং সেটা ধরে রাখতে পারলে সব হিসাব জলে ভেসে যাবে। আর যদি গোল হজম করে তাহলে সব হিসাবের অঙ্ক জটিল হয়ে যাবে আবাহনীর জন্য। ১-১ ড্র হলে আবাহনীর বিদায়, ২-২ গোলে ড্র হলে আবাহনীর ভাগ্য নির্ধারণ হবে টাইব্রেকারে। আর যদি ৩-৩ গোলে ড্র হয় তাহলে অ্যাওয়ে ম্যাচে এক গোল বেশি করার কারণে আবাহনী দ্বিতীয় রাউন্ডে যাবে প্লেঅফ ম্যাচ খেলা সুযোগ পাবে। সেই প্লেঅফ ম্যাচ জিতলে আবাহনী এএফসি কাপের গ্রুপ পর্বে খেলবে, গ্রুপ পর্বে আগেই ঢুকে গেছে বসুন্ধরা কিংস।
কোচ মারিও লেমস এখনো মনে করছেন তার খেলোয়াড়রা একটু বাড়তি চেষ্টা করলে ঢাকার ম্যাচটা কঠিন শক্তি হলেও এতটা কঠিন হতো না। দুঃখের কথা কী বলব—মাঠে নামার আগেই খেলোয়াড়রা প্রতিপক্ষকে ভয় পেয়ে যায়। ‘বলতে থাকে ওরা শক্তিশালী দল, পারা কঠিন। আমরা কথা হচ্ছে ওরা পারলে আমি কেন পারব না। আমি কেন আগেই ভয় পেয়ে যাব-বললেন লেমস। আফসোস করলেন কোচ। মারিও লেমস বললেন, ‘ঢাকায় যে দুটি গোল হজম করেছি আমরা তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এম কোন কঠিন গোল ছিল না। বরং আমরা ভালো দুটি গোল করেছি।’
ডিফেন্ডার নাসির চৌধুরী, ডিফেন্ডার রায়হান এবং স্ট্রাইকার জীবনের কণ্ঠেও আফসোস। নাসিরও ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে বলে গেলেন তার আফসোসের কথা। ‘আসলেই আমাদের ওভাবে গোল হজম করা ঠিক হয়নি। আমরাও আক্রমণে গোলের সুুযোগ কাজে লাগাতে পারিনি, বললেন জীবন। রায়হান বলে গিয়েছেন, হোম ম্যাচের চেয়েও অনেক বেশি খাটতে হবে। মালদ্বীপের মাঠে খেলা। ওদের সমর্থক থাকবেই। আমরা নিজেদের উজাড় করে খেলতে প্রস্তুত।’
