আম্পায়ারিং বিতর্ক
স্পোর্টস রিপোর্টার
নো বল না হওয়ার পরও সেটাকে ‘নো বল’ ঘোষণা করেছিলেন আম্পায়ার তানভীর আহমেদ। ফলে আউট হওয়া থেকে বেঁচে যান লিটন দাস। এই সিদ্ধান্ত মানতে না পেরে তীব্র প্রতিবাদ করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল। শেষ অবধি বেশ খানিক্ষণ খেলা বন্ধ রাখার পর ম্যাচ রেফারি জেফ ক্রো নেমে এসে পরিস্থিতি ঠান্ডা করেন।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক কার্লোস ব্রাথওয়েট ম্যাচের পরই দাবি করেছেন, আগে থেকেই এই সিরিজের আম্পায়ারিং নিয়ে চিন্তিত ছিলেন তারা। এ নিয়ে আগে অভিযোগও করেছেন, ‘‘দ্বিতীয় ম্যাচের পরই আমি ম্যাচ রেফারির কাছে গিয়েছিলাম। ওয়ানডে সিরিজের সময় সৌভাগ্যবশত আমি এখানে ছিলাম। বলতেই হবে, ৫০-৫০ সিদ্ধান্তগুলো একটিও আমাদের পক্ষে আসছিল না। এ রকম প্রতিটি সিদ্ধান্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে গেছে। আমি তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ আনিনি কিন্তু নিজের বক্তব্য আমি ম্যাচ রেফারির কাছে স্পষ্ট করেছি যে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজে প্রতিটি ৫০-৫০ সিদ্ধান্ত আমাদের বিপক্ষে গেছে। আমরা অবশ্যই ভালো ক্রিকেট খেলতে পারিনি, লাল বল হোক বা সাদা। তবে আমি দেখেছি যে যতবার আমি ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে খেলেছি, এই সিদ্ধান্তগুলো আমাদের বাধাগ্রস্ত করেছে।’
শুধু এই নয়, ব্রাথওয়েট বলছেন, ওই নো বলের আগেও আম্পায়াররা এমন কিছু সিদ্ধান্ত এই ম্যাচেই দিয়েছেন, ‘চতুর্থ ওভারে ওই বলের আগেও একবার এই ঘটনা ঘটেছে। তো সেটি তুলে ধরা জরুরি ছিল। দলটা তরুণ। আমি ওদেরকে এই লড়াইয়ে ঠেলে দিতে পারি না। যদি কিছু ফিরে আসে, সেটি আমার ওপরই আসা উচিত। আমিই জাহাজের নাবিক। আমি স্রেফ ছেলেদেরকে বলেছি শান্ত থাকতে, দল হিসেবে একসঙ্গে থাকতে, ফোর্থ আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারিকে আমি দেখছি। অবশ্যই আমি একটু আগ্রাসী ও আবেগী ছিলাম। সেটি হতেই পারে। আমরা দেশের জন্য লড়ছিলাম। তবে চেষ্টা করেছি সবার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে। স্রেফ আইনটি জিজ্ঞেস করছিলাম।’ এই আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ব্রাথওয়েট যা করেছেন, সেটাকে নিজের দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন এই ক্যারিবিয় অধিনায়ক, ‘অধিনায়ক হিসেবে আমার দায়িত্ব ছিল দলের পাশে দাঁড়ানো। শুধু নিজের জন্য নয়, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের জন্যই আমাকে একটি শক্ত অবস্থান নিতেই হতো। ... আজকের ম্যাচ দেখিয়েছে যে আমরা যদি আবেগ দিয়ে মাঠে সঠিক কাজগুলো করতে পারি, অনেক কিছুই পক্ষে আসে। স্রেফ আমাদের যা প্রাপ্য, ম্যাচ অফিসিয়ালদের তা আমাদেরকে দিতে হবে।’
তার প্রতিবাদ বা আচরণের কারণে যদি শাস্তি পেতে হয়, সেটি নিয়েও দুর্ভাবনা নেই ব্র্যাথওয়েটের, ‘শাস্তি তো আসবে-যাবে। কিন্তু কোনো কিছুর জন্য না দাঁড়ালে, সবকিছুই ভেঙে পড়বে। এটির কারণে শাস্তি হলে আমি হাসি মুখে মেনে নেব। সতীর্থদের পাশে দাঁড়ানো জরুরি ছিল এবং অধিনায়ক হিসেবে সেটি আমারই দায়িত্ব। আজ যেমন করেছি, ভবিষ্যতেও করব। আমি জানি না ম্যাচ রেফারি কি করবেন। তবে যেমনটি বলেছি, আমার সতীর্থ, দেশ, ওয়েস্ট ইন্ডিজের মানুষের জন্য আজকেও যেমন দাঁড়িয়েছি, ভবিষ্যতেও দাঁড়াব।’
