রংপুর চ্যাম্পিয়ন

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:১০

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল

স্পোর্টস রিপোর্টার

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ (অনূর্ধ্ব—১৭) ফুটবল দেশের ফুটবলে সম্ভাবনার দুয়ার খুলছে। আগামী দিনের তারকা ফুটবলার খুঁজে দিতে পারে এই টুর্নামেন্ট। ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রথমবার আয়োজন করা হলো অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবল টুর্নামেন্টে। কলেজ শিক্ষার্থীও খেলেছে। তারপরও সবাই ভালো দিকটুকু খুঁজে নিয়ে বলছে— নিয়মিত এই টুর্নামেন্ট হলে আগামীতে খেলোয়াড় সংকট থাকবে না। প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের ছড়াছড়ি থাকবে।

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের ফাইনালে রংপুর বিভাগ ২-১ গোলে রাজশাহী বিভাগকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। টুর্নামেন্টের প্রথম আসরে শিরোপা জয়ের কথা লিখে রাখল রংপুর। খেলা দেখে খুশি রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ। পুরস্কার তুলে দিয়েছেন। চ্যাম্পিয়ন দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং রানার্স-আপ দলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য দেন রাষ্ট্রপতি।

তৃণমূলে খেলোয়াড়দের প্রতিভা চোখে তাক লাগায়। ঢাকার বড় বড় ক্লাবের ত্রিশ লাখ চল্লিশ লাখ টাকা পারিশ্রমিক নেওয়া ফুটবলারদের খেলা যারা দেখেন তারা ১৭ বছর বয়সের খেলোয়াড়দের খেলা দেখে অভিভূত হয়েছেন। অসাধরণ প্রতিভা। গতি, পায়ের ডজ, বডিডজ, ফুটবল সেন্স এখনকার খেলোয়াড়দের চেয়ে অনেকগুণ বেশি। মন ভরিয়ে দেয়। রঙপুরের আপন চন্দ্র রায় চোখে লেগে থাকার মতো গোল করে তার দলকে এগিয়ে দিয়েছেন ৪৪ মিনিটে, ১-০। রাজশাহীর আহাদ আলী ৫৭ মিনিটে সেই শোধ করেন ১-১। ৪০ মিনিট করে ৮০ মিনিটের লড়াই পাঁচ+পাঁচ দশ মিনিটের অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়।

বাজিমাত করেন রংপুরের শামীম ইসলাম ২-১। ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় হন আপন চন্দ্র রায় এবং সর্বোচ্চ গোলদাতা হন শামীম ইসলাম। চ্যাম্পিয়ন দলের গোলকিপার জান্নাতুল নাইম পারভেজ দারুণ খেলেছেন। অনেক আত্মবিশ্বাসী গোলকিপার। কঠিন কঠিন বল গ্রীপ করে তাক লাগিয়েছেন। জাতীয় দলে তার মতো গোলকিপিং পারফরম্যান্স দেখা যায় না।

সংশ্লিষ্টদের দাবি ১৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে টুর্নামেন্ট আয়োজনে। ৫ হাজার ৫৫৪ ইউনিয়ন নিয়ে শুরু হয় বাছাই সেপ্টেম্বরে। থানা, উপজেলা, জেলা বিভাগ হয়ে ঢাকায় শেষ হলো চূড়ান্ত পর্ব। এখানে কোনো স্কুল খেলেনি। বাছাই করা ফুটবলারদের নিয়ে দল গঠন করা হয়। আট বিভাগ ঢাকায় চূড়ান্ত পর্বে লড়াই করে। কোয়ার্টার ফাইনাল সেমিফাইনাল হয়ে ফাইনালে উঠে রংপুর এবং রাজশাহী। এই দুই দলে বিকেএসপির এক-দুইজন খেলোয়াড় ছিলেন। আবাহনীর জুনিয়র দলে খেলেছেন এমন দুইজনও ছিলেন রংপুর দলে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গোল্ডকাপ অনূর্ধ্ব—১৭ ফুটবল থেকে বাছাইকৃত ১০ জন হতে চারজনকে এক বছরের জন্য ব্রাজিলে পাঠানো হবে প্রশিক্ষণের জন্য। এছাড়াও ৪০ জনের একটি দলকে লম্বা সময়ের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়।  

ফাইনালের খেলোয়াড় কোচ কর্মকর্তাদের দাবি— এই খেলাটা যদি প্রতি বছর নিয়মিত হয় তা হলে ঝাঁকে ঝাঁকে ফুটবলার উঠে আসবে। রানার্স-আপ রাজশাহী দলের কোচ জহির ইকবাল বলছিলেন, ‘এভাবে খেলা হলে ফুটবলারের অভাব হবে না। বাফুফে অনেক খেলোয়াড় পাবে।

রংপুরঃ জান্নাতুল নাইম পারভেজ, নাজমুল আকন্দ, ইসানুর রহমান (রকি মিয়া), সাদেকুল ইসলাম, মাহিম আহমেদ, মজিবুর রহমান জনি (হোসেন আলী), দিপক রায়, বিমল রায় (মিঠু), শামীম ইসলাম, আপন চন্দ্র রায়, মেরাজুল ইসলাম ইমন, সাকিব সরকার, মশিউর রহমান, হূদয় কুমার, সুজন।

রাজশাহীঃ প্রদীপ, হাসিবুল, মুনতাসির, সাহারুল হুমায়ুন, মিজান, ছোটন, শান্ত, রুবেল (মাহিন) (বাবু), আহাদ, জগেন (উজ্জল), সাব্বির, ইমরান, সজিব, নিরব।