সাগরে ট্রলার ডুবে ১৫ রোহিঙ্গা নিহত

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:২৩

কক্সবাজারের টেকনাফে বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে মানব পাচাররোধে নানা তত্পরতা চললেও সাগরপথে অবৈধভাবে বিদেশ পাড়ি দেওয়া থামানো যাচ্ছে না। গতকাল মঙ্গলবার ভোরে সেন্টমার্টিনের কাছে বঙ্গোপসাগরে রোহিঙ্গা বোঝাই একটি ট্রলার ডুবে ১৫ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে ১১ জন নারী ও চার জন শিশু। এছাড়া জীবিত অবস্থায় ৭২ জনকে উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড। তারা সবাই মালয়েশিয়ায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে সাগর পাড়ি দিচ্ছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। সন্ধ্যায় এই রিপোর্ট লেখার সময় উদ্ধার অভিযান চলছিল। মৃতদেহ এবং জীবিত উদ্ধারের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।

সূত্র জানায়, কোস্টগার্ড পূর্বজোনের সেন্টমার্টিন ক্যাম্পের একটি দল বাহারছড়া উপকূল থেকে ছেড়ে আসা দুইটি ট্রলার অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়ার কারণে সাগরে ডুবে যাওয়ার সংবাদ পেয়ে উদ্ধার অভিযানে যায়। এ সময় সাগর থেকে ভাসমান অবস্থায় মৃতদেহগুলো এবং ৭২ জন নারী-পুরুষ ও শিশুকে জীবিত উদ্ধার করে সেন্টমার্টিন জেটিতে আনা হয়।

উদ্ধারকৃতরা জানান, তাদের সঙ্গে ১৫০ জন যাত্রী ছিল। এসব রোহিঙ্গা নারী, শিশু ও পুরুষরা উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পের। কোস্টগার্ডের অপর একটি আভিযানিক দল ডুবে যাওয়া ট্রলারটি উদ্ধার এবং সাগরে জীবিত বা মৃতদেহ উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে। তাই মৃতদেহের সংখ্যা বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।

মৃতের সংখ্যা নিশ্চিত করে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড পূর্বজোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লে. কমান্ডার শুভাশিস দাস জানান, জীবিতদের সেন্টমার্টিনে প্রাথমিক চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। অভিযান অব্যাহত থাকায় এ ব্যাপারে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।  এদিকে মানব পাচার দমনে সরকার ও বিভিন্ন সংস্থা জোর প্রচারণা চালালেও টেকনাফ সদরের লম্বরী,              হাবিরছড়া, মিঠাপানির ছড়া, বাহারছড়ার নোয়াখালী পাড়া, জুম্মাপাড়া, কচ্চপিয়া, বাঘঘোনা বাজারসহ বেশ কয়েকটি পয়েন্ট দিয়ে মানব পাচার চলছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। চিহ্নিত প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনিক ব্যক্তিদের সঙ্গে সখ্যর সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পাচারকারীরা তাদের তত্পরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এমন অবস্থায় টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশের নেতৃত্বে পুলিশের কয়েকটি দল উপকূলীয় এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

উদ্ধার অভিযানে থাকা কোস্ট গার্ড সদস্যরা রাত আটটার দিকে জানিয়েছেন, ট্রলারডুবির ঘটনায় আরো দুই জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া রোহিঙ্গাদের বিদেশ পাচারে সম্পৃক্ততার অভিযোগে চার জনকে আটক করা হয়েছে। তবে আটক ও নিহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, গত সোমবার গভীর রাতে বাহারছড়া উপকূল থেকে রোহিঙ্গা যাত্রীদের নিয়ে দুইটি ট্রলার সাগর অভিমুখে যাত্রা শুরু করে। অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়ার কারণে সেন্টমার্টিন সংলগ্ন সাগরে ভোরের দিকে একটি ট্রলার দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ট্রলারে থাকা জনৈক আব্দু ৯৯৯ নম্বরে কল করে বাঁচার আকুতি জানানোর পর কোস্ট গার্ড উদ্ধার অভিযানে যায়। জীবিতদের মধ্যে ৪৬ জন নারী, ২২ জন পুরুষ ও চার জন ছেলেশিশু রয়েছে। তাদের সেন্টমার্টিনে প্রাথমিক চিকিত্সা দেওয়ার পর শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজারে নৌদুর্ঘটনা কবলিতদের

সহায়তা দেবে জাতিসংঘ

বঙ্গোপসাগরের সেন্টমার্টিন দ্বীপের উপকূলে নৌকাডুবির ঘটনায় কবলিতদের সাহায্যে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ও জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)। গতকাল রবিবার এই দুর্ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ১৫ জনের নিহতের খবর নিশ্চিত করেছে, পাশাপাশি অন্তত ৬৮ জন উদ্ধারকৃত মানুষকে প্রাথমিক চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে।