বঙ্গবন্ধু হত্যায় ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ উন্মোচনে বিশেষ তদন্ত কমিশন গঠন করুন

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:১৯

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের মাস্টারমাইন্ডদের মুখোশ জাতির সামনে উন্মোচন করতে অবিলম্বে একটি বিশেষ তদন্ত কমিশন গঠনের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী শেখ ফজলুল করিম সেলিম। তিনি বলেন, মুজিববর্ষে নতুন প্রজন্মের সামনে ইতিহাসের নৃশংসতম ও জঘন্য হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের ষড়যন্ত্রকারীদের প্রকৃত চেহারা উন্মোচন করতে হবে।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। প্রথমে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং পরে ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়া অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সাহসী নেতৃত্ব, অবদান ও অপরিসীম ত্যাগের কথা উল্লেখ করে শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, মুজিব মানেই বাংলাদেশ, মুজিব মানেই স্বাধীনতা। তার জন্ম না হলে আমরা এখনো পাকিস্তানের গোলাম হয়ে থাকতাম।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেছেন, জিয়া-মোস্তাক বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে মুক্তিযুদ্ধে পরাজয়ের প্রতিশোধ নিয়েছে। নিজেদের রক্ষা করার জন্য তারা ইনডেমনিটি আইন করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের পথ বন্ধ করে দেয়। কিছু খুনি ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীরা এখনো চক্রান্ত করে যাচ্ছে। শেখ সেলিম বঙ্গবন্ধুর খুনিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উদ্দেশ্যে বলেন, সেদিন শেখ রাসেল কি অপরাধ করেছিল, বঙ্গমাতা কি অপরাধ করেছিল, খুকি কি অপরাধ করেছিল তারা তো রাজনীতি করত না। তাদের যারা হত্যা করেছে তোমরা তাদের আশ্রয় দিয়েছ। খুনিদের কীভাবে প্রশ্রয় দিলা? আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এই সদস্য বলেন, নূর হোসেন কানাডায়, রাশেদ চৌধুরী আমেরিকায় আশ্রয় নিয়ে আছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বারবার বলার পরও তাদের ফেরত দিচ্ছে না।

শেখ সেলিম বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সময় সহযোগিতা চাওয়া হলে তত্কালীন সেনা প্রধান শফিউল্লাহ কোনো পদক্ষেপ নেননি। বঙ্গবন্ধু নিজে ফোন করে শফিউল্লাহকে আর্মি পাঠাতে বলেছিলেন। ফোন করার পর আড়াই ঘণ্টা সেনাপ্রধান শফিউল্লাহ কী করেছে? এ সময় কয়েক জন সেনাবাহিনী সদস্য মুভ করলেও ইতিহাস ভিন্ন হতো। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর খুনি মুশতাক ষড়যন্ত্রকারী জিয়াকে সেনাপ্রধান করে। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ঐ সময়ের সিনিয়র সেনা অফিসারের পাশাপাশি অনেক সিভিল সার্ভিসের লোকও জড়িত ছিল।

স্বাধীনতার পর জাসদের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, উচ্চ বিলাসীর কারণে অতি বিপ্লবীরা সিরাজ সিকদারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বঙ্গবন্ধুকে উত্খাত করার চেষ্টা করে। সে সময় কর্নেল তাহেরের নেতৃত্বে গণবাহিনী গঠন করা হয়, সরকার উত্খাতের ষড়যন্ত্র করা হয়। অর্থনীতিকে ধ্বংস করার জন্য সেদিন ব্যাংক ডাকাতি করে, পাটের গুদামে আগুন দেয়, থানা লুট করে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাড়িতে আক্রমণ করে। আমাদের সাত জন সংসদ সদস্যকে হত্যা করা হয়।