জনগণের কাছে ৪৫ শতাংশ শেয়ার বিক্রি এবং রাষ্ট্রায়ত্ত বিআরটিসি বাস বা ট্রাক দীর্ঘমেয়াদে ইজারায় পরিচালনার বিধান রেখে সংসদে পাশ হয়েছে ‘বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন আইন (বিআরটিসি) ২০২০’। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে একাদশ সংসদের ষষ্ঠ অধিবেশনে গতকাল মঙ্গলবার বিলটি সংসদে স্থিরকৃত আকারে কণ্ঠভোটে পাশ হয়। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ‘রোড ট্রান্সপোর্ট করপোরেশন অর্ডিন্যান্স ১৯৬১’ রহিত করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন আইন ২০২০ বিলটি পাশের প্রস্তাব করেন। এর আগে বিলের ওপর আনীত জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ, ফখরুল ইমাম, পীর ফজলুর রহমানের কয়েকটি সংশোধনী গ্রহণ করা হয়। তবে জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে প্রেরণ ও অপর সংশোধনীর প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।
বিলটি পাশের যৌক্তিতা তুলে ধরে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, বিআরটিসি একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। সাশ্রয়ী মূল্যে পরিবহন সেবা প্রদান করে বিআরটিসি এর মধ্যে জনগণের আস্থা অর্জন করেছে। দেশের ৪২৮টি রুট ও পাঁচটি আন্তর্জাতিক রুটে বিআরটিসি পরিচালিত হচ্ছে। নতুন আরো দুটি আন্তর্জাতিক রুট শিগগিরই চালু হবে। বিআরটিসিতে ১ হাজার ৮৩০টি বাস রয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৩৩২টি সচল রয়েছে। ভারতের লাইন অব ক্রেডিটে ১ হাজার ২৮টি নতুন বাস ও ৫০০ ট্রাক কেনা হয়েছে।
বিলে ‘বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন’ এর জন্য ১ হাজার কোটি টাকা মূলধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই মূলধন ১০০ কোটি সাধারণ শেয়ারে বিভক্ত হবে। ৫১ শতাংশ শেয়ার সরকারের মালিকানায় থাকবে। অবশিষ্ট ৪৫ শতাংশ শেয়ার জনগণের কাছে বিক্রির বিধান রাখা হয়েছে।
বিলে সরকারের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে এক বা একাধিক কোম্পানি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। দেশের যে কোনো স্থানে বা বিদেশে করপোরেশনের অফিস, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, মেরামত কারখানা বা ডিপো স্থাপন করার বিধান রাখা হয়েছে। হরতাল, পরিবহন ধর্মঘট, জরুরি অবস্থা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে, বিশ্ব ইজতেমা, মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ এবং অনুরূপ পরিস্থিতিতে বিশেষ পরিবহন সেবা প্রদানের বিধান রাখা হয়েছে। ২৩ সদস্য বিশিষ্ট ‘বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন পরিচালনা পরিষদ’ গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।
