মো.কামরুল হাসান
সহকারী শিক্ষক
ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল
জাহানাবাদ সেনানিবাস, খুলনা ।
শুদ্ধিকরণ:পর্ব-৫
গতকালের পর
নিয়ম- ৭ : আনো প্রত্যয়ান্তে পদান্তে ও-কার হয় । যেমন :করানো, শোয়ানো, দেখানো, লেখানো, পড়ানো, খাওয়ানো, পাঠানো ইত্যাদি ।
নিয়ম- ৮ : শব্দান্তে -ইত, -ইম, -ইমা, -ইল, -ইনী/-ইণী, -তা, -ত্ব, -ইত্র, -ইষ্ণু, -ইষ্ঠ প্রত্যয় থাকলে শব্দের মধ্যাংশে ই-কার হয় ।
যেমন:দুঃখী>দুঃখিত,জীবী>জীবিত, আকাঙ্ক্ষী>আকাঙি্ক্ষত, কালী>কালিমা, সত্যবাদী>সত্যবাদিনী, অপরাধী>অপরাধিনী, বিরোধী>বিরোধিতা, উপকারী>উপকারিতা, প্রতিযোগী>প্রতিযোগিতা,কৃতী>কৃতিত্ব, মন্ত্রী>মন্ত্রিত্ব, দায়ী>দায়িত্বইত্যাদি ।
নিয়ম:-৯ :সংস্কৃত ব্যাকরণের নিয়মের প্রভাবে বাংলায় মূলশব্দের সঙ্গে তত্সম প্রত্যয়, বিভক্তি বা শব্দযুক্ত হলে ঈ-কার হয় না, মূলের ই-কার বজায় থাকে । আবার এসব প্রত্যয়ান্ত শব্দে বাংলা প্রত্যয় বা বিভক্তি (রা, এরা, দের) যোগ হলে ঈ-কার হয় ।
যেমন :গুণী>গুণীরা, মন্ত্রী> মন্ত্রীদের, শিক্ষার্থী> শিক্ষার্থীদের, পরীক্ষার্থী> পরীক্ষার্থীরা ইত্যাদি ।
নিয়ম- ১০ : তত্সম স্ত্রীবাচক শব্দের শেষে ঈ-কার হয় ।
যেমন :কল্যাণী, গোপী, দাসী, নারী, পৌত্রী, রমণী, ষোড়শী, কর্ত্রী, ছাত্রী, দেবী, নেত্রী, বিদুষী, রাক্ষসী, সতী, কালী, জননী, দৌহিত্রী, পত্নী, মাতামহী, সুন্দরী, সহচরী, কিশোরী, তরুণী, ধাত্রী, পাত্রী, মানবী, লক্ষ্মী, সাধ্বী, কুমারী, দাত্রী, নর্তকী, পিতামহী, যুবতী, শ্রীমতী ইত্যাদি ।
নিয়ম- ১১ : অতত্সম স্ত্রীবাচক শব্দে ই-কার ব্যবহূত হয় ।
যেমন :গিন্নি, ঝি, দাদি, দিদি, ভাবি, পিসি, মাসি, মামি, নানি ইত্যাদি ।
উল্লিখিত নিয়মের বাহিরে আরও নিয়ম আছে ।
প্রত্যয়ঘটিত কিছু অশুদ্ধ বাক্য শুদ্ধিকরণ :
অশুদ্ধ :বিদ্বান মূখর্ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর ।
শুদ্ধ :বিদ্বান মূর্খ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ ।
অশুদ্ধ :দৈন্যতা প্রশংসনীয় নয় ।
শুদ্ধ :দৈন্য প্রশংসনীয় নয় ।
অশুদ্ধ :সত্য প্রমাণ হয়েছে ।
শুদ্ধ :সত্য প্রমাণিত হয়েছে ।
অশুদ্ধ : তোমার গণিতের পারদর্শীতা দেখে সকলেই মুগ্ধ ।
শুদ্ধ :তোমার গণিতের পারদর্শিতা দেখে সকলেই মুগ্ধ ।
অশুদ্ধ :সে এই ব্যাপারে সম্পূর্ণ নির্দোষী ।
শুদ্ধ :সে এই ব্যাপারে সম্পূর্ণ নির্দোষ ।
সূত্র :জামিল চৌধুরী (সংকলক ও সম্পাদনা), আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি, ২০১৮ শিবপ্রসন্ন লাহিড়ী (ব্যঞ্জনবর্ণ অংশ ও পরিমার্জিত সংস্করণ), ব্যবহারিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি, ২০১৮
সরকারি কাজে প্রমিত বাংলা ব্যবহারের নিয়ম, বাংলা ভাষা বাস্তবায়ন কোষ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সচিবালয়,ঢাকা, বাংলাদেশ, ২০১৭ হায়াত্ মামুদ, বাংলা লেখার নিয়মকানুন, তৃতীয় সংস্করণ, ঢাকা, ২০১৮
মুনীর চৌধুরী ও মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তকবোর্ড, বাংলাদেশ, ২০১৯।
বন্ধুরা, আরও জানতে চোখ রাখো ফেসবুকের ‘বাংলা বানানের নিয়ম কানুন’ গ্রুপে এবং ‘দৈনিক ইত্তেফাক’ পত্রিকার অনুশীলন পাতায় ।
