সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার যথাযথ বাস্তবায়ন চাই

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২১:২৯

মো. ওয়াদুদ রহমান ওয়ালিদ

ভূ-রাজনৈতিক বিবেচনায় চীন-ভারতের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান। আবার বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর। বাংলাদেশের জন্য সমুদ্র বিজয় নতুন অর্থনৈতিক উন্নয়নের দ্বার উন্মোচন করেছে। আর সব সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বাংলাদেশ সরকার কিছু দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে যথা—পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা, SDG চ্যালেঞ্জ, ভিশন ২০২১, ২০৩০, ২০৪১  এবং ডেল্ট প্লান ২১০০ অন্যতম। চলমান ১০টি মেগা প্রজেক্ট তারই অংশবিশেষ। দেশ উন্নয়নের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করে থাকে পরিকল্পনা কমিশন যেটা জাতীয়, বার্ষিক, দ্বি-বার্ষিক, পঞ্চবার্ষিক, মধ্যমেয়াদি বা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ ও তা বাস্তবায়ন করে থাকে। আর তার জন্য দরকার অর্থ। তাই ১৫টি খ্যাত থেকে এ অর্থ আদায় করে থাকে অর্থ মন্ত্রণালয়। সিংহভাগ আয় আসে কর বা ট্যাক্স থেকে।

আর স্বাধীনতা পরবর্তী ভঙ্গুর অর্থনীতি নিয়ে ১৯৭১-২০১০ সাল পর্যন্ত দারিদ্র্য বিমোচন আর অর্থনৈতিক উন্নয়নকে সবচেয়ে বড়ো চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেওয়া হয়েছিল। MDG বাস্তবায়নে আমরা সাফল্য অর্জন করেছি। এখন টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট ২০১৬-২০৩০ ও এর পাশাপাশি সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নই হবে দেশের জন্য সবচেয়ে বড়ো চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে বেকার সমস্যা সমাধান করে প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগের বাধা দূর করা, কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা, সুশাসন, আইনের শাসন, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি ছাড়াও ধনী-গরিবের আয় বৈষম্য হ্রাস করা।

দেশে বর্তমানে দরিদ্রের হার ২১.৮% আর হতদরিদ্রের হার ১১.৩%। এর মধ্যে দারিদ্র্যের শীর্ষে রংপুর বিভাগ ৪২%, আর জেলা হিসেবে কুড়িগ্রাম ৭০.৮%। আবার জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার অবাক করার মতো ৮.১৩%। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠে, অর্থনীতির সুফল সবাই পাচ্ছে কি না?

সম্প্রতি, ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) রিপোর্টের মতে সর্বশেষ সামাজিক উত্তরণ সূচকে বাংলাদেশ ৮২টি দেশের মধ্যে ৭৮তম স্থানে আছে। যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়েলথ-এক্সের-এর মতে, অতিধনীর বৃদ্ধির হারের দিক থেকে বাংলাদেশ ছিল বিশ্বে প্রথম। এখন দেখা যাচ্ছে, ধনী মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির হারের দিক থেকেও বাংলাদেশ এগিয়ে, বিশ্বে তৃতীয়।

এদিকে পরিসংখ্যান তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরে প্রথম সাত মাসে তৈরি পোশাক শিল্পে যে রপ্তানি হয়েছে সেটি তার আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৫.৭১% কমেছে (বিবিসি)। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ছাড়া অর্থনীতির প্রায় সব সূচকই নিম্নমুখী।

সরকারের উচিত রপ্তানি খাতে পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরি করার পাশাপাশি আমদানি খাতে ‘ পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি’ থেকে শিক্ষা নেওয়া।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শেয়ারবাজারকে প্রাণবন্ত করা, রাজস্ব আয় যথাযথ আদায় ও টাকা পাচার রোধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলে যথাযথ জবাবদিহিতার আওতায় আনা ছাড়াও রাষ্ট্রের সকলপ্রকার অনিয়ম দূরকরণে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা। টেকশই উন্নয়ন করতে হলে সুশাসন-গণতন্ত্রকে মূল্যায়ন করতে হবে। দেশের তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে হবে। ভিশন-মিশন, SDG লক্ষ্য অর্জনে সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করতে পারে। যে কোনো জাতীয় স্বার্থে অর্থনীতির স্বাস্থ্য ভালো করাই হোক আগামীর বাংলাদেশ।

n লেখক :শিক্ষার্থী, পপুলেশন সায়েন্স,

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়