নদীগর্ভে বিলীন হতে চলেছে দ্বীপ ঢালচর

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২১:২৯

দ্বীপ জেলা ভোলার সর্বদক্ষিণে চরফ্যাশন উপজেলার অন্তর্ভুক্ত, বঙ্গোপসাগরের মোহনায় অবস্থিত উপকূলীয় দ্বীপ ঢালচর। এখানকার একটা নিয়মিত দুর্যোগ হচ্ছে নদী ভাঙন। ফলে নিঃস্ব হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। ষাটের দশকে এ দ্বীপ ছিল ঘন বনে আবৃত। ভাঙন শুরুর আগে এই দ্বীপের আয়তন ছিল ১৮০০ একর (১৩৮ বর্গকিলোমিটার)। ভাঙন শুরু হয় ২০০৩-০৪ সাল থেকে। বর্তমানে দ্বীপটি উত্তর, পূর্ব, পশ্চিম দিক থেকে ক্রমাগত ভাঙছে। দেড় দশক ধরে ভাঙনে দ্বীপের তিন ভাগের দুই ভাগ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গিয়েছে। বর্ষা মৌসুমে ব্যাপক হারে ভাঙে। প্রতি বছর ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। ২০০৩ সালে এ দ্বীপের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ১৬ হাজার। বর্তমানে ভোটার সংখ্যা ১০ হাজার। এক সময় কৃষির আবাদ হতো এখানে। এখন মানুষের প্রধান পেশা হচ্ছে মাছ ধরা। নদী ভাঙনের ফলে আট হাজার পরিবার দ্বীপ ছেড়ে অন্যত্র চলে গিয়েছে। নিঃস্ব হয়েছে প্রায় সাত হাজার মানুষ। নদী ভাঙনের ফলে বাড়ছে বেকারত্ব, বাড়ছে দারিদ্র্য। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে দ্বীপের চারটি প্রাইমারি স্কুল, একটি হাই স্কুল, একটি দাখিল মাদ্রাসা, দুটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, ১০টি আশ্রয়ন প্রকল্প (কলোনি), মুজিব কেল­াসহ তিনটি কেল­া, বন বিভাগের পাঁচটি ভবন, ১২টি মসজিদ, সাতটি মত্স্যঘাট, পাঁচটি বাজার, কয়েকটি ইটের তৈরি রাস্তা। সম্ভাবনাময় এই দ্বীপকে যথাসময়ে সুরক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এ দ্বীপের দক্ষিণে রয়েছে বন। বনের পাশে রয়েছে প্রায় তিন হাজার একর খাস জমি (সরকারি জমি)। রয়েছে সমুদ্রসৈকত তারুয়া। এগুলোর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে এ দ্বীপের মানুষের সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। বাস্তুহারা মানুষের জন্য আবাসস্থল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে। এ বিষয়ে ভোলা জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

জাহিদুল ইসলাম

শিক্ষার্থী,

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া