চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে মেয়র পদে সরকারি দলের মনোনয়নের বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। নাগরিকরা বর্তমান মেয়রে আস্থা রাখলেও সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারীদের আশা দল নতুন কাউকে মনোনয়ন দিবে। যদিও আগামী শনিবার দলীয় প্রার্থিতা ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এ মুহূর্তে মেয়র পদে বর্তমান মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিনের নাম সবার আগে আলোচিত হচ্ছে। তবে মহিউদ্দিন অনুসারীদের কেউ কেউ তার পুত্র ও উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল মনোনয়ন পেতে পারেন বলে প্রত্যাশা করছেন। আবার ঢাকার মতো কোনো ব্যবসায়ী নেতাকে মনোনয়ন দেওয়া হয় কি না সেটাও আলোচনায় রয়েছে। যদিও গত শনিবার মহানগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় নাছির ও নওফেল দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। কর্মীদের উদ্দেশে তারা বলেন, দল যাকেই মনোনয়ন দেবে তার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থেকে দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হবে।
২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল চসিক নির্বাচনে মেয়র পদে প্রথমবারের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন বর্তমান মেয়র নাছির। চট্টগ্রামকে ক্লিন ও গ্রিন সিটিতে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি সম্বলিত ৩৬ দফা নির্বাচনী ইশতেহার দেন তিনি। এসব প্রতিশ্রুতির অনেকগুলো পূরণ না হলেও নগরীর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আগের চেয়ে অনেক গতিশীল হয়েছে। কিছু প্রান্তিক ওয়ার্ডে সীমাবদ্ধতা থাকলেও নগরীর প্রাণকেন্দ্রগুলো আগের চেয়ে অনেক পরিচ্ছন্ন। পাঁচ বছর আগে নগরীর বড়ো সমস্যা ছিল যত্রতত্র বিলবোর্ড স্থাপন। তিনি কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়ে নগরীকে বিলবোর্ডমুক্ত করেছেন। প্রতিশ্রুতি থাকলেও জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের ভার চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে দেওয়ার কারণে চসিক এ ব্যাপারে তেমন কিছু করতে পারেনি। তবে তার সময়ে রেকর্ডসংখ্যক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। এছাড়া গত দেড় বছর ধরে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদক, যৌতুক ও দুর্নীতিমুক্ত নগর গড়তে জনমত তৈরির কাজ করেছেন নাছির। অনেকে এটিকে নির্বাচনের আগে শোডাউন বলে মন্তব্য করলেও এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।
আ জ ম নাছির উদ্দিন এ ব্যাপারে ইত্তেফাককে বলেন, সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও আমি আধুনিক পরিচ্ছন্ন নগর তৈরির আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। আগামী দিনে আরো কিছু পরিকল্পনা আছে। জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী হলেও দল অন্য কাউকে মনোনয়ন দিলে তাকে জয়ী করে আনব।
এদিকে মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুর পর সরাসরি সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ পেয়ে প্রথমবারের মতো আলোচনায় আসেন তার পুত্র নওফেল। গত নির্বাচনে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি আসন থেকে মনোনয়ন পেয়ে এমপি নির্বাচিত হন। এরপর শিক্ষা উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। এসব কারণে মনোনয়নের ক্ষেত্রে নওফেলকেও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
যদিও শনিবারের বর্ধিত সভায় শিক্ষা উপমন্ত্রী ও কোতোয়ালি আসনের সাংসদ ব্যারিস্টার মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তিনি বলেন, মেয়র পদে দল যাকে মনোনয়ন দিবে, তার পক্ষেই সবাইকে কাজ করতে হবে। এই দুই নেতার বাইরে ব্যবসায়ী মহল থেকে চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম, পিএইচপি গ্রুপের চেয়ারম্যান সুফী মিজানুর রহমানসহ একাধিক ব্যবসায়ী নেতার নাম আলোচনায় আসলেও তাদের মনোনয়নের সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।
কেন্দ্রীয় কমিটির দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী শনিবার সন্ধ্যায় গণভবনে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে দলের মনোনয়ন বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে প্রার্থিতার বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা আসবে।
