জাঁ পল সার্ত্রে-সিমন দ্য বোভোয়ার

তাদের অকৃত্রিম ভালোবাসা

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৯:৪৭

একটা বিচ্ছেদের ঘটনা থেকে এর শুরু। আমি মোটেই আশা করিনি এমন কিছু যে ঘটবে, তবে ঘটনাটা ঘটার পরই বুঝলাম যে, এর জন্য আমি কোনোভাবেই প্রস্তুত ছিলাম না। এরকম ক্ষেত্রে সাধারণত যা হয়, নিরাপত্তাহীনতা আমাকে চেপে ধরল আর আমার মনের ভেতরের অন্তর্দ্বন্দ্ব আর অন্তর্ঘাতের প্রতিক্রিয়ায় আমার মধ্যে এমন একটি রূপান্তর ঘটল যে, আমি আর নিজেই নিজেকে চিনতে পারছিলাম না।   

এ ধরনের পরিস্থিতিতে আমি সাধারণত মানসিক রোগের একটি ইতিহাসের ওপর দোষ চাপিয়ে দিয়ে মদ খেতে শুরু করতাম আর সবকিছু নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া পর্যন্ত মদেই ডুবে থাকতাম। এটা প্রায় এক বছর ধরে চলল।

অবশেষে বয়স্ক এবং অভিজ্ঞ একজন বন্ধুর কাছে পরামর্শ চাইলাম। তিনি আমাকে জাঁ পল সার্ত্রের লেখা ‘বিইং অ্যান্ড নাথিংনেস’ বা ‘অস্তিত্ব এবং অনস্তিত্ব বইটি পড়তে বললেন। এটা শুনে আমি ভাবলাম, ‘কী ব্যাপার, উনি আমার সঙ্গে রসিকতা করছেন না তো?’ আমার এখন প্রায় যায় যায় অবস্থা আর এমন আচরণ করছিলাম যে, পরে জেনেছিলাম, বাড়িঘর, চাকরিবাকরি সবই প্রায় হারাবার মতো অবস্থা হয়েছিল। আর এদিকে উনি কি না আমাকে ফরাসি দর্শনের ৫০০ পৃষ্ঠার একট ভারী বই পড়তে বলছেন।

যা-ই হোক তার পরামর্শ মেনে নিয়ে ‘বিইং অ্যান্ড নাথিংনেস’ বইটা পড়লাম। বইটা পড়ে শেষ করার পর মনের মধ্যে একটা স্বস্তি অনুভব করলাম এবং তারপর সিমন দ্য বোভোয়ার আর জাঁ পল সার্ত্রের মধ্যেকার জটিল সম্পর্কটি আমার সমস্ত মনকে আচ্ছন্ন করে তুলল।

দীর্ঘ একটি বই সম্পর্কে অল্প কথায় বলা যায়, বিইং অ্যান্ড নাথিংনেস বইটিতে বলা হয়েছে যে, পৃথিবীতে দুই ধরনের জিনিস রয়েছে : এক ধরনের জিনিসে সত্তা (মানুষ আর জীবজন্তু) আর অন্য ধরনের জিনিসের মধ্যে রয়েছে অনস্তিত্ব বা অসারতা (জড়বস্তু—কলম, টেবিল এ ধরনের জিনিস)। সচেতন সত্তার মধ্যে সবসময় একটি পরিবর্তনপরম্পরা অবস্থা থাকে এবং পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এরা পরিবর্তিত হতে পারে। অন্যদিকে নিষ্প্রাণ বা জড়বস্তুর মধ্যে কোনো পরিবর্তন নেই এবং এগুলোর মধ্যে রয়েছে কেবল শূন্যতা।  

সার্ত্রের মতবাদ হচ্ছে, যখন আপনি (মানবসত্তা বা অস্তিত্ববান একজন মানুষ) উপলব্ধি করেন, যে মানুষটিকে আপনি চান বা কামনা করেন, সে আপনার চোখে চোখে তাকাচ্ছে বা সরাসরি আপনার দিকে তাকাচ্ছে, তখন অদ্ভুত কিছু ব্যাপার ঘটে। আপনি তখন সচেতন হন যে, ঐ মানুষটি আপনার দিকে তাকাচ্ছে, তবে জানেন না যে, সেই চোখদুটো কী দেখছে। যেহেতু আপনি সেই মানুষটির সঙ্গী হতে চান, তাই তখন যা দেখতে পাচ্ছেন ভাবছেন, তার কাছাকাছি একটা কিছু অনুমান করে নেন এবং সে অনুযায়ী তা-ই হতে চেষ্টা করেন। এই পদ্ধতিতে আপনি আপনার সত্তার স্বভাবধর্মকে অস্বীকার করে নিজেকে একটি অভীষ্ট ব্যক্তি বা উদ্দিষ্ট বস্তুতে পরিণত করেন।

এটি হচ্ছে এমন একটি সামাজিক কাঠামো, যা শূন্যতা অনুভব করা সত্তায় পরিপূর্ণ একটি মানবসমাজের দিকে নিয়ে যায়।

একইভাবে রোমান্টিক সম্পর্কেও আমাদের মনঃস্তাত্ত্বিক বা মানসিক প্রবণতা অনেক সময়, যাকে আমরা ভালোবাসি, সেই ব্যক্তিটিকেও একটি ইন্দ্রিয়গোচর বস্তুতে পরিণত করার দিকে প্ররোচিত করে। সেই ব্যক্তি কী চায় এটা কেবল তারই প্রকাশ নয়, যা আমরা ভাবি, সেই সঙ্গে এটা আমাদের মনের গভীর নিরাপত্তাহীনতারও একটি দ্বিমাত্রিক ছবি তুলে ধরে।

যখন এটা ঘটে, তখন আমরা আমাদের বিচারবুদ্ধি এবং ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য হারিয়ে ফেলি এবং ভালোবাসা আমাদেরকে সম্পূর্ণ করবে, এই মৌলিক ধারণার কারণে আমাদের স্বভাবধর্মও বদলে যায়। আমরা আমাদের ভাগ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলি।

সার্ত্রে এবং বোভোয়ার, উভয়েই এই ধারণার ওপর বিস্তৃতভাবে লিখেছেন, ওরা এর নাম দিয়েছেন ‘প্রতারণা করার অভিপ্রায়-ব্যাড ফেইথ’ এবং যুক্তি দেখিয়ে বলেছেন যে এ কারণেই মানুষের সম্পর্ক ব্যর্থ হয়।

১৯২৯ সালে তারা যখন প্যারিসে দর্শনের ছাত্রছাত্রী ছিলেন, তখন সিমন দ্য বোভোয়ার এবং জাঁ পল সার্ত্রের দেখা হয়। এরপর ১৯৮০ সালে তাঁর মৃত্যু অবধি ৫০ বছর দ্য বোভোয়ার এবং সার্ত্রে একটি বন্ধনমুক্ত সম্পর্কের মধ্যে বসবাস করেছিলেন, যা বাইরের লোকেরা ঠিক ব্যাখ্যা করতে পারে না।

তারা উভয়েই বিশ্বাস করতেন যে, তাদের বয়সের সবচেয়ে বড়ো চ্যালেঞ্জ হচ্ছে অদৃশ্য ঈশ্বরের সৃষ্ট নির্ভরতামুক্ত স্বাধীনতা উপলব্ধি বা বাস্তবায়িত করা। জীবনের কোনো অর্থ নেই, এটাই জীবনের সবচেয়ে আতঙ্কজনক বিষয় নয়, যা অস্তিত্ববাদ তত্ত্বের অনেক সমালোচক ভাবেন, এটা ঠিক তার বিপরীত। বরং আসল ব্যাপার হচ্ছে একজন ব্যক্তি হিসেবে আপনি যা করেন, তার পরিণতির জন্য আপনিই সম্পূর্ণ দায়ী।  

সিমন দ্য বোভোয়ার এবং জাঁ পল সার্ত্রে দুজনেই একত্রে প্রতিজ্ঞা করলেন যে, নিজেদের মধ্যে তারা এমন একটি সম্পর্ক গড়ে তুলবেন, যা অহংবোধ বা আমিত্ববোধের ফাঁদ থেকে মুক্ত হবে। কেননা, এটাকে তারা নিজ সত্তা বা স্বকীয়তা উপলব্ধির বাধা মনে করেন। তাদের এই সম্পর্কটি হবে চিরজীবনের জন্য একটি প্রচেষ্টা, যার নাম দিয়েছেন তারা ‘অকৃত্রিম ভালোবাসা’।

একটি যুগল হিসেবে যুদ্ধোত্তর মুক্তচিন্তার ইউরোপে তারা দুজন একত্রে একটি আদর্শ ছিলেন, যদিও প্রায়সময়েই তারা অন্য সঙ্গীরও শয্যাসঙ্গী হতেন। তাছাড়া তাদের দুজনের মধ্যে দৈহিক সম্পর্ক থাকলেও তারা কখনো এক ছাদের নিচে বসবাস করেননি। এরচেয়ে বরং তারা বিভিন্ন ক্যাফেতে মিলিত হতেন এবং অনেক সময় তাদের নিজেদের সাম্প্রতিক প্রণয়ের বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেন।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে প্রচুর প্রাণহানির পর, মা হওয়ার জন্য তরুণীদের ওপর প্রচণ্ড চাপ এসেছিল। তবে একজন নিরীশ্বরবাদী এবং জেন্ডার-থিওরিস্ট হিসেবে সিমন দ্য বোভোয়ার তার যুগের চেয়ে ৫০ বছর এগিয়ে ছিলেন। তিনি জীবনের গতানুগতিক এই ধারা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বরং গবেষণা ও লেখালেখিতে আত্মনিয়োগ করলেন এবং নারী-পুরুষের সম্পর্কের সনাতন ধারা ভেঙেচূরে বিশ্লেষণ করে শিল্পকলাকে জীবন হিসেবে গ্রহণ করার কাজ  শুরু করলেন। একজন নারীর কাছ থেকে ফ্রান্স যা আশা করেছিল, তার সরাসরি বিপরীত বস্তু পেল। তবে এ ব্যাপারটা তাকে তার সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নারীতে পরিণত করল।

তারা কি আসলে সুখী ছিলেন?

তাদের ডায়েরি প্রকাশের পর ১৯৬০ সাল থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল যে, নারী-পুরুষের সম্পর্কের এই নতুন ধারণাটি আসলে একটা ফাঁদ কি না। তবে মনে হয়, বিশেষত তাদের এই জটিল সম্পর্কের কারণেই সিমন দ্য বোভোয়ার আবেগজনিত রোগে ভুগেছিলেন। আমেরিকান লেখক নেলসন আলগ্রেনসহ বেশ কয়েকজন উচ্চপর্যায়ের লোকের সঙ্গে সিমন বোভোয়ারের সম্পর্ক থাকলেও, সার্ত্রেই বরং একজন কুখ্যাত প্রেমিক ছিলেন।

একটি সত্ বা আন্তরিক সম্পর্কের স্বীকৃত কাঠামোর মধ্যে যে বিশ্বাসভঙ্গের ঘটনা বা ব্যভিচার হয়, তা কি বিশ্বাসঘাতকতা নয়? তাদের উভয়েরই বিভিন্ন প্রণয়ী যখন হঠাত্ মুখোমুখি হয়ে তর্কাতর্কি শুরু করত তখন প্রায়ই একটা বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো, তবে দ্য বোভোয়ার আর সার্ত্রের মধ্যে মনে হয় তেমন কিছু হতো না।

এ বিষয়টি ছাড়াও এই দুই ফরাসি দার্শনিক যে দর্শনের অংশীদার ছিলেন, বহুপ্রণয় বিষয়টির কারণে আমি তাদের সেই দর্শনের প্রতি আগ্রহী হইনি—কেননা আমি একাধিক প্রণয়ে বিশ্বাসী নই এবং কখনো হতেও চাই না।

তাছাড়া আমি জানি না দুঃখ অথবা ঈর্ষার মুহূর্ত ছাড়া কোনো সম্পর্ক হতে পারে কি না। আর কেউ কি আসলেই তা চাইবে?’

অপরাধবোধ ছাড়াই একের পর এক প্রেমে পড়া, আবার সেখান থেকে বের হয়ে আসার স্বাধীনতা। পরিবর্তনের স্বাধীনতা এবং অন্যরাও পরিবর্তন করতে পারে, তা মেনে নেওয়া। এবং মেনে নেওয়া যে, একজন মানুষকে নিজের না করেও তার প্রতি ভালোবাসা থাকতে পারে।

ভালোবাসায় নিঃশেষিত না হয়েও পরিপূর্ণভাবে ভালোবাসার স্বাধীনতা। বরং এই জিনিসটিই আমি তাদের সম্পর্ক থেকে গ্রহণ করেছি।

প্যারিসের মন্টপারনেস সমাধিক্ষেত্রে একই সমাধিতে সিমন দ্য বোভোয়ার এবং জাঁ পল সার্ত্রেকে একত্রে সমাধিস্থ করা হয়েছে। একজন লেখক, দার্শনিক এবং আধুনিক নারীবাদের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বিপুল জনপ্রিয়তার অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও সিমন দ্য বোভোয়ার বলেছেন যে, জাঁ পল সার্ত্রের সঙ্গে সম্পর্কটি ‘নিঃসন্দেহে তার জীবনের সফল একটি সম্পর্ক’ ছিল।

 

জাঁ পল সার্ত্রে (১৯০৫-১৯৮০)

১৯৬৪ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী জাঁ পল সার্ত্রে একজন ফরাসি দার্শনিক, নাট্যকার, ঔপন্যাসিক, চিত্রনাট্যকার, সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মী, জীবনীকার এবং সাহিত্য সমালোচক ছিলেন।

নিঃসন্দেহে সার্ত্রে ছিলেন বিশ শতকের সবচেয়ে বিখ্যাত দার্শনিক। দর্শনতত্ত্বের ভাবনার প্রতি তার অবিরাম অন্বেষণ, সাহিত্যের সৃজনশীলতা এবং জীবনের অর্ধেক অংশ রাজনৈতিক অঙ্গীকারে সক্রিয় অংশগ্রহণের ফলে তিনি বিশ্বব্যাপী খ্যাতি লাভ করেন।

তাকে অস্তিত্ববাদ দর্শনের জনক বিবেচনা করা হয়, যার রচনা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধপরবর্তী দশকে বুদ্ধিজীবী জীবনের জন্য বিশেষ মাত্রা প্রদান করে।

১৯৭৫ সালে যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, কোন বিষয়ে তাকে মানুষ স্মরণ করুক, তিনি চান, তখন সার্ত্রে উত্তর দেন :

আমি চাই আমার নাটক ‘নসা’, ‘নো এগজিট’, ‘দ্য ডেভিল অ্যান্ড দ্য গুড লর্ড’ এবং আমার দুটি দার্শনিক বিষয়ক রচনা, বিশেষত দ্বিতীয়টি, ‘ক্রিটিক অব ডায়েলেকটিক্যাল রিজন’-এর জন্য যেন আমাকে স্মরণ করা হয়। তারপর সেইন্ট জেনেটের ওপর আমার রচনার জন্যও যদি আমার কথা লোকে মনে রাখে, তাহলে এটা হবে আমার জন্য একটি বিশেষ অর্জন। এর বেশি কিছু আর আমি চাই না। একজন মানুষ হিসেবে যদি একজন জাঁ পল সার্ত্রেকে স্মরণ করা হয়, তবে আমি চাইব লোকে যেন সেই ঐতিহাসিক পরিস্থিতির কথা স্মরণ করে, যার মাঝে আমি জীবন কাটিয়েছিলাম।  

সার্ত্রে সাহিত্যের বিভিন্ন দিক নিয়ে লেখালেখি করেছেন এবং সাহিত্য সমালোচনা এবং জীবনী রচনায় যথেষ্ট অবদান রেখেছেন। তার নাটকগুলো মূলত প্রতীকধর্মী এবং এগুলোর মাধ্যমে তিনি তার দর্শন মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এর মধ্যে ‘নো এগজিট’ এবং ‘নসা’ নাটকদুটি  উল্লেখযোগ্য।

সার্ত্রে এমন একজন লেখক, যার কাছে একটি দৃঢ় সংকল্পিত দার্শনিক অবস্থান ছিল তার শৈল্পিক সত্তার কেন্দ্রবিন্দু।

সাহিত্য আর এর নিজস্ব একটি কর্মকাণ্ড নয়, এমনকি চরিত্র এবং পরিস্থিতি তুলে ধরারও প্রাথমিক বর্ণনা নয়। বরং এটি মানুষের স্বাধীনতা এবং লেখকের অঙ্গীকারের সঙ্গে বিজড়িত।

 

সিমন দ্য বোভোয়ার

সিমন দ্য বোভোয়ার ছিলেন (৯ জানুয়ারি ১৯০৮—১৪ এপ্রিল ১৯৮৬) একজন ফরাসি কথাসাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, অস্তিত্ববাদ দার্শনিক, সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মী, নারীবাদী এবং সমাজতাত্ত্বিক। তিনি নিজেকে একজন দার্শনিক বিবেচনা না করলেও, নারীবাদী অস্তিত্ববাদ এবং নারীবাদী তত্ত্বের ওপর তার প্রভূত প্রভাব ছিল।

উপন্যাস ছাড়াও সিমন দ্য বোভোয়ার বিবিধ বিষয়ে রচনা, আত্মজীবনী, দর্শন, রাজনীতি এবং সামাজিক বিষয়ে একক গ্রন্থ রচনা করেছেন। ১৯৪৯ সালে রচিত ‘দ্য সেকেন্ড সেক্স’ নামে গবেষণামূলক আলোচনাগ্রন্থটির জন্য তিনি বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন। এতে নারীর ওপর অত্যাচারের বিশদ বিশ্লেষণ এবং সমসাময়িক নারীবাদের মূল ভিত্তি তুলে ধরা হয়েছিল। এছাড়া ‘শি কেইম টু স্টে এবং ‘দ্য মান্দারিন’ উপন্যাসের জন্যও তিনি সুপরিচিত হয়েছিলেন।

১৯৫৪ সালে তিনি তার ‘দ্য মান্দারিন’ উপন্যাসের জন্য ফ্রান্সের সবচেয়ে সম্মানজনক সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।

 কিছু কিছু চিন্তাবিদ আছেন, যারা শুরু থেকেই দ্ব্যর্থহীনভাবে দার্শনিক হিসেবে চিহ্নিত (যেমন—প্ল্যাটো), আবার অনেকের দার্শনিক অবস্থানটি নিয়ে চিরকাল তর্ক করা হয়েছে (যেমন—নিটেস) এবং অনেকে দার্শনিক বলয়ে নিজেদের স্থান করে নিতে ক্রমশ অধিকার অর্জন করেছেন। সিমন দ্য বোভোয়ার সেই অত্যন্ত দেরিতে আসা স্বীকৃত দার্শনিকদের একজন।

বিভিন্ন কারণে বিতর্কিত হলেও নারীর অধিকার রক্ষার সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং একজন বিখ্যাত লেখক হিসেবে ‘দ্য মান্দারিন’ উপন্যাসের জন্য ফ্রান্সের সবচেয়ে সম্মানজনক ‘প্রিক্স গনকোর্ট’ সাহিত্য পুরস্কার বিজয়ী সিমন দ্য বোভোয়ারকে মৃত্যুর সময় সম্মানিত করা হয়।