অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশের যুবারা। অনুভূতিটা কেমন? ভবিষ্যতে এ দলের কাছে প্রত্যাশা কী? জানতে চাওয়া হয়েছিল পাঠকদের কাছে। ইমেইল এবং টেলিফোনে পাঠকের দেওয়া প্রতিক্রিয়া আজ প্রকাশ করা হলো।
টাইগারদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে ক্রিকেটপাগল দেশবাসীর মনে যখন কিছুটা হলেও হতাশা দানা বাঁধতে শুরু করেছিল, তখন যুবা টাইগাররা অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে শিরোপা জয় করে আমাদের জানিয়ে দিল—মুজিববর্ষে ক্রিকেট নিয়ে হতাশাগ্রস্ত হওয়ার কিছু নেই—‘আমরা আসছি’। মুজিববর্ষে দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড়ো সাফল্যটি এনে দিয়েছেন তারা। ১৯৯৭ সালে আইসিসি ট্রফি জয়ের ঘটনা বাদ দিলে ক্রিকেটের বৈশ্বিক কোনো টুর্নামেন্টে এটাই বাংলাদেশের প্রথম শিরোপা জয়। জয়ের এ ধারাবাহিকতাকে অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। আমার মত হলো—ক্রিকেটারদের নিয়ে আবেগের বাড়াবাড়ি না ঘটিয়ে তাদের জন্য ক্রীড়ানুকূল পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। মাটি ও মানুষকে সঙ্গে নিয়েই তারা যেন পথ চলেন আগামীতেও এবং এগিয়ে নিতে পারেন আমাদের দেশকে।
মোছা. বিলকিছ আক্তার
সরকারি ম্যাটস-
শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল টাঙ্গাইল
অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ ভারতকে হারিয়ে বাংলাদেশের জয়ে খুশিতে আত্মহারা সমগ্র জাতি। দেশের জন্য প্রথম কোনো বিশ্বকাপ জয়ের সাফল্যে দেশবাসীর পক্ষ থেকে এ তরুণ দলকে আন্তরিক ফুলেল অভিনন্দন। ফাইনালে শিরোপা জয়ের উত্তেজনা এবং ভারতের সঙ্গে ক্রিকেটে স্থায়ী এক শত্রুতা তৈরি হয়ে যাওয়ার কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও ঘটেছে মাঠেই। তার জেরে আইসিসি বাংলাদেশের তিন জন ও ভারতের দুই জনকে কয়েক ম্যাচ করে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। অনভিপ্রেত ও অনাকাঙ্ক্ষিত এ পরিস্থিতি থেকে অবশ্যই ফিরতে হবে এবং চমত্কার শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। তাদের এ সাফল্য একদিন জাতীয় দলের বিশ্বকাপ জয় এনে দিবে, এ প্রত্যাশা ক্রিকেটপ্রেমী সকলের।
মো. জিল্লুর রহমান
সতিশ সরকার রোড, গেন্ডারিয়া, ঢাকা।
ক্রিকেট এখন নিঃসন্দেহে আমাদের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। এই একটি ক্ষেত্রে সাফল্যে দলমত নির্বিশেষে আমরা দেশের সব মানুষ আনন্দে উদ্বেলিত হই! এক সময় দেশে ফুটবলের জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে। কিন্তু বৈশ্বিক মানদণ্ডে ফুটবলে বেশিদূর এগোতে পারিনি আমরা। অন্যদিকে ক্রিকেটের হাত ধরেই এসেছে সবচেয়ে বেশি সাফল্য। ক্রিকেটে বড়ো দলের বিপক্ষে জয় পাওয়া বাংলাদেশের জন্য এখন আর অসম্ভব কোনো ঘটনা নয়। বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ইতিমধ্যেই বিশ্ব ক্রিকেটের সব বাঘা বাঘা দলের বিপক্ষে জয় করায়ত্ত করে নিতে সক্ষম হয়েছে।
মেনহাজুল ইসলাম তারেক
পার্বতীপুর, দিনাজপুর-৫২৫০।
দক্ষিণ আফ্রিকার পচেফস্ট্রুমে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচে ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে পরাজিত করে শিরোপা লাভ করায় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন। যুব বিশ্বকাপের ফাইনালে চার বারের চ্যাম্পিয়নদের হারায় বাংলাদেশের যুবারা। যুব ক্রিকেটারদের এই জয়ের ধারা অব্যাহত রেখে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের শিরোপা অর্জন বাংলাদেশের ক্রিকেটের অগ্রযাত্রায় মাইলফলক হয়ে থাকবে।
মোহাম্মদ শহীদ উল্লাহ
হকভিলা, মেরাদিয়া, সিপাহীবাগ, ঢাকা
বাংলাদেশ যুব বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবে সেটা কল্পনার বাইরে ছিল। আমাদের দেশ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন সেটার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের কাছে আমার প্রতাশা তারা জাতীয় টিমে গিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে আসুক।
তানজিয়া তন্নি
শিক্ষার্থী, ঢাকা
অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। আনন্দে ভাসছে সারাদেশ। এটি সত্যি অবিস্মরণীয় একটি ঘটনা। ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল শক্তিশালী ভারত, যারা বার বার এই অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে শিরোপা জিতেছে, প্রতিপক্ষ তাদের চোখে দুর্বল দল বাংলাদেশ। প্রথমেই ব্যাট করতে নেমে তারা দমে গেছে, ভেবেছে এই টিম কত ভয়ংকর। ৫০ ওভার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি ভারত। গুটিয়ে যায় ১৭৭ রানে। চমত্কার জয়লাভ করেছে বাংলাদেশ। আমরা চাই তাদের মূল্যায়ন। এই যুবারা ভবিষ্যতে যাতে আরো বড়ো জয়লাভ করতে পারে সেজন্য প্রচেষ্টার ত্রুটি রাখা যাবে না।
মো. খায়রুল ইসলাম (ফুল)
আরাপপুর, ঝিনাইদহ।
সত্যি এখন এটা প্রতিষ্ঠিত যে, বাংলাদেশের তরুণ যুবারা পারে। অনূর্ধ্ব-১৯ প্রতিযোগিতায় আগামীতেও যাতে আরো ভালো ফল করা যায় সেজন্য চাই সুপরিকল্পনা ও তাদের জন্য সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা। আমরা তাদের এই জয়ের জন্য আবারও অভিনন্দন ও রক্তিম ভালোবাসা জানাই। তারা এগিয়ে যাক দুর্বারগতিতে এই প্রত্যাশা রইল।
সুগন্ধী আক্তার
মতিঝিল, ঢাকা।
দক্ষিণ আফ্রিকার যুব ক্রিকেটের ফাইনালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ দল। এই খেলায় দারুণ খেলেছে অনূর্ধ্ব-১৯ বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ভালো খেলতে পেরেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল কারণ গত ৪ বছর কঠোরভাবে অনুশীলন করেছিল নিয়মিতভাবে। এই জন্যই জয়লাভ করেছে। হতবাক হয়েছে দুনিয়ার মানুষ। এত ভালো খেলতে পারে বাংলাদেশের যুবারা। বাংলাদেশ দল অবশ্যই ভালো খেলবে। নৈপুণ্য ধরে রাখবে এই প্রত্যাশা আমাদের সবার। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব ১৯ ক্রিকেট দলকে প্রাণঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।
ফারুক আহমেদ
বাগমারা, রাজশাহী।
১৯৯৭ইং সালে মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত আইসিসি ট্রফি জিতে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ করে নিয়েছিল বাংলাদেশ। দক্ষিণ আফ্রিকায় বিশ্বকাপের শুরু থেকেই বাংলাদেশের পারফরমেন্স ছিল নজরকারার মতো। সাকিব/মাশরাফি /মিরাজরা যা পারেননি এবার সেটা করে দেখিয়েছেন বাংলাদেশের যুবারা। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ দলকে জানাই শুভেচ্ছা।
মো. মেজবাহউদ্দিন সেলিম
ইব্রাহিমপুর, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট, ঢাকা।
সবুজের মাঝে লাল পতাকা বিশ্ববাসীর সামনে আরেকবার সগৌরবে উঁচিয়ে ধরার আনন্দে উদ্বেলিত হলো বাংলার টাইগাররা। মাতৃভাষা ও মাতৃভূমির মর্যাদা সমুন্নত রাখতে পেরেছে অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দল। বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হলো বাংলাদেশের দামাল ছেলেরা। সারা বিশ্বে প্রথমসারির খেলোয়াড় হয়ে বিশ্বকাপের জয়মাল্য দেশ ও জাতিকে ভবিষ্যতে সম্মানিত করবে। এটাই সকলের প্রত্যাশা।
মুহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ
সর্দারপাড়া, মুন্সীগঞ্জ।
বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট যুব দল। সবাইকে অবাক করে দিয়েছে তাদের এই ক্রিকেট খেলা। ভবিষ্যতে যাতে আরো সুন্দর ফলাফল বয়ে আনতে পারে এবং সারা বিশ্বে বাংলাদেশের নাম আরো গৌরবোজ্জ্বল করে তুলতে পারে সেই প্রত্যাশা রইল।
বুশরা
আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, আজিমপুর, ঢাকা
অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ফলাফল অর্জন করে এনেছে বাংলাদেশের তরুণ যুবারা। এটার অনূভূতিটা অনেক বিশাল। যার ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ দিতে গেলে শেষ হবে না। আমরা প্রত্যেকের জন্য দোয়া করি। তারা আগামী দিনে আরো সুন্দর সমৃদ্ধশালী হয়ে উঠুক। তাদের জন্য আরো যত্নশীল হতে হবে আমাদের।
শিশির
পিলখানা, ঢাকা
জয়ের মুকুট পরে ফিরে এলো অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন যুবারা। সারা দেশে আনন্দের জোয়ার বইছে এই জয়ের ধ্বনিতে। আবারও সারা বিশ্বকে পরিচয় করিয়ে দিল যে বাংলাদেশ পারে না এমন নয়। শক্তি, সাহস ও কঠোর অনুশীলনই এনে দিয়েছে তাদের এই জয়ের মুকুট। যুবারা এগিয়ে যাক, তাদের কণ্ঠে বেজে উঠুক জয়ের গান ।
রয়েল
নিশিদারা, মধ্যপাড়া, বগুড়া।
তরুণদের বিশ্বকাপ জয় প্রায় শুভ সূচনার প্রতীক। এই জয়ে তারা যেমন উত্ফুল্ল ও উত্সাহিত তেমনি সমগ্র দেশবাসী আনন্দিত ও তাদের প্রতি প্রত্যাশার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তাকিয়ে আছে। এই শুভ সূচনা বৃহত্তর আরো কোনো জয়ের স্বপ্ন পূরণে সহায়ক শক্তি হিসেবে সক্রিয় থাকবে। তবে একথাও ঠিক তারা যেমন পরিশ্রমী ও উদ্যমী হয়ে এই বিশ্বকাপটি জয় করল তাদের এই উদ্যম এবং উত্সাহ অব্যাহত রাখতে হবে। আমরা দেশবাসী সবাই আশীর্বাদ করি।
মহারাজ খান
সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ।
অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশের যুবারা। এতে আনন্দের সীমা নেই। আকবর আলীর বাবা মিডিয়া প্রতিনিধিদের বলেন, ‘আমি কান্না থামাতে পারছি না। এ কান্না খুশির কান্না। বিশ্বে দেশের নাম উজ্জ্বল করেছে।’ তার বাবার এমন অনূভূতি থেকে বুঝতে কষ্ট হচ্ছে না যে এই তরুণ যুবারা কত বড়ো জয়ের মালা ছিনিয়ে এনেছে। আর সে জয়ের আনন্দ কত মধুর। তাই, আমরা মনে করি, এই জয়কে বরণ করে থেমে গেলে হবে না, আরো সুদৃঢ়ভাবে এগিয়ে নিতে হবে তাদের।
সুলতানা জামান
মানিকনগর, ঢাকা
আইসিসির দেওয়া অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপের সেরা একাদশেও বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জয়জয়কার। অধিনায়ক হিসেবে দলে আছেন যথারীতি বাংলাদেশের ফাইনালের নায়ক আকবর আলী। বাংলার দামাল ছেলেরা এভাবে এগিয়ে যাক এই প্রত্যাশা রইল। তাদের জন্য এখন প্রয়োজন ভালো কোচিং ও সুযোগ-সুবিধাসহ যত্ন নেওয়া।
অ্যাডভোকেট এস কে মো. রমিজউদ্দিন
কাজীপাড়া, মিরপুর, ঢাকা
বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দল। খুবই সুসংবাদ গোটা দেশের জন্য। গৌরবে আমরা মহিয়ান। আমরা তাদের জন্য ভালোবাসা জানাই। আমরা জানতে পারলাম, যুব বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় যুব ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ক্রিকেটার খোঁজার উদ্যোগ নিয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
করিম
‘রিক’, ধানমন্ডি, ঢাকা
অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ যত এগিয়েছে, ততই সত্যি বলে প্রমাণিত হয়েছে। নিজেকে ফিনিশার বলতে পছন্দ করা রংপুরের এই তরুণের নেতৃত্বে এক হলো দেশের ক্রিকেটের নতুন অধ্যায়। ক্রিকেট কিং যুব আকবর আলী তার নাম। যার প্রশংসা সারা দেশ ছেড়ে এখন বিশ্বজুড়ে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই বিজয়কে মুজিববর্ষের সেরা উপহার হিসেবে অভিহিত করেছেন। সেজন্য আমরা প্রধানমন্ত্রীকেও অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।
অ্যাডভোকেট মো. রবিউল হোসেন রবি
পুরানা পল্টন, ঢাকা
বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছে অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দল। স্বভাবতই সবাই আবেগাল্পুত। বিশ্বকাপ জয়ে হয়ে গেছে বিশ্বজয়। শাবাশ নবীন টাইগার দল। শাবাশ বাংলাদেশ। ভবিষ্যতে এ দলের কাছে প্রত্যাশা থাকবে আরো ভালো খেলা। এগিয়ে যাওয়ার চর্চা। সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে তাদের জন্য প্রয়োজন কোচিং চর্চা ও সুযোগ-সুবিধা।
মো. সাহিদুল ইসলাম
মতিঝিল, বা/এ, ঢাকা-১০০০
