অসম্পৃক্ত চর্বি উত্পাদন ও আমদানি নিষিদ্ধ করুন

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:১৯

হূদেরাগে মৃত্যুর ঝুঁকি মোকাবিলায় ট্রান্স ফ্যাটজাতীয় খাদ্য ডালডা ও বনস্পতির উত্পাদন, আমদানি, বাজারজাতকরণ এবং ব্যবহার জনস্বার্থে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, শিল্পোত্পাদিত খাদ্যে অসম্পৃক্ত চর্বি বা ট্রান্স ফ্যাটের ফলে সৃষ্ট হূদেরাগের কারণে প্রতি বছর বিশ্বে সাড়ে ৫ লাখ মানুষ মারা যায়। এ ধরনের পরিস্থিতিকে মানব সৃষ্ট মহামারি হিসেবে ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তাই স্বাস্থ্য ঝুঁকি সম্পর্কে ভোক্তাদের সতর্ক করার পাশাপাশি এ ধরনের পণ্য উত্পাদনকারী শিল্প-কলকারখানার মালিকদের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘খাদ্যে ট্রান্স ফ্যাট, হূদেরাগ ঝুঁকি এবং করণীয় :ভোক্তা পরিপ্রেক্ষিত’ শীর্ষক আলোচনা সভায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন। কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব), ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ এবং প্রজ্ঞা-প্রগতির জন্য জ্ঞান যৌথভাবে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন।

ক্যাবের সভাপতি গোলাম রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে ট্রান্স ফ্যাটের প্রভাব, এর বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় করণীয় সম্পর্কে তিনটি পৃথক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যথাক্রমে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী, প্রজ্ঞার পরিচালক ও কর্মসূচি প্রধান হাসান শাহরিয়ার এবং ক্যাবের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর আহম্মদ একরামুল্লাহ।

আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব.) আব্দুল মালিক, বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক মো. মুয়াজ্জেম হোসাইন, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাহাবুব কবির, পাবলিক হেল্থ স্পেশালিস্ট মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস।

শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, খাদ্যে অসম্পৃক্ত চর্বি বা ট্রান্স ফ্যাটের ফলে সৃষ্ট হূদেরাগ মোকাবিলায় বর্তমান সরকার পুরোনো আইন পর্যালোচনা করে যুগোপযোগী করবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নির্দেশিত গাইডলাইন অনুসরণ না করে যেসব খাদ্যপণ্য উত্পাদন হচ্ছে, প্রয়োজনে জনস্বার্থে সেগুলো নিষিদ্ধ করা হবে।