দশম বারের মতো রাজধানীতে কৃষিবিদ দিবস উদ্যাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করে কৃষিবিদদের পেশাজীবী সংগঠন কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি)। এতে উপস্থিত ছিলেন কেআইবির সভাপতি প্রফেসর ড. শহীদুর রশীদ ভূঁইয়া, মহাসচিব কৃষিবিদ খাইরুল আলম প্রিন্স, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. কামাল উদ্দিন আহাম্মদসহ কেআইবির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এবং সকল পর্যায়ের কৃষিবিদ।
বিকালে কেআইবি মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের সভাপতি কৃষিবিদ প্রফেসর ড. শহীদুর রশীদ ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রহমান। আরো উপস্থিত ছিলেন কৃষক লীগের সভাপতি সমীর চন্দ্র ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম স্মৃতি। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের মহাসচিব মো. খায়রুল আলম প্রিন্স।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ‘বাংলাদেশে এত দিবস হচ্ছে অথচ কৃষকদের জন্য আলাদা কোনো দিন নেই। বঙ্গবন্ধু ১৯৭৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি যে ঐতিহাসিক ঘোষণার মাধ্যমে কৃষিবিদদের প্রথম শ্রেণির পদমর্যাদা দিয়েছেন সেই দিনটিকে জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণার দাবি জানাচ্ছি। বঙ্গবন্ধু কৃষিবিদদের প্রথম শ্রেণির মর্যাদা দিয়ে যে দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছিলেন তার প্রমাণ বাংলাদেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। কৃষির উন্নয়নের ফলেই দেশের অর্থনৈতিক মুক্তি লাভ সম্ভব হয়েছে।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমির হোসেন আমু বলেন, ‘বর্তমানে দেশে আবাদি জমি কম, জনসংখ্যা বেশি তবুও আজ আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এটি কেবলমাত্র কৃষিবিদদের গবেষণার অগ্রগতির জন্যই সম্ভব হয়েছে। বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের সূচনা থেকেই কৃষি ক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এদেশের কৃষির উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, ১৯৭৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় কৃষিবিদদের প্রথম শ্রেণির মর্যাদা দেওয়ার ঘোষণা দেন। এরপর ২০১০ সালের ২৭ নভেম্বরে কেআইবিতে এক সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০১১ সাল থেকে প্রতি বছর ১৩ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে কৃষিবিদ দিবস পালিত হয়ে আসছে।
