‘ম্যাচিউরিটিই এদের মূল শক্তি’

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:১৪

গেম ডেভেলপমেন্টের চেয়ারম্যান হিসেবে খালেদ মাহমুদ সুজন লম্বা সময় ধরে এই যুব দলটার দায়িত্বে ছিলেন। তিনি দলের সঙ্গে ছিলেন বিশ্বকাপ জয়ের সময়ও। এদের নিয়ে বিসিবির কাজ, পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। একান্ত সাক্ষাত্কার নিয়েছেন দেবব্রত মুখোপাধ্যায়

এই দলটাকে নিয়ে আপনারা অনেকদিন ধরে কাজ করছেন। ঠিক কোন স্তরে এই খেলোয়াড়দের হাতে পেয়েছিলেন?

এদের অনেকেই এর আগের বয়সভিত্তিক দলগুলোতে ছিল। ফলে ঐ পর্যায় থেকেই তারা আমাদের গেম ডেভেলপমেন্টের হাতে ছিল বলা যায়। এরপর অনূর্ধ্ব-১৮ দল গঠনের জন্য ৩৫ জন নিয়ে ক্যাম্প করা হলো। সেখান থেকে বেছে এই দলটা করা হয়েছিল। তারপর থেকে এই দলটা এক সঙ্গেই আছে বলা যায়।

গত দেড় বছরে আপনারা এদের রেকর্ড, ৩০টা ম্যাচ খেলিয়েছেন। এখানে চিন্তাটা কী ছিল?

দেখুন, আমরা গেম ডেভেলপমেন্ট থেকে একটা ব্যাপার লক্ষ্য করছিলাম যে, আমাদের ক্রিকেটের একটা বড়ো ক্রাইসিস হলো, টানটান সময়ে এসে আমরা ম্যাচ হেরে যাই। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ভেঙে পড়ি। এটার একমাত্র সমাধান ছিল প্রচুর ম্যাচ খেলা এবং যত সম্ভব অপরিচিত কন্ডিশনে খেলা। কারণ, অনুশীলনে আপনি যতই কষ্ট করেন, ম্যাচ সিচুয়েশনই একমাত্র পারে এসব পরিস্থিতি থেকে আপনাকে বের করে আনতে। সে জন্য আমরা একটা রোডম্যাপ করলাম। এখানে বোর্ডের একটা বড়ো কৃতিত্ব আছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে আমাদের অনেক টাকার দরকার ছিল। পাপন ভাইকে (বিসিবি সভাপতি) আমি এটা যখন বললাম, উনি বললেন—বিশ্বকাপ সামনে রেখে যেটা ভালো হয়, কর।

মানে, সে সময় থেকেই আপনারা বিশ্বকাপ নিয়ে ভাবছিলেন?

অবশ্যই। আমরা প্রতিভার দিক থেকে সেই মুশফিকের দল থেকে শুরু করে অনেকবারই খুব পোটেনশিয়াল দল নিয়ে এই টুর্নামেন্টে গেছি। কিন্তু ট্রফি জেতা বা ফাইনালে যেতে পারিনি। ফলে এবার আমাদের লক্ষ্যটাই ছিল, বিশ্বকাপ ফাইনালে যাব।

বিশ্বকাপ শুরুর আগে কী ভাবতে পেরেছিলেন, এই দলটা সত্যিই ট্রফি জিতবে?

দেখুন, ট্রফির কথা তো ভাবা যায় না। এটার জন্য কিছু লাক লাগে। আল্লাহ সহায় ছিলেন বলে আমরা ফাইনাল জিতেছি; ছেলেরা অবিশ্বাস্য দৃঢ়তা দেখিয়েছে। আমাদের চাওয়া ছিল, ফাইনাল খেলা। আকবর দেশ ছাড়ার আগে সংবাদ সম্মেলনে বলেছিল, আমরা ফাইনাল জিততে চাই। এটা অনেক বড়ো একটা স্টেটমেন্ট ছিল। আমরা ওর এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত ছিলাম। আমরা জানতাম, এটা খুব ম্যাচিউর একটা দল ছিল। ফলে এদের ওপর আস্থা রাখা যায়।

এই দলটার ওপর আস্থা রাখার মূল কারণ কী এই ম্যাচিউরিটি?

হ্যাঁ। এক্সপেরিয়েন্স থেকে আসা ম্যাচিউরিটি। বিশ্বকাপে আর যে কোনো দলের চেয়ে আমরা বেশি ম্যাচ খেলেছিলাম। ফলে আমরা বাকি যে কোনো দলের চেয়ে বেশি জানতাম যে, ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতিতে কী করতে হয়। এই ম্যাচিউরিটিটা তাদের ছিল। সেটাই ওদের মূল সম্পদ।

আর একটা দল হয়ে খেলাটা...

হ্যাঁ। এটা বড়ো একটা ব্যাপার। এই দলে আপনি দেখবেন, ইনডিভিজুয়াল পারফরমারের চেয়ে টিম এফোর্ট দেওয়ার প্রবণতা অনেক বেশি। এরা অনেকদিন ধরে এক সঙ্গে থাকার একটা ফল পেয়েছি আমরা। এদের একজনের কোনো সমস্যা হলে, সেটা সবাই ফিল করেছে। একজনের জন্য বাকিরা সবাই লড়ার মানসিকতা রেখেছে।

একটু ফাইনালের কথা বলা যাক। ম্যাচ শেষে খুব আবেগাক্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন। ম্যাচের সময় খুব চাপে ছিলেন?

আমি তো সেমিফাইনালেও খুব চাপে ছিলাম। একটা ঘটনা বলি। মাঠে ওরা খেলছে। আমি প্রেসিডেন্ট বক্সে খেলা দেখছি। ওখান থেকে কিছু বললে মাঠের ওদের শুনতে পাওয়ার কথা না। তার পরও আমি একা একা চিত্কার করেছি। বলেছি, এটা কর, ওটা কর। আর ফাইনালে তো আপনারাই দেখেছেন। তবে আমার আস্থা ছিল ওদের ওপর।

ফাইনালের আগে মিটিংয়ে কী ধরনের কথাবার্তা হলো?

সবাই বলছিল, চাপ নেওয়া যাবে না। আমি বললাম, দ্যাখ, যাই করিস, চাপ আসবেই। ফাইনালের একটা চাপ আসবেই। সেই চাপটাকে সামলে যে যে খেলাটা এনজয় করতে পারবে, তারাই চ্যাম্পিয়ন হবে। ফলে চাপ এড়ালে কাজ হবে না। আমাদের চাপ মেনে নিয়েই খেলাটা উপভোগ করতে হবে। চাপ সামলে উঠতে হবে।

এখন এই দলটা নিয়ে পরিকল্পনা কী? কিছুটা বিসিবি সভাপতি বলেছেন...

হ্যাঁ, পাপন ভাই যেমনটা বলেছেন, ওদের আগামী দুই বছর ধরে অনূর্ধ্ব-২১ নামে আমাদের হাতে রাখা হবে। এই সময় ওদের বেতন দেওয়া হবে। আমাদের মূল উদ্দেশ, অফ সিজনে যেন ওরা খেলা থেকে দূরে সরে না যায়। এমনিতে সিজনে তো লিগ খেলবে, বিপিএল খেলবে। অফ সিজনে ওদের পরিচর্যা বেশি করতে হবে।

এই পরিচর্যার মধ্যে কী বেশি ম্যাচ খেলানো বা এরকম কিছু আছে?

অবশ্যই। ম্যাচ খেলাতে হবে। দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আয়োজন করতে হবে, টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে হবে। আশা করি, এসব করতে পারলে এদের ট্যালেন্টটা আমরা কাজে লাগাতে পারব।