সংগৃহীত পুরোনো বইয়ের স্টল দেখতে চাই মেলায়

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:৩৪

বাংলা একাডেমির অমর একুশে বইমেলায় আমার যাওয়া হয়েছে বহুবার বহুদিন। এই বইমেলায় যতবারই গিয়েছি, প্রতি বছরই আমার কাছে অনেক কিছু নতুন মনে হয়েছে। যখন থেকে যাওয়া শুরু তখনকার বইমেলার পরিধি খুব যে বড়ো ছিল তা বলা যায় না। তবে গত এক যুগে যতবারই বইমেলায় গিয়েছি ততই বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করেছি এর শ্রীবৃদ্ধির বিষয়টি। কত রকমের বইয়ের স্টল কত রকমের বইয়ের প্রকাশনা। বাংলা সাহিত্য যে দিনে দিনে এত সমৃদ্ধির পথে এগিয়েছে, তা আমার এই    জীবনে বইমেলায় গিয়ে দেখা।

একসময় কবি শামসুর রাহমান, সৈয়দ শামসুল হক, হুমায়ূন আহমেদ, হুমায়ুন আজাদ, ইমদাদুল হক মিলনদের মতো বাংলা সাহিত্যের প্রধান সারির লেখকদের বইয়ের জন্য অপেক্ষমাণ পাঠক-ক্রেতার স্টলে স্টলে উপচে পড়া ভিড় দেখেছি, খুই আনন্দিত হতাম। পাশাপাশি তরুণ কবি-সাহিত্যিকদের নতুন নতুন বই প্রকাশও আমার বেশ ভালো লাগত। এখন বইমেলার সেই পরিসর বাড়তে বাড়তে আর বাংলা একাডেমির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বাংলা একাডেমি ছাড়িয়ে এর পরিসর বেড়ে এখন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একটা বিশাল অংশ জুড়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে মেলা। বাংলা একাডেমির বর্তমান মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী বিগত বছর থেকে বইমেলাকে সাজিয়েছেন এক অনন্য রূপে। বড়ো বড়ো স্টল সুপরিসর প্যাভেলিয়ন এখন দেখা যায় বইমেলার মাঠে। যেমন বেড়েছে প্রকাশকের সংখ্যা তেমনি বইয়েরও। মেলায় দর্শনার্থীদের চলফেরা নির্বিঘ্ন করতে রাখা হয়েছে প্রশস্ত রাস্তা। বইমেলার সবকিছুকে ঘিরে পাওয়া যায় আধুনিক ডিজিটাল যুগের অনেক কিছুরই ছোঁয়া। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে বইমেলার এত কিছুর মধ্যেও খুঁজে ফিরতে চাই বেশ কয়েকটি বিষয়। আমি চাই পুরোনো প্রকাশিত সংগৃহীত বইয়ের একটি প্যাভেলিয়ন। যেখানে পাওয়া যাবে চল্লিশ-পঞ্চাশ কিংবা ষাটের দশকের বিখ্যাত লেখকদের প্রকাশিত বই। আমি দেখতে চাই, কাজী আনোয়ার হোসেনের মাসুদ রানা সিরিজের জনপ্রিয় বইগুলো। যে স্টল থেকে এই বইগুলো কিনে পাঠক আবার সেই বই ঐ স্টলে ফেরত দিয়ে অন্য আরেকটি বই সংগ্রহ করবে কিংবা বই পড়া শেষে সেই বইটি ঐ স্টলে জমা দিয়ে মাসুদ রানা সিরিজের অন্য কোনো বই নিয়ে যাবে। এককালে এমন ট্রাডিশন ছিল। ভাড়া নিয়ে বই পড়া। বাংলা একাডেমিতে ভাড়া নিয়ে এমনভাবে বই পড়া চলত আগে। বইমেলায় এই সব কর্মকাণ্ড থাকলে পাঠকরা আরো বেশি বইয়ের প্রতি আকৃষ্ট হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

বাংলা একাডেমির একুশের বইমেলায় শুধু বাংলাদেশের পাঠকদের জন্য এক আকর্ষণীয় বিষয় নয়। বইমেলাকে কেন্দ্র করে এই ফেব্রুয়ারি মাসে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বহু সাহিত্যপ্রেমী মানুষদের ভিড় জমে এই চত্বরে। আবার যারা প্রবাসে থেকেও এই বইমেলাকে অনুভব করতে চায় তারা চোখ রাখেন টেলিভিশনের পর্দায়। চ্যানেল আইসহ বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল বইমেলাকে নিয়ে যায় সরাসরি ঐসব দেশের প্রবাসীর কাছে। যারা ঘরে বসেই বাংলা একাডেমির বইমেলার সব খবরাখবর পেয়ে যান সুদূর প্রবাসেও। তাদের অনেকের অনুভব অনুভূতি ও আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে অনেক কথাই ভেসে আসে ইথারে আমাদের মাঝে। বিশ্বব্যাপী জয় হোক বাংলা বইয়ের। জয় হোক বাংলা একাডেমির অমর একুশের বইমেলার।