সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের ঋণ কমাতে চলতি অর্থবছর থেকে এ খাতে বিনিয়োগে বেশকিছু কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে কোনো প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যতহবিল, তথা প্রভিডেন্ট ফান্ড ছাড়া অন্য কোনো অর্থ সঞ্চয়পত্র খাতে বিনিয়োগ বন্ধ করা হয়েছে। এ জন্য ভবিষ্যতহবিলের বিপরীতে দেওয়া হয়েছে আলাদা কর শনাক্তকরণ নম্বরও (টিআইএন)।
এরপরও প্রতিষ্ঠানের টিআইএন ব্যবহার করে অন্য খাতের অর্থ সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাই ভবিষ্যতহবিলের টিআইএন ছাড়া প্রতিষ্ঠানের টিআইএনের বিপরীতে সঞ্চয়পত্র বিক্রি না করার নির্দেশ দিয়েছে অর্থ বিভাগ। গত মঙ্গলবার অর্থ বিভাগের সরকারি ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ কর্মসূচির উপসচিব আবুল বাশার মুহাম্মদ আমীর উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বেসরকারি ব্র্যাক ব্যাংকের অভিযোগের প্রেক্ষিতে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর এবং বিভিন্ন ব্যাংকে যথাযোগ্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, সঞ্চয়পত্র বিধিমালা অনুযায়ী স্বীকৃত ভবিষ্যতহবিল তথা প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ পাঁচ বছর মেয়াদে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। ভবিষ্যতহবিল ব্যতীত প্রতিষ্ঠানের অন্য কোনো তহবিল সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করা যাবে না। এ জন্য ‘জাতীয় সঞ্চয় স্কিম অনলাইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ স্বীকৃত ভবিষ্যতহবিলের কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) প্রদানের মাধ্যমে এ তহবিলের বৈধতার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
তারপরও কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতহবিলের টিআইএন বাদ দিয়ে প্রতিষ্ঠানের টিআইএন দিয়ে সঞ্চয়পত্র কিনেছে। জাতীয় সঞ্চয় স্কিম অনলাইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালুর পর অনেক সঞ্চয়পত্র ইস্যুকারী আউটলেট ভবিষ্যতহবিলের টিআইএন না দিয়ে প্রতিষ্ঠানের টিআইএন দিয়ে সঞ্চয়পত্র ইস্যু করে। বিষয়টি কর্মসূচি কার্যালয়ের নজরে এলে সঞ্চয়পত্র ইস্যুকারী আউটলেটকে ভবিষ্যতহবিলের টিআইএন দিয়ে সঞ্চয়পত্র ইস্যুর জন্য পরামর্শ প্রদান করা হয়।
এদিকে সঞ্চয়পত্রে অবৈধ বিনিয়োগে লাগাম টানতে চলতি অর্থবছর থেকে কিছু কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। যাতে কেউ বিনিয়োগের ঊর্ধ্বসীমা বা অবৈধভাবে কালো টাকা বিনিয়োগ করতে না পরে, সেজন্য জাতীয় পরিচয়পত্রের পাশাপাশি টিআইএন নম্বর নেওয়া হয়।
এছাড়া বিক্রি কমাতে নতুন বাজেটে মুনাফার ওপর কর বাড়ানো হয়েছে। এতদিন সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে সরকার ৫ শতাংশ উেস কর কেটে রাখত। আগামী ১ জুলাই থেকে ১০ শতাংশ করে কাটবে।
