নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রাকিবুর রহমান খানকে বয়কট করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকাসহ সেখানকার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা। উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র এবং কমিটির সদস্য সংরক্ষিত চার জন মহিলা সদস্যসহ মোট ১৫ জন সদস্যের মধ্যে ১৩ জনই গতকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত মাসিক সমন্বয় সভায় যাননি। এর আগে ১০ ফেব্রুয়ারি আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় যাননি তারা।
স্থানীয় কয়েকজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের অভিযোগ, ইউএনও রাকিব স্থানীয় লোকজন ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সবসময় খারাপ আচরণ করেন। সন্ত্রাসী কার্যক্রম, মাদকের কারবারসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১১ মামলার পলাতক আসামি রিয়াদ হোসেন রনি এবং মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও স্থানীয়ভাবে নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িতদের সঙ্গে ইউএনওর গোপন সম্পর্ক থাকার অভিযোগও তুলেছেন তারা। নির্বাচিত ১৪৪ জন জনপ্রতিনিধির অধিকাংশই ইউএনও প্রত্যাহার চান বলে জানা গেছে।
কাঁচপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশাররফ ওমর গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, ‘ইউএনও সাধারণ মানুষের সঙ্গে খুব খারাপ ব্যবহার করেন। আমাদের মতো জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গেও তিনি প্রায়ই অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। তার মতো সুশিক্ষিত মানুষ আমাদের মতো লেখাপড়া না জানা সাধারণ মানুষের সঙ্গে এমন ব্যবহার কেন করবেন! তার বিরুদ্ধে অন্য অভিযোগগুলোও জরুরিভিত্তিতে তদন্ত হওয়া দরকার।’
এ বিষয়ে ইউএনও রাকিব ইত্তেফাককে বলেন, ‘মাসিক সমন্বয় সভার সভাপতি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন। সুতরাং সভায় কারা আসলেন, কারা আসলেন না তা নিয়ে আমার মাথাব্যথ্যা নেই। যারা সভায় আসেননি, আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর অপরাধীদের সঙ্গে আমার গোপন যোগাযোগের কথা এই প্রথম শুনলাম। এগুলো অবান্তর কথা। মাঠপর্যায়ে চাকরি করতে গেলে এ রকম শত্রু তৈরি হয়, তাতে আমার কিছু আসে যায় না।’
