বঙ্গভঙ্গ হয় কত সালে?

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২০:০৯

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

সুধীর বরণ মাঝি, শিক্ষক

সরকারি হাইমচর মহাবিদ্যালয়, চাঁদপুর

 

 

 হাসান তার নানার কাছ থেকে ১৬৮০-৮৩ সালের একটি ঐতিহাসিক ঘটনা শুনে বোঝতে পারে এদেশে এক সময় বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ীরা বাণিজ্য করত। তারা তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য নানা রকমের কৌশল অবলম্বন করে থাকতো। তবে এতে একটি দেশের ব্যবসায়ীরা বেশি লাভবান হয়।

ক) বঙ্গভঙ্গ হয় কত সালে ?                                                                                                                                                                                      খ) চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বলতে কী বোঝায় ?                                                                                             গ) উল্লিখিত সময়ে লাভবানকৃত দেশটির বাণিজ্য বিস্তারের কারণ ব্যাখ্যা কর।                                                                         ঘ) বাংলার অভ্যন্তরের কোন্দল-ই কি উক্ত দেশটির বিজয়ের পিছনে কাজ করেছে ? পাঠ্যপুস্তকের আলোকে তুলে ধরো।

ক) উত্তর: বঙ্গভঙ্গ হয় ১৯০৫ সালে।

খ) উত্তর: রাজস্ব সমস্যা সমাধানের জন্য ১৭৯৩ সালে ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক  বাংলা ও বিহারে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত  প্রথার প্রবর্তন করা হয়। এ ব্যবস্থার ফলে জমিদারগণ চিরদিনের জন্য বংশানুক্রমিকভাবে জমির মালিকে পরিণত হন। এ ব্যবস্থা ইতিহাসে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নামে পরিচিত। এর মাধ্যমে ব্রিটিশদের অনুগত জমিদার শ্রেণি তৈরি করা হয়।

গ) উত্তর: উল্লেখিত সময়ে লাভবানকৃত দেশটি হচ্ছে  ইংল্যান্ড। পাঠ্যবইয়ের আলোকে আমরা জানতে পারি,বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে বাংলায় আগত ইউরোপীয় বণিকদের মধ্যে ইংরেজরা প্রাধান্য লাভ করে এবং ১৬৮০ থেকে ১৬৮৩ সাল তারাই সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়। এর পিছনে যে সকল কারণ বিদ্যমান ছিলো তা হলো ইউরোপের অনেক দেশের মতো ইংল্যান্ডেও খনিজ সম্পদের আবিষ্কার এবং কারিগরি ও বাণিজ্যিক বিকাশের ফলে অর্থনীতি তেজি হয়ে ওঠে। এর ফলে ১৪শ শতক থেকে ইউরোপে যুগান্তকারী বাণিজ্য বিপ্লবের সূচনা হয়। তখন ইউরোপের অন্যান্য দেশের মতো ইংল্যান্ডের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ও সংগঠনগুলো শক্তিশালী হতে শুরু করে। এরূপ অর্থনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষিতে কাঁচামালের চাহিদা প্রকট আকার ধারণ করে। ফলে উত্পাদিত সামগ্রী বিক্রি করার জন্য বাজারের চাহিদা অপরিহার্য হয়ে পড়ে। মূলত এ সমস্ত কারণে ইংরেজরা বাণিজ্য বিস্তারে মনোযোগী হয়ে ওঠে।

ঘ) উত্তর: হ্যাঁ,বাংলার অভ্যন্তরের কোন্দলই ইংল্যান্ডের বিজয়ের পিছনে কাজ করেছে। ১৭৫৬ সালে আলীবর্দী খাঁর মৃত্যুর পর ক্ষমতার উত্তরাধিকার নিয়ে নবাব পরিবার এবং রাজপ্রাসাদের অভিজাতদের মধ্যে দ্বন্ধ শুরু হলে ইংল্যান্ডের ’দি ব্রিটিশ ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির’ কর্তরা এ সুযোগ গ্রহণ করে। তরুণ নবাব সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে খালা ঘসেটি বেগম,মীর জাফর,মীর কাসিমসহ রাজদরবারের প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ এবং উমিচাঁদ,জগত শেঠ ও রাজবল্লভদের মতো তত্কালীন ধনী অভিজাতদের একটি অংশ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলে ইংরেজ বণিকরাও তাতে যোগ দেয়। মূলত তত্কালীন সময়ে নবাব পরিবার ও তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট ক্ষমতাবান ব্যবসায়ীদের সম্মিলিত ষড়যন্ত্রের সুযোগ ইংরেজ কোম্পানি কাজে লাগায়। ইংরেজ সেনাপতি ওয়াটসন ও ক্লাইভ মাদ্রাজ থেকে সৈন্যবাহিনী নিয়ে কলকাতা দখল করে নেন। এর পর নবাবের রাজধানী মুর্শিদাবাদ দখল করার উদ্দেশ্যে ক্লাইভ পলাশির আম্রকাননে উপস্থিত হন। ১৭৫৭ সালের ২৩ শে জুন সেই যুদ্ধে প্রবীণ সেনাপতি মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতায় বাংলা,বিহার, উড়িষ্যার নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ঘটে এবং ইংল্যান্ড অর্থাত্ ইংরেজদের বিজয় নিশ্চিত হয়। তাই বলা হয় বাংলার  অভ্যন্তরের কোন্দল ইংরেজদের বিজয়কে ত্বরান্বিত করেছিলো।