ফিরবে নাব্য, কমবে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি
নূরুল মোহাইমীন মিল্টন, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা
ধলাই নদীর ২২টি স্থানে চর অপসারণ শুরু করেছে মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড। শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টায় কমলগঞ্জ পৌরসভার আলেপুরে (উজিরপুর) কাজের আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন মৌলভীবাজার-৪ আসনের সাংসদ উপাধ্যক্ষ ড. এম শহীদ। কমলগঞ্জ উপজেলার মধ্যদিয়ে দীর্ঘ ৫৭ কিলোমিটার প্রবাহিত হয়ে মনু নদীতে পতিত হয়েছে ধলাই। স্থানে স্থানে চর জেগে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে পড়েছে। ফি বছর বর্ষা মৌসুমে ও ভারী বর্ষণে উজান থেকে ঢল নেমে নদী ভাঙন ও বন্যায় কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভারত থেকে আসা ধলাই নদীতে অসংখ্য চর দেখা দিয়েছে। ইংরেজি ইউ অক্ষরের মতো আঁকাবাঁকা ধলাই নদীতে অসংখ্য চর জেগেছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে। অল্প বর্ষণেই উজানের পাহাড়ি ঢলে নদী ফুলে ফেঁপে ওঠে। প্রবল স্রোতে বাঁক ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। নদীভাঙনে বাড়িঘর, ফসলি জমি ও গ্রাম্য রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। এ কারণেই ধলাই নদীকে কেউ কেউ কমলগঞ্জবাসীর দুঃখ হিসেবে মনে করেন। কৃষকদেরও দীর্ঘদিনে দাবি এই নদী খনন ও সংস্কার। বিগত বছরে বর্ষা মৌসুমে নদীর একাধিক স্থানে ভাঙন ও বাঁধের বেশ কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে ফাটল দেখা দেয়।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, নদীর গতিপথ স্বাভাবিক ও বন্যা সমস্যা সমাধানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ধলাই নদীর ২২টি বড়ো চর অপসারণ কাজ চলমান রয়েছে। ১৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে তিনটি প্যাকেজে এসব কাজ চলছে। এরমধ্যে ধলাই নদী এলাকার পাত্রখোলা থেকে পানিসালা পর্যন্ত ১১টি চর, বড়োগাছ থেকে খেয়াঘাট পর্যন্ত ছয়টি ও করিমপুর থেকে ধর্মনগর পর্যন্ত পাঁচটি চর অপসারণ করা হবে। এই কাজের জন্য গত বছরে ওয়ার্ক অর্ডার হলেও নানা জটিলতায় কিছুটা বিলম্বে গত ডিসেম্বর মাসে কাজ শুরু হয়েছে। নদীর গুরুত্বপূর্ণ ২২টি চর অপসারণ হলে পানি প্রবাহে সহজতর হবে এবং বন্যা থেকে কিছুটাও লাঘব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন।
এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রনেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী বলেন, ধলাই নদীর চর অপসারণের ওয়ার্ক অর্ডার গত বছরের। নানা জটিলতায় কাজ শুরু হতে কিছুটা বিলম্ব হয়। তবে ২২টি বড়ো চর অপসারণ কাজ গত ডিসেম্বর থেকেই শুরু হয়েছে এবং কাজ চলমান রয়েছে। আগামী মে মাস পর্যন্ত এই কাজের মেয়াদ রয়েছে। চর অপসারণ করা হলে নদীর কিছুটাও স্বাভাবিকতা ফিরে আসবে ও বন্যা সমস্যার লাঘব হবে বলে তিনি দাবি করেন। এজন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।
