নোটিশ ছাড়াই স্থাপনা
ভাঙার অভিযোগ
বড়লেখা (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা
মৌলভীবাজারের বড়লেখা সদর ইউনিয়নের ধামাই নদী পাড়ে গড়ে ওঠা স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এলাকাবাসীর দাবি, অনেকের ব্যক্তিগত মালিকানা জায়গার ওপর স্থাপনাগুলো ছিল। হঠাত্ করে কোনো নোটিশ ছাড়াই অভিযান চালিয়ে তাদের জায়গার স্থাপনাগুলো ভাঙা হয়েছে বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ধামাই নদীর সদর ইউনিয়নের সোনাতুলা ব্রিজ এলাকা থেকে সুজানগর ইউনিয়নের সীমানা পর্যন্ত এই অভিযানে অর্ধশতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ করে উপজেলা প্রশাসন। প্রশাসনের দাবি, নদী পাড়ের স্থাপনাগুলো সরকারি জায়গার ওপর ছিল।
অপরদিকে, বিক্ষুব্ধ লোকজন নদী খনন কাজে ব্যবহূত এক্সকাভেটর আটকে রাখেন। এ ঘটনার খবর পেয়ে শুক্রবার দুপুরে ঘটনাস্থলে যান বড়লেখা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ ও ভাইস চেয়ারম্যান তাজউদ্দিন। এ সময় তারা বিক্ষুব্ধ লোকজনের সঙ্গে কথা বলে খননযন্ত্রের (এক্সকাভেটর) চাবি সংশ্লিষ্ট কাজের ব্যবস্থাপকের কাছে বুঝিয়ে দেন।
শুক্রবার দুপুরে এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নদী পাড়ের ভেঙে ফেলা স্থাপনাগুলো পড়ে আছে। স্থানীয় লোকজন ভেঙে ফেলা স্থাপনাগুলো জনপ্রতিনিধিদের দেখাচ্ছিলেন। এ সময় অনেক লোকজনকে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। এলাকার বাসিন্দা শেলি বেগম বলেন, ‘সরকার কোনো ঘরবাড়ি ভাঙলে আগে নোটিশ দেয়। কিন্তু কোনো নোটিশ না দিয়েই হঠাত্ করে আমার বাড়ির দেওয়াল (সীমানা প্রাচীর) ভাঙা হয়েছে। এটা আমার মালিকানাধীন জায়গায়।’
মুদি দোকানি মরতুজ আলী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘কোনো নোটিশ না দিয়েই হঠাত্ করে ভাঙা শুরু হয়। অনেকের ঘর ভাঙা হয়েছে। মালামাল সরানোর সুযোগও দেওয়া হয়নি।’
এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামীম আল ইমরান বলেন, ‘অবৈধ স্থাপনা সরানোর জন্য ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আগে বলা হয়। তারা সরাননি। রেকর্ডে রাস্তার জায়গায় যতটুকু পড়েছে ততটুকু ভাঙা হয়েছে। উচ্ছেদের সময় মালিকানা জায়গার বিষয়ে কেউ কিছু বলেননি। পরে শুনেছি লোকজন দাবি করছেন মালিকানা জায়গা ভাঙা হয়েছে।’
