অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা সিউইড

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২১:৩৪

 আবুল কাসেম ভূঁইয়া

 

আমাদের সমুদ্র সীমানায় রয়েছে অজস্র সামুদ্রিক সম্পদ। এসব সমুদ্র সম্পদের মধ্যে সামুদ্রিক ঘাস (সিউইড) অন্যতম। বাংলাদেশ ফিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) ১১৬ প্রজাতির সামুদ্রিক ঘাস আবিষ্কার করেছেন এর মধ্যে ১০ প্রজাতির সামুদ্রিক ঘাসের রয়েছে অর্থনৈতিক গুরুত্ব। বিশেষ করে  হাইপেনিয়া সিউইড এর চাহিদা রয়েছে বিশ্বজুড়ে। এই ঘাস ১৫ দিন পর পর তোলা যায়।

হাইপেনিয়া সিউইড এর রয়েছে নানা ঔষধি গুণ। এর মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়োডিন, ক্যালসিয়াম, কপার, আয়রন, ভিটামিন, এ বি-১২, ভিটামিন সি, ডি, ই এবং কেসহ ফলিক অ্যাসিড, প্রোটিন, লোক্যালরি ফ্যাট। যা নাকি মানবদেহের জন্য খুবই উপকারী। সিউইড সবজি হিসেবেও খাওয়া যায়। তাছাড়া সিউইড দিয়ে বিদেশে নানা ধরনের ওষুধ তৈরি করা হয়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সিউইড দিয়ে বিভিন্ন ধরনের খাবার তৈরি করা হয়। সিউইড সম্পর্কে জানা যায়, ১৬৭০ সালের দিকে সর্বপ্রথম জাপানের টোকিওতে সিউইড বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষ শুরু হয়। বর্তমানে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মধ্যে জাপান, ফিলিপাইন, উত্তর এবং দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, চীনসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সিউইড বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হচ্ছে।

সারা পৃথিবীতে বছরে ২৬ মিলিয়ন টন সিউইড এর চাহিদা রয়েছে। এশিয়ান দেশগুলোর মধ্যে চীন, ইন্দোনেশিয়া, উত্তর এবং দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপান সিউইড এর চাহিদার ৮০ ভাগ পূরণ করছে। সার, ডেইরি খাদ্য, লবণ, ওষুধ, কাগজ, টেক্সটাইল শিল্পে সিউইড কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহূত হয়ে থাকে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সিউইড চাষ করা হলেও আমাদের দেশে এখনো পর্যন্ত এর চাষ শুরু হয়নি। সিউইড চাষ তেমন ব্যয়বহুল নয়। মাত্র ১২০০ টাকা পুঁজি দিয়ে মাত্র ১৫ দিনে চার স্কয়ার মিটার এলাকা থেকে ৬০-৮০ কেজি সিউইড আহরণ করা যায়। নভেম্বর থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত সিউইড চাষের উপযুক্ত সময়। বাংলাদেশের ১৯টি সমুদ্র উপকূলবর্তী জেলায় ৩ কোটি লোক সামুদ্রিক সম্পদ আহরণ করে জীবিকানির্বাহ করে থাকে। মত্স্য, কাঁকড়া, চিংড়িসহ বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক প্রাণী আহরণ করে তারা তাদের জীবিকানির্বাহ করছে।

এই বিশাল জনগোষ্ঠী যদি সিউইড চাষের ব্যাপারে এগিয়ে আসে তবে দেশের অর্থনীতিতে গতি আসবে। সিউইড চাষের ব্যাপারে প্রশিক্ষণ দিয়ে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উত্পাদনে গেলে ভালো ফল আশা করা যেতে পারে। প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায় ইতিমধ্যে কক্সবাজারে সিউইড চাষের ব্যাপারে সরকারি উদ্যোগে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। লাভজনক এই খাত থেকে আয়ের ব্যাপারে অনেক উদ্যোক্তা এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে যাচ্ছেন। তারা ইতিমধ্যে কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন, মহেশখালী, কক্সবাজার এয়ারপোর্ট রোড, নুনিয়াছড়া এলাকায় এখন পরীক্ষামূলকভাবে সিউইড চাষের উদ্যোগ নিয়েছেন। সমুদ্র বিজ্ঞানীরা আশা করছেন আমাদের দেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দারা যদি সিউইড চাষে এগিয়ে আসে তবে আশাতীতভাবে সিউইড উত্পন্ন হবে।