পেছনের নায়ক যারা

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২১:৩৮

দেবব্রত মুখোপাধ্যায়

বিশ্বকাপ জয়ের কয়েক দিন পার হয়ে গেছে, কিন্তু আনন্দ-উল্লাস এখনো চলছে। বিশ্বকাপজয়ী দলের খেলোয়াড়রা একে একে বাড়ি ফিরছেন এবং সেখানে চলছে মহা উল্লাস। এর মধ্যে আমরা পেছন ফিরে দেখছি এই বিশ্বকাপজয়ী দলের চার নেপথ্য নায়ককে

নাভিদ নাওয়াজ

প্রধান কোচ

বাংলাদেশের সঙ্গে তার সম্পর্ক আজকের নয়। ২০০২ সালে এই বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলেছিলেন ক্যারিয়ারের প্রথম ও একমাত্র টেস্ট। এ ছাড়া জাতীয় দলের হয়ে ৩টি ওয়ানডে খেলার অভিজ্ঞতাও আছে এই শ্রীলঙ্কান অলরাউন্ডারের। তবে আসল পরিচিতিটা পেয়েছেন কোচ হিসেবে।

২০০৫ সালে খেলা ছাড়ার পরপরই কোচিং শুরু করেন সাবেক এই লেগস্পিনার। শুরুতে ঘরোয়া কিছু দলের কোচিং করিয়েছেন। ২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কা নারী দলের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। একই বছর তার হাতে তুলে দেওয়া হয় শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-১৯ দলের দায়িত্ব।

২০১৮ সালে নাভিদ নাওয়াজ বাংলাদেশ যুব দলের দায়িত্ব নেন। তিনি এই দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর দলটি দুটি বহুজাতিক টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলে নিজেদের প্রস্তুত করে। এশিয়া কাপ ও ইংল্যান্ডে ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টের ফাইনালে মুখোমুখি হয় তারা ভারতের। এই দুই দফা হারলেও চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে সেই ভারতকে হারিয়েই বিশ্বকাপ শিরোপা জেতে নাভিদের দল।

ফয়সাল হোসেন ডিকেন্স

ফিল্ডিং কোচ

বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্যতম পরিচিত নাম কুমিল্লার ফয়সাল হোসেন ডিকেন্স। ১১৪টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছেন। সে তুলনায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খুব একটা সুযোগ পাননি। একটি টেস্ট ও ৬টি ওয়ানডে খেলেছেন ডিকেন্স। ২০১৫ সালে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট থেকে অবসর নেন।

অবসরের আগে থেকেই কোচিং নিয়ে কাজ করছিলেন। ২০১৯ সালে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সঙ্গে যুক্ত হন ডিকেন্স। এখানে ফিল্ডিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। খেলোয়াড়ি জীবনে ভালো অ্যাথলেট হিসেবে পরিচিত ডিকেন্স যে তার দায়িত্ব দারুণ পালন করেছেন, সেটা মাঠে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সই বলছে।

ডিকেন্স বলছিলেন, তার দল যে কত বড়ো কাজ করে ফেলেছে, সেটা তিনি উপলব্ধি করেছেন দেশে ফেরার পর, ‘আমরা তো বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে উত্সব করছিলাম। কিন্তু ঘোরের মধ্যে ছিলাম। দেশে ফেরার পর বুঝতে পেরেছি, কত বড়ো একটা কাজ করেছে এই ছেলেরা।’

মাহবুব আলী জাকি

বোলিং কোচ

আশির দশকে বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের নিয়মিত পারফরমার ছিলেন কুমিল্লার ছেলে জাকি। আবাহনী লিমিটেডের হয়ে ১৯৮৫-৮৬ মৌসুমে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারিও ছিলেন। গাজী আশরাফ হোসেন লিপুর অধিনায়কত্বে লম্বা সময় ধরে খেলেছেন। জাতীয় দলে আসতে না পারলেও মহিন্দর অমরনাথের ক্যাম্পে ছিলেন একবার এই ফাস্ট বোলার।

দেশের খেলা শেষ করে ইংল্যান্ডে চলে গিয়েছিলেন। ২০০৭ সালে দেশে ফিরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে যোগ দেন। তাসকিন আহমেদদের সময় থেকে যুব দলের সঙ্গে কাজ করছেন। তাসকিনের বোলিং অ্যাকশন শোধরানোর সময় অনেক পরিশ্রম করেছেন। যুব দলের সঙ্গে গত কয়েক বছর ধরেই কাজ করছেন।

বিশ্বকাপ জয়ের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়লেন জাকি, ‘আমরা তো অনেক সাফল্য পেয়েছি আগে পরে। ক্রিকেটে আমাদের অনেক প্রাপ্তি আছে। কিন্তু এই বিশ্বকাপ জয়ের সঙ্গে কোনো কিছুর তুলনা হয় না। এটা আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না।’

রিচার্ড স্টয়নার

ট্রেনার

যুব দলের ক্রিকেটারদের কাছে তিনি রিচার্ড ভাই। তিনি নিজেও ভাই হয়ে থাকতেই পছন্দ করেন। বারবারই বলেন, তার এই ছোটো ভাইদের জন্য যে কোনো কিছু করতে রাজি আছেন।

ইংল্যান্ডের মানুষ স্টয়নার শ্যাফর্ডশায়ার বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই ক্রীড়া ও শরীরচর্চা নিয়ে উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেন তিনি। এরপর স্পোর্টা নামে একটি প্রতিষ্ঠানে প্রায় চার বছর প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে পিএসএলে লাহোর কালান্দার্সের এলিট স্ট্রেন্থ ও কন্ডিশনিং কোচ হিসেবে কাজ করেন। একই বছর তিনি আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লিগে কান্দাহার নাইটস দলেও কাজ করেন। ঐ বছরই তাকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নিয়ে আসে।

২০১৮ সাল থেকে এই দলটার ফিটনেস নিয়ে কাজ করছেন। ফিটনেসে তার এই সময়ে যে অসাধারণ উন্নতি হয়েছে, সেটা দলের পারফরম্যান্স দেখে বোঝা যায়। এ ছাড়া দলের খেলোয়াড়দের মানসিক শক্তি নিয়েও কাজ করেন তিনি।