অনুবাদক ছাড়াই বিশ্বজয়

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২১:৪৩

জান-ই-আলম

ভেরি স্মার্ট প্রান্তিক—গত ৯ ফেব্রুয়ারি বিকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এমন স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন শাহরিয়ার নাফিস।

বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক টি-২০ ম্যাচের অধিনায়ক এই স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন বিশ্বকাপজয়ী যুব দলের খেলোয়াড় প্রান্তিক নওরোজ নাবিলকে উদ্দেশ্য করে। শুধু শাহরিয়ার নাফিস নন, ঐদিন ফেসবুকে নাবিলের প্রশংসায় মেতেছিল গোটা দেশ।

যুব বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জয়ের পর আইসিসির ব্রডকাস্ট বিভাগকে একটি সাক্ষাত্কার দিয়েছিলেন নাবিল। ফাইনালের আগের দিন (৮ ফেব্রুয়ারি) ৮ মিনিট ৫৫ সেকেন্ডের সেই ভিডিও প্রকাশ করে আইসিসি। ফেসবুকে এই ভিডিও দেখা হয়েছে প্রায় ২ কোটি বার। অনর্গল ইংরেজি বলে, বুদ্ধিদীপ্ত উত্তর দিয়ে মাত করেছিলেন কোনো ম্যাচ না খেলা নাবিল।

সদ্যসমাপ্ত যুব বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়নের গৌরব অর্জন করেছে বাংলাদেশ। ২২ গজের ক্রিকেট লড়াই ছাড়াও এবারের আসরে আকবর আলীর দলটা সবার নজর কেড়েছে ইংরেজি ভাষায় কথা বলার দক্ষতার মাধ্যমে। দলের সিংহভাগ ক্রিকেটারই জড়তা ছাড়া ইংরেজিতে সাক্ষাত্কার দিয়েছেন, পুরস্কার বিতরণীতে কথা বলেছেন। ফাইনালের পর ইয়ন বিশপের সঙ্গে তানজিম হাসান সাকিব কিংবা রাকিবুলরা ইংরেজিতে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন।

ক্রিকেটের বাইরেও যেটি দলটির জন্য বড়ো অর্জন। বাংলাদেশ যুব দলের ইতিহাসে এমনটা কমই দেখা গেছে। অতীতে  দেখা যেত অধিনায়ক, দু-এক জন ক্রিকেটার ছাড়া বেশিরভাগই ইংরেজিতে কথা বলায় সলজ্জ ছিলেন। এমন কী অনুবাদক লাগতো। আকবর বাহিনীকে পরিপূর্ণ প্যাকেজ হিসেবে গড়ে তুলেছে বিসিবির গেম ডেভলপমেন্ট বিভাগ। ক্রিকেট স্কিলের বাইরে যুব ক্রিকেটারদের মিডিয়া সামলানো, নিজের জানা শব্দগুলো দিয়ে ছোটো ছোটো বাক্যে ইংরেজি বলার চর্চাও করানো হয়েছে।

ট্রফি জয়ের বাইরে সাকিব-রাকিবুলদের এই প্রচেষ্টা তৃপ্তি দিচ্ছে গেম ডেভলপমেন্ট বিভাগের ম্যানেজার আবু ইমাম মোহাম্মদ কাওসারকে। গতকাল তিনি জানিয়েছেন, এবার আইসিসি দিতে চাইলেও অনুবাদক নেয়নি বাংলাদেশ দল। আবু ইমাম মোহাম্মদ কাওসার গতকাল বলেছেন, ‘এবারও আইসিসি থেকে অনেকবারই বলছে যে, তোমাদের কি ট্রান্সলেটর বা অনুবাদক লাগবে? ছেলেদের কথা বলার জন্য। আমরা বলেছি, না লাগবে না। ওরা যেটুকু পারবে সেটুকুই বলবে।’

ক্রিকেটারদের ইংরেজি ভাষা শেখাতে, ইংরেজি বলার চর্চা বেশ যত্ন করেই করিয়েছে গেম ডেভলপমেন্ট বিভাগ। বিসিবির পার্টনার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এআইইউবি ক্রিকেটারদের সাত-আটটি ক্লাস নিয়েছে। তার বাইরে ক্রিকেটারদের নিজেদের মধ্যে কথা বলা, টিম মিটিংয়ে বিদেশি কোচের সঙ্গে আলোচনা, নিজের প্ল্যান জানাতে বলা হতো। দেয়া হতো গ্রুপভিত্তিক কাজ। যার মাধ্যমেই এসেছে বড়ো উন্নতি। 

গেম ডেভলপমেন্ট বিভাগের ম্যানেজার বলেছেন, ‘এই দলটাকে  নিয়ে আমরা অনেক কাজ করেছি। শুধু তাদের খেলা নয়, তাদের চাল-চলন, মানসিকতা, জীবন, ভাষাগত দক্ষতা বাড়ানোর জন্য আমরা ছোটো ছোটো কাজ করেছি। ওদেরকে আমরা কিছু ক্লাসও করিয়েছি ইংরেজির ওপর। আমার মনে হয়, ক্লাসের চেয়ে বেশি কাজ করেছে যেটা, আমরা ওদেরকে কিছু গ্রুপভিত্তিক কাজ দিতাম, কিছু সময় ওদেরকে ইংরেজিতে কথা বলতে দিতাম। তারপর ওদের নিজেদের মাঝেও কথা বলতে দিতাম। প্রেজেন্টেশন করার জন্য পাঠিয়ে দিতাম।’

তিনি আরো বলেন, ‘তাদের সঙ্গে ট্রান্সলেটর দিতাম না। নিশ্চিত করেছিলাম ওরা নিজেরা যখন ক্যাম্পে থাকে, টিম এক সঙ্গে থাকে, ফ্রি সময়ে যেন নিজেরা কথা বলার চেষ্টা করে। আমরা ফলোআপও করতাম।’

যুবাদের নিজেদের আগ্রহকেই এগিয়ে রাখছেন আবু ইমাম মোহাম্মদ কাওসার। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘কিছু ক্লাস হয়েছে এআইইউবির সহযোগিতায়। সবচেয়ে বড়ো কথা হচ্ছে, ওরা নিজেদের আগ্রহে কথা বলেছে। ওরা ছোটো ছোটো বাক্য বলতে পারে, আবার অনেকে অনর্গল কথা বলতে পারে। সবমিলিয়ে ওদের এই দিকটারও ভালো উন্নতি হয়েছে।’