সাভারে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে যুবককে পিটিয়ে হত্যা!

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:২৬

সাভারের একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে জাহাঙ্গীর মিয়া (৩২) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে নিহত ঐ যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে সাভার মডেল থানা পুলিশ। এর আগে মাদক নিরাময় কেন্দ্রের লোকজন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে তাকে মৃত অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। নিহত জাহাঙ্গীর আলম ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর থানার বুড়িকান্দি গ্রামের মৃত হাফিজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে সাভার পৌর এলাকার ব্যাংক কলোনি মহল্লায় বসবাস করতেন এবং বড়ো ভাই মানিকের সঙ্গে হোটেল চালাতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। অন্যদিকে অভিযুক্ত ‘আদর মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র’ নামের মাদক নিরাময় কেন্দ্রটি সাভারের রেডিও কলোনি বাসস্ট্যান্ড এলাকার উত্তরা মার্কেটে একটি ফ্লোর ভাড়া নিয়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার জাহাঙ্গীরকে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তির পর শুক্রবার সকালে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ফোন করে জাহাঙ্গীরের সঙ্গে দেখা করার জন্য অনুমতি চাওয়া হয়। তখন নিরাময় কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জাহাঙ্গীর সম্পূর্ণ সুস্থ আছে জানিয়ে এক মাস পর তার সঙ্গে পরিবারকে দেখা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু তার আধা ঘণ্টা পরই নিরাময় কেন্দ্রের লোকজন জাহাঙ্গীরের পরিবারকে ফোন করে এনাম মেডিক্যালে আসতে বলে। তাদের কথামতো হাসপাতালে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা জাহাঙ্গীরকে মৃত অবস্থায় পান।

নিহত জাহাঙ্গীরের বড়ো ভাই মানিক বলেন, কিছুদিন ধরে জাহাঙ্গীর মাদকাসক্ত হয়ে পড়ায় তাকে মাদক থেকে ফেরাতে সাভার পৌর এলাকার রেডিও কলোনি মহল্লায় অবস্থিত আদর মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে যোগাযোগ করা হয়। পরে সেখানকার লোকজন বৃহস্পতিবার বিকালে জাহাঙ্গীরকে তাদের কেন্দ্রে নিয়ে যায়। গতকাল সকালে নিরাময় কেন্দ্রের মালিক জুয়েল মোবাইল ফোনে পরিবারের সদস্যদেরকে জাহাঙ্গীরের অসুস্থতার কথা জানিয়ে এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আসতে বলেন। সেখানে গিয়ে জাহাঙ্গীরের পরিবার তাকে মৃত অবস্থায় পায়। মানিকের দাবি, চিকিত্সার নামে নিরাময় কেন্দ্রের লোকজনের নির্যাতনেই জাহাঙ্গীরের মৃত্যু হয়েছে।

এনাম মেডিক্যালের কর্তব্যরত চিকিত্সক ডা. মেরাজুর রেহান জানান, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে জুয়েল নামে এক ব্যক্তি মৃত অবস্থায় জাহাঙ্গীরকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। সাভার মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এস আই) মনিরুজ্জামান জানান, নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মৃতদেহটি উদ্ধারের পর তা ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে শারীরিক নির্যাতনের কারণে জাহাঙ্গীরের মৃত্যু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলেই এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।”

অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে অভিযুক্ত মাদক নিরাময় কেন্দ্রে গিয়ে মালিকপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে লাবিব নামে এক যুবক নিজেকে নিরাময় কেন্দ্রের স্টাফ পরিচয় দিয়ে বলেন, বৃহস্পতিবার মধ্য রাতের দিকে জাহাঙ্গীর নামে ঐ যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আর কোনো কথা বলতে তিনি রাজি হননি।