রাজধানীর মাতুয়াইলে ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের পরিচালক জামাল হোসেনের কক্ষ থেকে চিকিত্সক মোবারক হোসেনের (৩৩) ঝুলন্ত লাশ গতকাল উদ্ধার করেছে ডেমরা পুলিশ। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। স্বজনদের দাবি, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। সূত্র জানায়, পরিচালক জামাল হোসেনের সঙ্গে মোবারক হোসেনের ৪ লাখ টাকা পাওনা নিয়ে বিরোধ চলছিল।
ডেমরা থানার ওসি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।
নিহতের স্বজন মঈনুল ইসলাম জানান, ডাক্তার মোবারক হোসেন আমার চাচাতো শালীর স্বামী। তিনি বারডেম টু হাসপাতালের এনেসথেসিয়া স্পেশালিস্ট। আবার মাতুয়াইলের প্রো-অ্যাকটিভ মেডিক্যালেরও চিকিত্সক। তার বর্তমান ঠিকানা দক্ষিণ দনিয়ার এ কে উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে। স্থায়ী ঠিকানা ভোলার লালমোহনে। তার পিতার নাম সোলেমান হোসেন। তিনি সাত মাস আগে বিয়ে করেছিলেন।
তিনি আরো বলেন, ডা. মোবারক গতকালও (বৃহস্পতিবার) প্রো-অ্যাকটিভ হাসপাতালে ছিলেন। দুপুরে একই এলাকার ফেন্ডশিপ হাসপাতালের পরিচালক ডেকে নিয়ে যান। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করতে করতে রাত পার হয়ে যায়, কিন্তু সকাল বেলা একটা মেসেজে বলা হয়, ঐ হাসপাতালের পরিচালকের কক্ষে তার লাশ পাওয়া গেছে। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তারা হাসপাতাল থেকে লাশ উদ্ধার করে।
তিনি অভিযোগ করেন আমাদের মনে হচ্ছে তাকে খুন করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। আমরা এটার বিচার চাই।
অপরদিকে ডাক্তার মোবারক হোসেনের স্ত্রী তাবিনুন নাহার রিতু জানিয়েছেন, বাসায় ফিরতে দেরি হওয়ায় বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে ফোন দিয়েছিলেন। কিন্তু মোবারক হোসেন ফোন ধরেননি। পরে অন্য একটি মোবাইল থেকে ফোন দিলে মোবারক হোসেন তাকে জানান, তিনি একটু ঝামেলায় আছেন। পরে কথা বলবেন। রাত ১১টার দিকে ফোন দিলে মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। গতকাল লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান।
