টুইটারে সম্মানহানির লড়াইয়ে জড়ালেন ট্রাম্প ও ব্লুমবার্গ

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:৩৮

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটির সাবেক মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ একাধারে রাজনীতিক, ব্যবসায়ী ও লেখক। তিনি আগামী নভেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট দলের মনোনয়ন পেতে লড়ছেন। ডেমোক্র্যাট প্রাইমারিতে তিনি অনেকটা পিছিয়ে থাকলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে বিভিন্ন বিজ্ঞাপন ও প্রচারণায় মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার ব্যয় করছেন। তার কৌশল হলো                 ট্রাম্পের সমালোচনা করা এবং তাকে রাগান্বিত করা। তার এই কৌশল সফল হচ্ছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে ট্রাম্পের সঙ্গে তার কথার লড়াই চলছে। গত বৃহস্পতিবার টুইটারে তাদের সম্মানহানির লড়াইটা নতুন মাত্রা পেয়েছে। এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের যুদ্ধের ক্ষমতা  কমাতে সিনেটেও প্রস্তাব পাশ হয়েছে।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক খবরে বলা হয়েছে, ব্লুমবার্গকে আক্রমণ করে ট্রাম্প এক টুইটে বলেছেন, ‘মিনি মাইক হলেন ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার মৃত শক্তির স্তূপ। যিনি কোনো পেশাদার রাজনীতিকের সঙ্গে এক মঞ্চে বিতর্কে অংশ নিতে ইচ্ছুক নন। তিনি পাগলা বার্নি স্যান্ডার্সকে ঘৃণা করেন। অনেক টাকার জোরে হয়তো তিনি তাকে থামাতে পারবেন। আরেক টুইটে তিনি ব্লুমবার্গকে ‘লুজার’ বলে মন্তব্য করেন।

এর জবাবে ব্লুমবার্গ বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ‘একজন কার্নিভাল বার্কিং ক্লাউন’। তিনি বলেন, ‘নিউ ইয়র্কে আমরা এমন অনেক মানুষকে চিনি, যারা আপনার অনুপস্থিতিতে আপনাকে নিয়ে হাসাহাসি করে এবং আপনাকে একজন কার্নিভাল বার্কিং ক্লাউন বলে। তারা আপনাকে বাজে ব্যবসায়ী বলে। আপনাকে হারানোর মতো রেকর্ড ও সম্পদ আমার রয়েছে।’

খবরে বলা হয়েছে, নিউ ইয়র্কের এই দুই ধনী ব্যক্তি দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী। কিন্তু ব্লুমবার্গ ডেমোক্র্যাট দলের প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে নামায় দুই জনের সম্পর্ক যুদ্ধের রূপ নিয়েছে। প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বীদের পরিবর্তে ট্রাম্পকে আক্রমণের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। ডেমোক্র্যাট দলের অন্যান্য প্রার্থী যখন নিজেদের যোগ্য প্রার্থী প্রমাণে বিভিন্ন বিতর্কে অংশ নিচ্ছেন, তখন তিনি ট্রাম্পের সমালোচনায় জোর দিয়েছেন। এখন পর্যন্ত তিনি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে টেলিভিশন বিজ্ঞাপনের জন্য ৮৮ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছেন।

গত সপ্তাহে ব্লুমবার্গকে ট্রাম্প ‘সম্পূর্ণরূপে বর্ণবাদী’ বলে মন্তব্য করেন। কারণ সম্প্রতি ব্লুমবার্গের বর্ণবাদী কথাবার্তার একটি অডিও টেপ প্রকাশ্যে এসেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ব্লুমবার্গ বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমাকে আক্রমণ করে কথা বলছেন। কারণ আমার প্রচারণা শক্তি দেখে তিনি ভয় পাচ্ছেন। ভুল করবেন না মিস্টার প্রেসিডেন্ট, আমি আপনার ভয়ে ভীত নই। আমাকে কেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাউকে আপনি ভয় দেখাতে পারবেন না, সেই সুযোগ আমি দেব না।’

সিনেটেও প্রস্তাব পাশ

বৃহস্পতিবার সিনেটে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের যুদ্ধের ক্ষমতা কমাতে একটি প্রস্তাব পেশ করা হয়। শেষ পর্যন্ত প্রস্তাবটি ৫৫-৪৫ ভোটে পাশ হয়। এর ফলে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধে যেতে পারবেন না। বিস্ময়ের ব্যাপার, প্রস্তাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রিপাবলিকান দলের সিনেটররাও সমর্থন দেন। সমর্থন দেওয়া আট রিপাবলিকান সিনেটর হলেন-টেনেসিসে লামার আলেক্সান্ডার, ইন্ডিয়ানার টড ইয়ং, উটাহের মাইক লি, আলাস্কার লিসা মুরকোয়াস্কি, মেইনের সুসান কলিনস, কেনটাকির র্যান্ড পল, লুইজিয়ানার বিল ক্যাসিডি এবং কানসাসের জেরি মরান।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রস্তাবটি পাশ না করতে সিনেটরদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি বুধবার টুইটারে লিখেছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার অধিকার থাকা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঐ দেশটির ব্যাপারে এখন পর্যন্ত আমরা সঠিক পথে এগিয়ে চলছি। এখন দুর্বলতা প্রকাশ করার সময় নয়।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিলটিতে ভেটো দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত আইন হিসেবে কার্যকর না হলেও ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়বে, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ ইরানের বিরুদ্ধে আকস্মিক যুদ্ধ শুরু করলে সেই দায় একা ট্রাম্পকেই নিতে হবে। নির্বাচনের বছরে জনপ্রতিনিধিদের সতর্কবাণী উপেক্ষা করে তার পক্ষে একতরফাভাবে যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে না। তাছাড়া সংবিধান অনুযায়ী একমাত্র কংগ্রেস যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা রাখে।