১৯৫২ সালে সালাম-বরকত-রফিক-জব্বারের আত্মবলিদানের বিনিময়ে বাঙালি জাতি মাতৃভাষার স্বীকৃতি অর্জন করে। ভাষা আন্দোলনের ফলে আজ সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে বাংলা ভাষার ব্যবহার বাধ্যতামূলক। প্রধানমন্ত্রীও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলায় রায় দেওয়ার জন্য বিচারপতিদের প্রতি আহ্বান জানান। সর্বত্র বাংলা ভাষা ব্যবহারে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকলেও ঔপনিবেশিক মানসিকতায় কিছু চা-বাগানে তা মানা হচ্ছে না। এর মধ্যে রয়েছে—ডানকান ব্রাদার্স লিমিটেড কোম্পানির চা-বাগানগুলো। ভোগান্তির শিকার চা-শ্রমিক অর্চনা গোয়ালা ও সবিতা রিকিয়াশন। সবিতা, অর্চনার মতো চা-শ্রমিকরা প্রতি দিন ২৩ কেজি কাঁচা চা-পাতা উত্তোলনের বিনিময়ে ১০২ টাকা মজুরি পেয়ে থাকেন। বাগান কর্তৃপক্ষের নিয়ম পালনে ব্যত্যয় ঘটলে শ্রমিকদের নোটিশ দেওয়া হয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেই নোটিশের জবাব শ্রমিককে প্রদান করতে হয়। সবিতা, অর্চনার মতো অনেক চা-শ্রমিক জানান, বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে জবাব না দিলে অনেক ভোগান্তিতে পড়তে হয়। শ্রমিকদের কেউ কেউ নাম লিখতে পারেন। অন্যরা টিপসই দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে এর জবাব লিখতে তাদের বাগানের বাইরে শিক্ষিত লোকদের কাছে ধরনা দিতে হয়।
সিলেট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট ইমাদ উল্লাহ শহীদুল ইসলাম শাহীন বলেন, ‘এটি সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে আমি মনে করি।’ বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরী বলেন, ‘চা-বাগানে উচ্চ আদালতের এ আদেশ কার্যকর হওয়া উচিত।’
শমশেরনগর ও আলীনগর চা-বাগান ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। শ্রীমঙ্গল কলকারখানা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ মাহবুবুল হাসান বলেন, ‘বাংলা ভাষা ব্যবহারে আমরা তাদের বলেছি। আশা করা হচ্ছে কিছুদিনের মধ্যে এটি কার্যকর হবে।’
