নারায়ণগঞ্জ বন্দরের শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে গড়ে ওঠা ডকইয়ার্ডগুলোতে কোনো রকম নিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়াই ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন শ্রমিকরা। গত ২৩ জানুয়ারি রাতে একটি ডকইয়ার্ডে নবনির্মিত জাহাজ পানিতে নামানোর সময় জাহাজের নিচে চাপা পড়ে দুই শ্রমিক নিহত হন, আহত হন আরো চার শ্রমিক। এরকম দুর্ঘটনা ডকইয়ার্ডে হরহামেশাই ঘটছে। কিন্তু এর পরও শ্রমিকদের নিরাপত্তার জন্য মালিকদের পক্ষ থেকে কিংবা সরকারিভাবে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন শ্রমিকরা।
নারায়ণগঞ্জ বিআইডব্লিউটিএর দেওয়া তথ্যমতে বন্দর, রূপগঞ্জ, সোনারগাঁ, আড়াইহাজার এবং ফতুল্লায় বৈধ অবৈধ মিলিয়ে ডকইয়ার্ডের সংখ্যা এখন ৭০টিরও বেশি। প্রায় সব ডকইয়ার্ডে কর্মরত লক্ষাধিক শ্রমিকের মধ্যে প্রায় সবাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, শীতলক্ষ্যা নদীর তীর ঘেঁষে মদনগঞ্জ থেকে দক্ষিণ দিকে নবীগঞ্জ পর্যন্ত এবং এর আশপাশের এলাকাতেই রয়েছে ২০ থেকে ২৫টি ডকইয়ার্ড। নিয়ম অনুযায়ী এখানে কাজ করতে আসা প্রত্যেক শ্রমিককেই নিরাপত্তার জন্য হ্যান্ড গ্লাভস, হেলমেট এবং বুটজুতা দেওয়ার কথা থাকলেও তা দিচ্ছে না ডকইয়ার্ড কর্তৃপক্ষ।
বন্দরের উইলসন রোডে অবস্থিত খন্দকার ডকইয়ার্ডে দীর্ঘদিন যাবত্ কাজ করে আতিকুল। তিনি বললেন, ‘আমরা সারাদিন ঝালাইয়ের কাজ করি। এই কাজ করতে গিয়ে আগুনের ছোটো ছোটো ফুলকি গায়ের মধ্যেই পড়ে। এতে শরীরের বিভিন্ন জায়গা পুড়ে যায়। হাতে ফোসকা পড়ে কিন্তু মালিকরা আমাদের গ্লাভস, বুটজুতা, হেলমেট এগুলো কিছুই দেন না।’ ডকইয়ার্ডের আরেক শ্রমিক আমির মোহাম্মদ বলেন, ‘প্রায়ই কারেন্টের তারে পা লেগে গিয়ে আমরা জখম হই। এতে আমাদের মৃত্যুরও আশঙ্কা থাকে কিন্তু আমাদের মালিকরা আমাদের জুতা, হেলমেট দেন না।’ তার মতে, সরকারি লোকজন এসে যদি এই বিষয়গুলো দেখতেন তাহলে মালিকরা ঠিকই এসব প্রয়োজনীয় জিনিস তাদের দিতেন। তখন আর তাদের কোনো সমস্যা হতো না।’ এ বিষয়ে ডকইয়ার্ড কর্তৃপক্ষ কোনো কথা বলতে না চাইলেও নারায়ণগঞ্জ কলকারখানা অধিদপ্তরের লেবার ইন্সপেক্টর মেহেদি হাসান বলেন, ‘আমি ডকইয়ার্ড নিয়ে বহু দিন ধরেই কাজ করছি। বেশ কয়েকটি ডকইয়ার্ডের বিরুদ্ধে আমি আমাদের অফিস থেকে (কলকারখানা অধিদপ্তর) নোটিশ পাঠিয়েছি। ঐ ডকইয়ার্ডগুলোতে শ্রমিকদের কোনো নিরাপত্তা সামগ্রী নেই। আশা করি নোটিশ পড়ে তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’
নারায়ণগঞ্জ কলকারখানা অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক সৌমেন বড়ুয়া বলেন, ‘আসলে এই বিষয়গুলো দেখার জন্য প্রতিটি এলাকায়ই আমাদের লোক আছে। যেসব ডকইয়ার্ডে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নেই সেখানে আমাদের লোকজন পরিদর্শন করে নোটিশ করলে আমরা সেইসব ডকইয়ার্ডের বিরুদ্ধে মামলা করব।’
