গত বছরের ২৫ আগস্ট। সখের বশে বাবার সঙ্গে সাগরে মাছ ধরতে যায় ১৪ বছরের কিশোর ইমরান। পরদিন ভোরে ফেরার পথে বলেশ্বর নদের মোহনায় ঝড়ের কবলে পড়ে সে ট্রলার থেকে ছিটকে যায়। পরে ৩১ আগস্ট ভারতের মাছ ধরার ট্রলারের চালক মনোরঞ্জন দাস তাকে উদ্ধার করে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার রায়দিঘি থানায় পৌঁছে দেয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার শেষে শনিবার বাবা-মায়ের কোলে ফেরে ইমরান।
ইমরান মডেরখাল এলাকার মো. ইসমাইল খানের ছেলে। সে পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
দুঃসাহসিক এই সংগ্রামে কিভাবে টিকে ছিল জানতে কথা হয় ইমরানের সঙ্গে। ইমরান জানায়, ছোটবেলায় পুকুরে লুঙ্গি ফুলিয়ে ভেসে থাকার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাই। ভাসতে ভাসতে ভারতের জলসীমায় ঢুকে পড়লে সেখানকার জেলেরা আমাকে উদ্ধার করে। পরে রায়দিঘি হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা করানো হয়। সেখান থেকে ভোলাহাট নূর আলী মেমোরিয়াল সোসাইটি নামে একটি শিশু যত্ন ও শিশু সুরক্ষা কেন্দ্রে রাখা হয়। দেশে ফেরার আগ পর্যন্ত সেখানেই ছিলাম।
আরও পড়ুন: ‘আমাকে ক্ষমা কোরো মা, আর সইতে পারছি না’
ইমরানের বাবা ইসমাইল জানান, অনেক খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে ছেলেকে পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। গত বছরের ৩১ আগস্ট রাতে পাথরঘাটা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করি। ছেলেকে পেয়ে আমরা খুশি। তাকে দেশে আনতে যারা সহযোগিতা করেছেন তাদের কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, বরগুনা জেলা প্রশাসক, ট্রলার মালিক সমিতি, স্থানীয় সাংবাদিকসহ স্বজনরা ইমরানকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য চেষ্টা করেছেন।
এদিকে জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ জানান, ইমরানের বেঁচে থাকা অলৌকিক। প্রতিবেশী দেশের আন্তরিকতায় সে দেশে ফিরেছে।
ইত্তেফাক/এসি
