খামার চাষ

আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৮:৪৭

 

/ আইয়ুব আহমেদ দুলাল

 

‘ভাই, বিলটা রাখেন।’

‘কী খেয়েছেন?’

‘ওই, রুটি দিয়ে আড্ডিগুড্ডি।’

কাউন্টারে বসা ক্যাশিয়ার ভদ্রলোক হেসে ওঠে বললেন, ‘ও, পা-য়া!’

আমি বললাম, ‘ওটাকে পায়া বলে নাকি? আমি তো ভাবলাম ঠাংয়া।’

গরুর ঠ্যাংয়ের হাড্ডিগুড্ডি দিয়ে পাকানো ঝোলকরা পায়া আমি সাধারণত খাই না, বলা যায় রুচিতে গোছে না। বেশ আগে একবার খেতে গিয়ে ওভাবে কথা হয়েছিল ক্যাশিয়ারের সাথে।

বহুদিন পর সেদিন শুক্রবার, দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশি একটা রেস্তোরাঁয় নাস্তা করতে গেলাম। গিয়ে দেখি অধিকাংশ টেবিলেই লোকজন পায়া দিয়ে রুটি খায়। ভাবলাম, ওটাই চলুক, দেখি কেমন লাগে। বেয়ারাকে ডেকে একটা রুটির সাথে পায়া দিতে বললাম। বেয়ারা আসার পর প্লেটের দিকে খানিকক্ষণ তাকিয়ে থেকে এক টুকরো রুটি ভিজিয়ে মুখে নিলাম। নাহ, স্বাদটা ভালোই, মজাই লাগছিল। হঠাত্ সামনে বসা লোকের দিকে নজর পড়ল। লোকটি হাসছে। আমি একটু বিচলিত হলাম। ভাবলাম, অনভ্যস্ত পায়াখেকো আমাকে দেখে হাসছে কিনা, হয়তো কোনো ভুল হয়েছে। ভালোমতো নিজেকে পরখ করে বামপাশের দেয়ালে সাঁটা আয়নায় নিজের চেহারা দেখে নিলাম। না তো, হাসার মতো তেমন কিছুই খুঁজে পাইনি।

বললাম, ‘ভাই, হাসছেন কেন?’ তার সামনেও পায়া, ভেজানো রুটির টুকরোটা তখনো তার হাতে, মুখে নিতে পারছে না, লোকটি হেসেই যাচ্ছে। আঙুল দিয়ে সামনের দিকে দেখালো। ঘুরে তাকিয়ে দেখলাম আরো কয়েকজন হাসাহাসি করছে, কেউ কেউ লুটিয়ে পড়ছে। হাসতে হাসতে প্লেটে হাত লেগে পায়ার ঝোল একজনের কোলে গড়িয়ে পড়েছে। তবুও তারা হাসছে।

ক্যাশ-কাউন্টারে দাঁড়ানো অল্পবয়সি একটি ছেলে, সম্ভবত নবাগত বিভূঁইয়ে। পাশে বসা লোকের সাথে কথা বলছে। লোকটি বিস্ময়ভরা চোখে বলল, ‘কেন, খামারচাষ বোঝো না? খামারচাষ হলো—যেসব খামার বা জমিতে চাষবাস করা হয় তাকে খামারচাষ বলে।’

ছেলেটি বলল, ‘আরে না, খামারচাষ মানে কত?’

আমি দেখলাম কাউন্টারের সামনে জুব্বা-টোপবিহীন সাধারণ বেশে, গোড়ালি পর্যন্ত লম্বা সুতি কুর্তা পরিহিত একজন সৌদিয়ান দাঁড়িয়ে আছে। দুই-তিনটা টেবিলের ওপাড় থেকে একজন বলল, ‘পঞ্চাশ’।

তখনই বুঝতে পারলাম কাহিনিটা কি। আসলে ওটা খামারচাষ হবে না, পঞ্চাশও হবে না। ওটা হবে পনেরো। মানে, লোকটার বিল হয়েছে পনের রিয়াল, আরবিতে যাকে বলে খামাসতাশ।