আমাদের জীবনে চলতে অনেক জিনিসকেই আপন করে নেওয়া হয়। তবে কিছু জিনিস আছে যা অনেক বেশি প্রিয় হলেও কিছু কিছু মহূর্তে সেসবকে একেবারে উটকো ঝামেলা মনে হয়। অনেকটা ‘কাজের বেলায় কাজি, কাজ ফুরালে পাজি’ টাইপের। আর তেমন কয়েকটি পাজি জিনিসের কথা লিখেছেন হেলাল নিরব
শীতের পোশাক
শীতের জ্যাকেট অথবা সোয়েটার নিয়ে সমস্যায় পরেননি এমন লোক খুঁজে পাওয়া ভার। প্রচণ্ড শীত থেকে বাঁচতে শীতের সব পোশাক গায়ে চড়িয়ে বাইরে বের হলেন আর বাইরে বের হয়ে দেখলেন একেবারে ঝকমকে রোদ! কম শীতের বিষয়টা আপনাকে সাময়িক আনন্দ দিলেও পরক্ষণেই আপনি চিন্তায় পড়বেন আপনার সোয়েটারের হিল্লে করা নিয়ে। তাই কখনো ব্যাগে অথবা হাতে ঝুলিয়ে আপনার বাকিটা পথ পার করতে হবে। আবার আপনি অনেক বেশি আত্মসমালোচক হলে নিজেকে এমন পোশাক এনে বোকার মতো কাজ করার জন্য মনে মনে নিজেকে দিবেন বকা। এমনও হতে পারে পরের দিন আপনি পোশাক না নিয়ে বের হয়ে পড়বেন প্রচণ্ড শীতের দাপটে! আর তখন আপনি মেনে নিতে বাধ্য হবেন, শীতের পোশাক কাজের সময় কাজি, কাজ ফুরালে পাজি।
ছাতা
বৃষ্টি হলে এই অসাধারণ কার্যকরী বস্তুটির প্রয়োজনীয়তা বোঝা যায়। তবে এই বস্তুর ক্ষেত্রে আপনাকে মানতেই হবে—এরা কাজের সময় কাজি আর কাজ ফুরালে পাজি। জরিপ (অঘোষিত) বলছে, পৃথিবীর প্রায় সবাই তার জীবদ্দশায় একটা হলেও ছাতা হারিয়েছে। আর এর প্রধান কারণ এটাকে ব্যবহারের পর উটকো ঝামেলা মনে করা। বৃষ্টি বা রোদে প্রয়োজন না হলে এটাকে বহন করতে প্রায় সবাই কোনো না কোনো সময় বিরক্ত থেকে মহা বিরক্ত হয়েছেন। আর এর ফলস্বরূপ বাসের সিটে, অফিসের চেয়ারে অথবা চায়ের দোকানের টুলে স্থান হয়েছে আপনার অতি প্রয়োজনীয় এই বস্তুটির।
টিস্যু
এই পণ্যটির প্রাণ থাকলে মনে হয় এরাই সবথেকে বেশি ছ্যাকা খেতো! কেননা নরম গালে লেপ্টে লেপ্টে অন্যকে পরিষ্কার করে নিজে যখন সব ভালোবাসা দিয়ে কালো হয়ে যায়—তখন মানুষ তাকে একেবারে নির্দয়ভাবে দুমড়ে-মুচড়ে ছুঁড়ে ফেলে ডাস্টবিনে। আবার কিন্তু কিছু অকোয়াড সিচ্যুয়েশনে নিজেকে পরিষ্কার করতে টিস্যু ছাড়া আপনি চলতেই পারবেন না। তবে ব্যবহার করে সেই টিস্যু পকেটে রেখে নিজেকে বোকার পরিচয় দিবেন বলেও মনে হয় না। তাই আপনি অবশ্যই একমত হবেন যে, টিস্যু কাজের সময় কাজি হলেও কাজ ফুরালে অবশ্যই পাজি।
হাতপাখা
বিদ্যুতের যুগে হাতপাখার কদর বোঝার এমনিতেই কেউ নাই। তবে গরমে হাসফাঁস করার সময় যখন আপনার ঘরের উন্নত ফ্যানটাকে ঠেলেও নাড়ানো যাবে না, তখন আপনাকে অনেকটা শান্তি দিবে এই বস্তুটি। কিন্তু বিদ্যুিবহীন সময়ে যখন আপনি পাখাটাকে এপাশ-ওপাশ করে শান্তিতে ‘আহ! বাঁচলাম’ বলবেন, ঠিক তখন যদি ফ্যানটা পাক খেয়ে উঠে আর সেই দৃশ্য আপনার চোখে পড়ে ঠিক তখনই আপনার হাতে থাকা বস্তুটি ছুঁড়ে মারতে সময় নিবেন না। আর এক্ষেত্রেও বলতে যে কোনো রাখঢাক নেই— হাতপাখা কাজের সময় কাজি আর কাজ ফুরালে অসম্ভব পাজি!
সিগারেট
চুমু খাওয়া ছাড়া ঠোঁট সব থেকে বেশি আদর করে কাছে টানে একমাত্র এই নিষিদ্ধ বস্তুটিকেই। তবে এর প্রয়োজন শেষ হলে অকৃতজ্ঞ মানুষ বস্তুটিকে পায়ে পিষে ফেলতে ভুল করে না। অতি সচেতন কেউ আবার কখনো তাকে পানিতে চুবিয়ে ছুঁড়ে ফেলে বহুদূর! তবে মজার বিষয় হলো, ছুঁড়ে ফেলার শেষ মুহূর্তে এরাই সবথেকে কাজের হয়ে দাঁড়ায় মানুষের কাছে। তাই আপনি অবশ্যই এটা মানবেন যে, অত্যন্ত বাজে আর নিষিদ্ধ এবং অতিপ্রয়োজনীয় এই বস্তুটি কোনোপ্রকার সন্দেহ ছাড়া ‘কাজের সময় কাজি, কাজ ফুরালে পাজি’।
