বরিশালের আগৈলঝাড়ায় সেচ সংকটের কারণে অনাবাদি রয়েছে ফসলি জমি। জরুরিভাবে অভ্যন্তরীণ খালগুলো পুনঃখননের দাবি জানিয়েছেন কৃষকেরা। চলতি বোরো মৌসুমে চাষ করা জমিতেও প্রত্যাশিত ফলন না হওয়ার আশঙ্কায় চাষিরা।
উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে কৃষি অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি), স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন (পিআইও) অফিস থেকে দুই যুগ আগে খাল খননের প্রকল্প গ্রহণ করে তা দাখিল করা হলেও আজও ঐ প্রকল্প লাল ফিতায় বন্দি রয়েছে।
সূত্র জানায়, দাখিলকৃত প্রকল্পের মধ্যে উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নে মোট ২২ কিলোমিটার খালের মধ্যে রয়েছে বাশাইল গ্রামের মতিউর রহমানের স-মিল থেকে ছোট বাশাইল-গোয়াইল-ছোট ডুমুরিয়া পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার, একই এলাকায় কামাল সরদারের বাড়ি থেকে হায়াতুল্লাহ ফলিয়ার বাড়ি পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার, দক্ষিণ বাহাদুরপুর থেকে মাগুরা ছাদেক ব্যাপারীর বাড়ি পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার, বাহাদুরপুর রেজি. প্রা. বিদ্যালয় থেকে বটু বকুলার বাড়ি পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার, রামানন্দেরআঁক স্কুল থেকে ক্লাববাড়ি পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার, বাশাইল খন্দকারবাড়ির ব্রিজ থেকে চেংগুটিয়া ঢালীবাড়ি মসজিদ পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার, রাজিহার জোড়া ব্রিজ থেকে কুমারভাঙ্গা পর্যন্ত ৩ কিলোমিটারসহ ২২ কিলোমিটার খাল খনন জরুরি হয়ে পড়েছে। বাকাল ইউনিয়নে শুকিয়ে যাওয়া খালের পরিমাণ ১৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে ১ নম্বর ব্রিজ থেকে আদাবাড়ি পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার, কোদালধোয়া থেকে বড়মগরা পর্যন্ত ২ কিলোমিটার, কোদালধোয়া থেকে ফেনাবাড়ি পর্যন্ত ২ কিলোমিটার, কোদালধোয়া শিমুলবাড়ি পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার, বাকাল ১ নম্বর ব্রিজ থেকে কোদালধোয়া পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার, বাকাল হাট থেকে আমবাড়ি পর্যন্ত ২ কিলোমিটার এবং রাজিহার বাজার থেকে বাকাল হাট পর্যন্ত ৪ কিলোমিটারসহ ১৭ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। গৈলা ইউনিয়নে ফুলশ্রী ডাক্তারখানা থেকে উত্তর শিহিপাশা হয়ে কুমারভাঙ্গা পর্যন্ত সাড়ে ৩ কিলোমিটার, নিমতলা থেকে টেমার হয়ে সেরাল হাইস্কুল পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার, গৈলার আবুল হোসেন লাল্টুর বাড়ির ব্রিজ থেকে গুপ্তেরহাট পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার, রথখোলা থেকে ভদ্রপাড়া পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার, রশিদ ফকিরের ব্রিজ থেকে রামের বাজার পর্যন্ত ২ কিলোমিটার, পতিহার জুরান সরকারের বাড়ি থেকে কারিকরপাড়া পর্যন্ত ১ কিলোমিটার, কালুরপাড় থেকে রামের বাজার পর্যন্ত ২ কিলোমিটার এবং কালুপাড়া গেট থেকে আস্কর বলভ বাড়ি পর্যন্ত ৫ কিলোমিটারসহ মোট ২২ কিলোমিটার।
রত্নপুর ইউনিয়নের মিশ্রিপাড়া বাজার থেকে চাউকাঠি পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার, মোহনকাঠি কলেজ থেকে থানেশ্বরকাঠি পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার, বরিয়ালী ওয়াপদা থেকে মোলাপাড়া-ত্রিমুখী-বারপাইকা-দুশমী পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার, কাঠিরা-দুশমী থেকে দক্ষিণে উজিরপুর সীমানা পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার, ছয়গ্রাম তালুকদারবাড়ি থেকে ডাক্তারবাড়ি পর্যন্ত ২ কিলোমিটার এবং ঐচারমাঠ থেকে কাঠিরা পর্যন্ত ৩ কিলোমিটারসহ ২৫ কিলোমিটার খালে পানি সরবরাহ না থাকায় পুনঃখনন দরকার। সংশ্লিষ্ট কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় চলতি বছর ২৬ হাজার কৃষক পরিবারের মাধ্যমে ৯ হাজার ৬৪৭ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফসল উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪৩ হাজার ৩১৩ মেট্রিকটন চাল। রাজিহার গ্রামের কৃষক সত্য রঞ্জন হালদার জানান, তার এলাকার মতো অনেক ইরি ব্লকের জমি এ বছর পানির অভাবে চাষ করতে পারছেন না কৃষকেরা। তার ওপর ধানের বাজারমূল্য কম থাকায়ও জমি চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষক। অন্যদিকে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য খালে দেওয়া বাঁধের কারণেও পানির প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। উন্নয়নকাজ শেষ হলেও খালে দেওয়া বাঁধ ঠিকাদার অপসারণ না করায় জোয়ারের সময়ও খালে পানি পাচ্ছেন না কৃষকেরা।
উপজেলা কৃষি অফিসার নাসির উদ্দিন জানান, সেচের জন্য উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে ২৭টি প্রকল্পের আওতায় ৮৬ কিলোমিটার খাল খননের প্রকল্প দাখিল করা হয়েছে অন্তত দুই যুগ আগে; কিন্তু কৃষকের জন্য পানি সেচের কোনো ব্যবস্থা আজও বাস্তবায়িত হয়নি।
