চ্যাম্পিয়নস লিগে সিটির নিষেধাজ্ঞা
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রিমিয়ার লিগ শিরোপাধারী ম্যানচেস্টার সিটি উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছে, পেয়েছে ৩ কোটি ইউরোর জরিমানার আদেশও। ক্লাব লাইসেন্সিং ও উয়েফার ফিন্যান্সিয়াল ফেয়ারপ্লে নীতি ‘গুরুতরভাবে লঙ্ঘন’ করাতেই এই নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছে দলটি। তবে শিগিগরই এ সিদ্ধান্তের বিপরীতে আপিল করবে বলে জানিয়েছে সিটি কর্তৃপক্ষ।
সিটির এমন দুর্দিন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে টটেনহ্যাম হটস্পার ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সামনে। এতে সামনের মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগ খেলার দারুণ সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, জানালেন স্পার্স কোচ হোসে মরিনহো।
ক্লাব ফিন্যান্সিয়াল কন্ট্রোল বডি জানাচ্ছে, ২০১২ সাল থেকে ২০১৬ পর্যন্ত ক্লাবের আর্থিক তথ্য গোপন করেছে ক্লাবটি। পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া অর্থের ব্যাপারেও অতিরঞ্জনের অভিযোগ উঠেছে ক্লাবটির বিপক্ষে। ইউরোপীয় ক্লাবগুলোর আর্থিক বিষয়াদি তদারক করা উয়েফার এই ইউনিট জানাচ্ছে, এ ব্যাপারে তদন্তেও সহায়তা করেনি সিটি। এরই কারণে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা আর জরিমানার খড়্গ নেমে এসেছে দলটির ওপর। তবে সিটির দুর্দশা এখানেই শেষ নয়। প্রিমিয়ার লিগের ফিন্যান্সিয়াল ফেয়ারপ্লে নীতিও প্রায় উয়েফার আদলেই গড়া। ফলে একই কারণে ইংলিশ লিগের চলমান মৌসুমে দলটির পয়েন্ট কাটা যেতে পারে। তবে সিটির নারী দল এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসবে না।
সিটি কর্তৃপক্ষ এমন কিছুর প্রমাদ গুনছিল আগে থেকেই। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ক্লাবের দেওয়া বিবৃতিতে তেমনটাই উঠে এসেছে। ক্লাবটি জানিয়েছে, এই ‘অনিষ্টকর’ সিদ্ধান্তে হতাশ হলেও তারা মোটেও এতে বিস্মিত নয়। এ সিদ্ধান্তের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতেও আপিল করবে বলে জানিয়েছে তারা।
সিদ্ধান্তটা আসার আগেই টটেনহ্যাম কোচ হোসে মরিনহো জানিয়েছিলেন, সেরা চারে থেকে আগামী মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগ খেলাও নিশ্চিত করতে চায় তার দল। অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘প্রথমত মানুষ যা ভাবে, তার চেয়েও বেশি ক্লাব দেখছি আমি। কখনো কখনো এমনটা মনে হয়, কারণ চেলসি চতুর্থ স্থানে আছে এবং কখনো টটেনহ্যাম পাঁচে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ষষ্ঠ স্থানে আছে। আমরা সুযোগের সুবাস পাচ্ছি।’ তিনি আরো যোগ করেন, ‘আমি মনে করি, মানুষ ভুলে যায় যে এখানে আরো বড়ো প্রতিযোগীরা আছে। উলভস, শেফিল্ড ইউনাইটেড, ম্যান ইউনাইটেড এমনকি আর্সেনালও। ব্যাপারটা শুধু আমাদের আর চেলসির ব্যবধান কেমন তাই নয়।’
পাঁচ দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা সেরা চারের শেষ জায়গাটা পাওয়া নিয়ে হলেও সিটির চ্যাম্পিয়নস লিগ নিষেধাজ্ঞার ফলে জায়গার সংখ্যাটা দুইয়ে উন্নীত হলো। ফলে সিটি যদি চলতি মৌসুমে সেরা চারে থেকে শেষ করে, তবে কোনোক্রমে শীর্ষ পাঁচে থাকলেই আগামী মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগের টিকিট নিশ্চিত হয়ে যাবে প্রিমিয়ার লিগের দলগুলোর। প্রেষণা হারিয়ে ফেলা সিটি সেরা চারের বাইরে হলে তো আর কোনো কথাই নেই!
