সামনের দিনগুলিতে অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে পড়িতে পারে বাংলাদেশ। ইহাই বিশেষজ্ঞদের ধারণা। অধিকন্তু ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’-এর মতো বিশ্বব্যাপী নামিয়া আসিয়াছে করোনো ভাইরাসের আতঙ্ক। ইহাতে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হইবার সম্ভাবনা দেখা দিয়াছে। পাশাপাশি আছে জনশক্তি রপ্তানিতে মন্দা, যাহা বাংলাদেশের জন্য আরো একটি বড়ো অশনিসংকেত। কারণ বাংলাদেশের প্রধান আয়ের অন্যতম উত্স বৈদেশিক কর্মসংস্থান তথা জনসংখ্যা রপ্তানি। জানা গিয়াছে, জনশক্তি রপ্তানির তিনটি বড়ো বাজারের মধ্যে দুইটি কার্যত বন্ধ হইয়া আছে। মালয়েশিয়া বাংলাদেশের একটি অন্যতম বাজার। সেইখানে শ্রম রপ্তানি বন্ধ রহিয়াছে গত ১৬ মাস ধরিয়া। শীঘ্রই এই বাজার খুলিবার কোনো সম্ভাবনাও দেখা যাইতেছে না। অন্যদিকে যে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিভিন্ন সময়ে ২৩ লক্ষ মানুষ বিভিন্ন কাজ লইয়া গিয়াছেন, সেই আরব আমিরাতেও জনসংখ্যা রপ্তানি প্রায় স্তিমিত। যে সৌদি আরবে বাংলাদেশ হইতে লক্ষ লক্ষ মানুষ গিয়াছে, সেই বাজারেও এখন লোক প্রেরণ অনেক কমিয়া গিয়াছে এবং প্রতি মাসেই সেইখানে কর্মরত শ্রমিকেরা ফিরিয়া আসিতেছে। অপরদিকে এই ঘনবসতিপূর্ণ দেশে এখনো কর্মসংস্থানের নূতন ক্ষেত্র তৈরি করা যায় নাই। তদুপরি নূতন শ্রমবাজারের সন্ধানও আপতত নাই।
অন্যদিকে দেশের আমদানি-রপ্তানি কমিয়াছে। বিশেষ করিয়া চিনে করোনা ভাইরাস সমস্যা দেখা দেওয়ার পর হইতে চিন আমদানি বন্ধ করিয়া রাখায় বাংলাদেশের বিশাল অঙ্কের কাঁকড়া ও কুঁচিয়া রপ্তানি বন্ধ হইয়া আছে। কবে সেই বাজারে আবার রপ্তানি চালু হইবে, তাহা নির্দিষ্ট করিয়া বলা যাইতেছে না। গার্মেন্ট বাজারেও কোনো সুখবর নাই। বাংলাদেশে যে পোশাক তৈরি হইয়া থাকে, তাহার কাপড় আসে প্রধানত চিন হইতে। সেই কাপড় আমদানি বন্ধ রহিয়াছে। ভবিষ্যতে ঐ কাপড়ে তৈরি পোশাক পশ্চিমা ক্রেতারা গ্রহণ করিতে চাহিবে কি না—তাহা লইয়াও শঙ্কা রহিয়াছে। একইভাবে চামড়াশিল্প, মসলার আমদানি হইতে শুরু করিয়া মশারি বা মাস্কের ব্যবসায় পর্যন্ত প্রভাব পড়িতেছে। এই সকলকিছু মিলাইয়া গোটা অর্থনীতিতেই একটা চাপ আসিবার সম্ভাবনা যে আছে, তাহা অস্বীকার করিবার উপায় নাই।
আমরা আশা করি, করোনাজনিত অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়া যাইবে; কিন্তু ইতোমধ্যে যে ধাক্কা লাগিয়াছে, তাহা হইতে উত্তরণে বেগ পাইতে হইবে, যদি সুস্থভাবে সবকিছু ম্যানেজ না করা হয়। কেবল করোনাজনিত সংকটই নহে, রহিয়াছে অন্যান্য খাতে মন্দাবস্থা, যাহার বেশির ভাগই শুরু হইয়াছে ২০১৮ সালের শেষ দিক হইতে। তাই আমরা বারবার বলিতেছি, গোটা অর্থনীতি লইয়া আমাদের পরিকল্পনা করিয়া আগাইতে হইবে। প্রতিটি ক্ষেত্রে সুস্থ ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন হইবে। অর্থনীতির সহিত সংশ্লিষ্টদের সর্বদাই নূতন বাজার সৃষ্টির একটি দায়িত্ব রহিয়াছে। সেই দায়কে বেগবান করিতে সর্বদা সচেষ্ট থাকিতে হইবে।
