গার্মেন্টস এক্সেসরিজ খাতে দেড় হাজার কোটি টাকা ক্ষতির আশঙ্কা

আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:২০

চীনে করোনা ভাইরাসের কারণে সেখান থেকে পণ্য পাঠানোর প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে। ফলে উদ্বেগ বাড়ছে চীনের পণ্যনির্ভর বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে। গার্মেন্টস পণ্যের এক্সেসরিজ খাতের কাঁচামালের অর্ধেকই আসে চীন থেকে। ৭০০ কোটি মার্কিন ডলারের রপ্তানির এ খাতের উদ্যোক্তারা আশঙ্কা করছেন, এ সমস্যার কারণে দেশটি থেকে এক্সেসরিজের কাঁচামালসহ অন্যান্য পণ্য আসার ক্ষেত্রে দুই থেকে তিন মাস দেরি হলে উদ্যোক্তাদের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা থেকে দেড় হাজার কোটি টাকা। এরই মধ্যে কিছু প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। মজুদে টান পড়ায় স্থানীয় বাজারে এ খাতের কিছু কাঁচামালের দাম এরই মধ্যে বেড়ে গেছে।

গতকাল শনিবার রাজধানীর কাওরানবাজারে একটি হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এ আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস এক্সেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফেকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএপিএমইএ) নেতারা। চীনের করোনা ভাইরাসে বাংলাদেশের এ খাতের ওপর প্রতিক্রিয়া জানতে ঐ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ পরিস্থিতিতে লোকসান কমানোর স্বার্থে বাংলাদেশ ব্যাংক, শুল্ক ও বন্দর কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পণ্য ছাড়করণে উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষতির শিকার কারখানা মালিকদের বাংলাদেশ ব্যাংকের তহবিল থেকে বিনা সুদে কিংবা নামমাত্র সুদে ঋণ দেওয়ার দাবিও জানানো হয়। 

সংবাদ সম্মেলনে বিজিএপিএমইএর সভাপতি আব্দুল কাদের খান বলেন, করোনা ভাইরাস সৃষ্ট সংকট আরো তিন চার মাস দীর্ঘায়িত হলে এবং এ কারণে পণ্য পাঠানো সম্ভব না হলে এ খাতের সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা।

সংবাদ সম্মেলনে বিজিএপিএমইএর সাবেক সভাপতি রাফেজ আলম চৌধুরী বলেন, এই সংকট দুই মাসের বেশি দীর্ঘায়িত হলে গার্মেন্টসের ২৫ শতাংশ রপ্তানি ব্যাহত হতে পারে। তিনি বলেন, সাধারণত উদ্যোক্তাদের কাছে থাকা মজুদ পণ্য দেড় থেকে দু্ই মাস সরবরাহ করা যাবে। হঠাত্ করেই বিকল্প ব্যবস্থা থেকে নেওয়া এত সহজ হবে না। কারণ যেসব বিকল্প রয়েছে, তারাও কোনো না কোনোভাবে চীন থেকে আমদানি করেই পণ্য তৈরি করে। এরই মধ্যে স্থানীয় বাজারে কিছু পণ্যের দাম  প্রায় দশগুণ বেড়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য বন্দর থেকে পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে কিছু ব্যতিক্রমী প্রক্রিয়া গ্রহণের মাধ্যমে সহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয় গার্মেন্টস এক্সেসরিজ পণ্য উত্পাদনকারীদের দাবি, ৩৫ ধরনের এক্সেসরিজ উত্পাদনের মাধ্যমে দেশীয় চাহিদার ৯৫ শতাংশই  পূরণ করা হয়। এসব এক্সেসরিজের কাঁচামালের বেশির ভাগই চীন থেকে আসে।