বগুড়ায় স্ত্রীকে শায়েস্তা করতে বন্ধুকে দিয়ে ধর্ষণ ও মারধর করে শরীরে দাহ্য পদার্থ ঢেলে অগ্নিসংযোগ করার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার শহরের চকলোকমান এলাকার জনৈক বাবুর বাড়ির ভাড়াটে রফিকুলের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত গৃহবধূকে (২৮) উদ্ধার করে বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শাজাহানপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আমবার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার সংবাদ পেয়ে তিনি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যান। ভিকটিমের কাছ থেকে সব জানার পর আরো বিস্তারিত বলা যাবে।
ওই গৃহবধূ ও তার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ১০ বছর আগে গাবতলী উপজেলার মালিয়ানডাঙ্গা গ্রামের তোজাম্মেলের ছেলে রফিকুল ইসলামের সঙ্গে বগুড়া শহরের চকলোকমান নিবাসী ওই নারীর বিয়ে হয়। তাদের আট বছর বয়সি একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে তাদের দাম্পত্য কলহ চলছিল। এর জের ধরে স্ত্রীকে শায়েস্তা করতে গতকাল বেলা ১১টার দিকে স্বামী রফিকুল ইসলাম ও অজ্ঞাতনামা তার এক বন্ধু চকলোকমানের ভাড়া বাসার প্রাচীর টপকিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর রফিকুল তার স্ত্রীকে ধর্ষণের হুকুম দেয়। তারা দুজন মিলে গৃহবধূর হাত বেঁধে ফেলে এবং মুখে স্কচটেপ আটকে দেয়, যাতে তিনি চিত্কার করতে না পারেন। এরপর রফিকুলের বন্ধু গৃহবধূকে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর তার শরীরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত এবং চুল কেটে দেওয়া হয়। পরে তার শরীরে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে তারা পালিয়ে যায়। গৃহবধূর চিত্কারে আশপাশের মানুষ ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে চিকিত্সার জন্য বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়।
নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর মামা আনোয়ার হোসেন জানান, তার ভাগ্নি জামাই রফিকুল এক বন্ধুকে নিয়ে এসে ওই কাজটি করে। বেশ কিছুদিন ধরে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ লেগে ছিল। ভাগ্নিকে ধর্ষণ করার পরে তাকে পুড়িয়ে মারতেই শরীরে আগুন দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, ধারালো অস্ত্র দিয়ে সারা শরীর খোঁচানো হয়েছে এবং কিছু চুলও কেটে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর থেকে রফিকুল ও তার বন্ধু পলাতক।
বগুড়া শহরের ছিলিমপুর (মেডিক্যাল) পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আবদুল আজিজ মণ্ডল জানান, আহত গৃহবধূ তার স্বামী ও বন্ধু কর্তৃক নির্যাতন ও অগ্নিসংযোগের বিষয়টি জানিয়েছেন। বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সনাতন চক্রবর্তী শনিবার সন্ধ্যায় গৃহবধূকে মারধর ও দাহ্য পদার্থ দিয়ে গায়ে আগুন দেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেছেন, বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করছে।
শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে গতকাল বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চেষ্টা করেও নির্যাতিত গৃহবধূর সঙ্গে দেখা করা যায়নি। কারণ হাসপাতালে সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
